বেবিচক : নিয়োগ বদলি পদোন্নতি বাণিজ্য: আবার রাজনৈতিক ট্যাগ, আইনিভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি

একুশে বার্তা ডেক্স : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য এবং সহকর্মীদের নানাভাবে নাজেহাল করার দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ‘বিক্ষুব্ধ’ কর্মচারীদের অভিযোগের পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে বেবিচক সূত্র জানায়। তবে এখান থেকে ফসকা গেরো খুলে পড়ে গেছে মানব সম্পদ থেকে সদ্য বিদায়ী পরিচালক নূরুল ইসলাম। তাকে এফএসআরে বদলি করা হয়েছে।ডিডি রাশিদাকে পাবনার ঈশ্বরদিতে বদলির ২ মাস পরও যোগদান না করায় তার বেতনভাতা বন্ধ করে দিচ্ছে বেবিচক কর্তৃপক্ষ।কোটায় নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে প্রত্যাহারের দাবি ওঠছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক নারি উপদেষ্টা ডিডি রাশিদার জন্য বেবিচক চেয়ারম্যানকে ফোন করলেও কাজে আসেনি।
বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ বদলি পদায়ন পদোন্নতির নায়করা হলেন—নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক রাশিদা সুলতানা, ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগের উপপরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন এবং বেবিচক সদর দফতরের উপপরিচালক (পিএস টু চেয়ারম্যান) সোহেল কামরুজ্জামান।
আওয়ামী দোসর, আওয়ামীলীগ আমলে দেড় বছর আগে চাকরি হওয়া শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত প্রকিউরমেন্ট অফিসার শাহিন মিয়া। এই শাহিন মিয়া সরকার পরিবর্তনের পর বোল পাল্টে নিজেকে বিএনপি জাহির করছেন, কাজ দেবার নামে ৫-৬ ঠিকাদারের থেকে নগদ নারায়ন হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ, চাকরি দেবার নাম করে, কর্মচারি বদলি, চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়ে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর পিএস এডি তিরান হোসেন, এও নাসির-মোমেন, কেরানি রোকন এখনও প্রশাসনে বসে চাকরি করছেন, এদেরকে বদলি করা হচ্ছে না।
রাশিদা সুলতানাকে গত ১৫ আগস্ট পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে বদলি করা হলেও তিনি এখনও সেখানে যোগদান করেননি। এমতাবস্থায় তার বেতন বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে। বেবিচক সদর দফতরের উপপরিচালক (পিএস টু চেয়ারম্যান) সোহেল কামরুজ্জামানকে ১১ আগস্ট ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনসে বদলি করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে বেবিচক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেবিচকে এই কর্মকর্তারা অবৈধ প্রভাব খাটাতেন। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিতে একচ্ছত্র প্রাধান্য ছিল তাদের। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা কামানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। রাশিদা সুলতানার দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেছেন কর্মচারীরা। গত ১৮ আগস্ট এক মানব বন্ধনে এই কর্মকর্তাদের ‘দুর্নীতিবাজ-দানব’ উল্লেখ করে তাদের তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান তারা।
কর্মচারীরা দাবি করেন এই কর্মকর্তারা বেবিচকের নানা টেন্ডারবাজির সঙ্গেও জড়িত। তারা অনেকের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রমোশন আটকানোর কাজ করতেন। তাদের নানা কাজে মদদ দিতেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোকাম্মেল হোসেন। তার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় কর্মচারিরা।
বেবিচকের একটি সূত্র জানায়, কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে, অন্যদের বদলির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এই কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বদলি বাণিজ্য করেছেন। যাকে যেখানে খুশি বদলি করেছেন, প্রমোশন আটকে রেখেছেন, বিদেশে যেতে বাধা দিয়েছেন। তাদের কথামতো কাজ না করলেই বিএনপি-জামায়াতসহ দলীয় ট্যাগ দিয়ে অফিসিয়াল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতেন। কর্মকর্তাদের অনেকেই আবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হলেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।র্
কর্মচারিরা অভিযোগ করেন, সাধারণ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনেক কর্মচারী তাদের নিপীড়নের শিকার। তাদের বদলি নয়, অপসারণ করতে হবে। নতুবা তারা বেবিচকে থেকে আবারও নানা ষড়যন্ত্র করতে পারে।
যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তারা বলে বেড়াচ্ছেন, ‘যারা আমাদের দুর্নীতিবাজ বলছে তাদের ইতিহাস কী? আমরা কোনোভাবেই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না।’
এদের মধ্যে গত সরকারের আমলে বদলিকৃতরা নানা অজুহাতে বদলিকৃত জায়গায় যোগদান করেননি। যারা নিজেকে আওয়ামী লীগ দাবি করেছিল, এখন তারাই বিএনপি সেজে আন্দোলন করেছে, আবার রাজনৈতিক ট্যাগ লাগাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আইনিভাবে মোকাবিলা করার কথা ভাবছেন।