দুর্নীতির দায়ে বাবা জেলখাটা-ভাই চাকরিচ্যুত্য : সিভিল এভিয়েশন : শিক্ষা সনদ জালিয়াতির তদন্ত আলোরমুখ দেখছে না : পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলী সেলিম- এনামুল : কোর্ট কনডেম্প মামলায় চেয়ারম্যানকে আদালতে হাজিরের আদেশ

বিশেষ সংবাদদাতা : দুর্নীতির দায়ে বাবা জেল খেটেছেন আর আপন বড় ভাই চাকরিচ্যুত্য হয়েছেন। তাদেরই আপনজন বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনে প্রকৌশল (ইএম) শাখায় কর্মরত প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান সেলিম এবং তার আপন ভাই এনামুল হকের শিক্ষা সনদ জালজালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত আলোরমুখ দেখছে না। যদিও সিএএবির চেয়ারম্যান মহোদয় বিষয়টি তদন্তের জন্য পরিচালক ( প্রশাসন)কে দায়িত্ব প্রদান করেন। পরিচালক প্রশাসনের দপ্তর পর্যন্ত এসে জালজালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত মাঝপথে থেমে গেছে। যশোহর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডকে দাপ্তরিক চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হলেও তা আর কার্যকর করা হয়নি। ববং উল্টো জালজালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্তকে দিয়ে আরেকটি ফ্রেস সনদ এনে সিএএবির সদর দপ্তরের প্রশাসন শাখায় জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে মাত্র। এ ব্যাপারে কলকাঠি নাড়ছেন ডিডি প্রশাসন।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে প্রকৌশলী সেলিম ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষা সনদেও অভিযোগ থাকলেও সিনিয়রকে ডিংগিয়ে পদোন্নতি দিয়ে উপসহকারি প্রকৌশলী থেকে এনামুলকে সহকারি প্রকৌশলী করা হয়েছে এবং গত ডিপিসিতে সেলিমকেও পদোন্নতির ব্যবস্থা করাার প্রক্রিয়য়া সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী ও ততা¡বধায়ক প্রকৌশলী ( ইএম)এর জোরালো আপত্তির কারণে তা ভেস্তে গেছে। তবে প্রকৌশলী এনামুলকে পদোন্নতি দেয়ায় সিএএরি চেয়ারম্যানকে কোর্ট কন্টটেম্প মামলায় আদালতে স্বশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।
‘জালজালিয়াতির মাধ্যমে এসএসসি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে একই পিতা মো. মোকশেদ আলির অযোগ্য দুই ছেলে একই অফিসে একই এসএই পদে পর পর প্রথম নিয়োগ মো. এনামুল কবীর রেজভী, উপসহকারি প্রকৌশলী, সিভিল এভিয়েশন, জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে যশোরে এবং হাসান মাহমুদ সেলিম, উসহকারি প্রকৌশলী, ইএম শাখা, সিভিল এভিয়েশন, জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকাদ্ধয় যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে জনপ্রতি দুই লক্ষ টাকা করে চার লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ হওয়ায় তাদেরকে অবৈধভাবে প্রাপ্ত চাকুরি হইতে বরখাস্তকরণ প্রসংগে’ শিরোনামে অভিযোগপত্রটি সিএএবির চেয়ারম্যান বরাবর মো. আইয়ুব আলি হাওলাদার করার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তা ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, প্রকৌশলী সেলিম পরিবারের অন্য সদস্যরাও জালজালিয়াতির সাথে জড়িত রয়েছে। বাবা মোকশেদ ১৯৮৬ সালে ভিপি তহশিলদার হিসেবে বরিশালে চাকরি করাকালিন সরকারি টাকা আত্মসাত করার দায়ে চাকরিচ্যুত হয়ে জেল খেটেছেন। সেলিমের বড় ভাই মো. কাহাদৎ হোসেন বিউবো, বাগেরহাট চাকরি করাকালিন সরকারি মালামাল চুরি ও অর্থ আত্মসাত করে ধরা পড়ার পর মামলা হয়, মামলা নম্বর জিআর-১৩৬/২০০২। তারা আসলেই জন্মগতভাবে চরম ক্রিমিলাণ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরো প্রকাশ, এনামুল কবীর ও সেলিম মূলত সুগন্ধিয়া মাধ্যমিক বিদ্যারয়, ঝালকাঠি ও আমিরাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নলছিটি’র নিয়মিত ছাত্র ছিল। সেখান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করার পর অবৈধ ও অনিয়মিতভাবে রাজাপুর থানার কুখ্যাত ক্রিমিনাল আ: মালেক, যিনি বহুবার জেল খেটেছেন, তার সহায়তায় তার স্কুল হতে বানোয়াট ও ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করে জালজালিয়াতির মাধ্যমে সেই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে। সংশ্লিষ্ট স্কুল ও যশোর বোর্ডে যাচাই করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
এ ব্যাপারে প্রকৌশলী সেলিম জানান, আমার বিরুদ্ধে শিক্ষা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।নতুন সনদ তুলে সিএএবির প্রশাসনে জমা দিয়েছি।