পথে পথে পুলিশী লাঠিচার্জ ও সরকারি দলের কর্মীদের বাধা, জুতা মহড়া, সিলেটে পৌছে দুই মাজার জিয়ারত করলেন খালেদা জিয়া

একুশে বার্তা ডেক্স : সিলেটে পৌঁছেই হযরত শাহ জালাল (র:) ও হযরত শাহ পরাণের (র:) মাজার শরীফ জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরআগে সিলেট যাওয়ার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানান। তারা সড়কের বিভিন্ন অংশে অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দেন। সড়কের দুই পাশে পুলিশের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো ছিল। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে এসে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাছাড়া কোথাও কোথাও পুলিশ ও সরকারি দলের কর্মীদের বাধার সম্মুখীনও হতে হয়েছে তাদের।  খালেদা জিয়ার যাত্রাপথের নারায়াণগঞ্জ, নরসিংদী,  কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

দেখা গেছে, পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে জুতা দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা নিলুর কর্মী ও সমর্থকরা। অপরদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে আসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে ধাওয়া করেন। নরসিংদী ভেলানগর মোড়ে এই ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের ৬০ থেকে ৭০ জন নেতাকর্মীরা নিলু স্লোগান ধরেন এবং  সবাই হাতে জুতা নিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখান।

সোমবার সকাল ৯ টায় ১৬ মিনিটে গুলশানের নিজ বাসভবন (ফিরোজা) থেকে সিলেটর উদ্দেশ্য রওনা হন খালেদা জিয়া। বিকেল সাড়ে৪ টায় বিএনপি চেয়ারপারসন সিলেট সার্কেট হাউজে পৌঁছান। পরে বিকেল সাড়ে ৫ টায় শাহ জালালের (র:) মাজার জিয়ারত করতে সার্কেট হাউজ থেকে বের হন তিনি। সন্ধ্যা ৬ টায় শাহ জালালের (র:) মাজারে পৌঁছান বেগম জিয়া। তিনি সেখানে ৪০ মিনিট অবস্থান করে মাগরিব ও নফল নামাজ পড়েন এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। খালেদা জিয়া নিজেই মোনাজাত করেন।

এসময় বেগম জিয়ার পাশে ছিলেন, বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস অালীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদিরর লুনা, বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ ও হেলেন জেরিন খান। এছাড়া তিনি শাহ জালালের মাজার জিয়ারত করে রাত ৭ টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহ পরাণের (র:) মাজারে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। সেখানে ২৫ মিনিট অপেক্ষা ও মোনাজাত শেষে সিলেট সার্কেট উদ্দেশ্য রওয়ানা হন তিনি। আজ রাতেই বেগম জিয়া সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তবে সিলেটে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি। খালেদা জিয়া সার্কেট হাউজে পৌঁছালে হাজার হাজা  নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শাহ জালাল ও শাহ পরাণে মাজারের যাওয়ার পথেও রাস্তায় দুই পাশে হাজার হাজার বিএনপির ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেসটুন নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনেক স্বাগত জানান।

এদিকে সিলেটর উদ্দেশ্য যাত্রাপথে নরসিংদী শিবপুরে বেগম জিয়াকে স্বাগত জানাতে আসা রাস্তার পাশে দাঁড়ানো বিএনপির নেতাকর্মীদেরর ওপর লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এছাড়া কিশোরগঞ্জ ভৈরব, কমলপুর বাসস্ট্যান্ড, ভৈরব নদী ঘাট, সরাই, বিবাড়িয়া, হবিগঞ্জ মুক্তিমুদ্ধা চত্বর, নয়াপাড়া, রতনপুর, শাহপুর, শাহাজীবাজার, শায়েস্তাগঞ্জ, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, মৌলভিবাজার দলটির নেতাকর্মীরা সাবেক দলের চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানাতে রাস্তায় দুই পাশে সমবেত হন। এসময় তারা হাতে ব্যাপনার ও ফেসটুন নিয়ে স্লোগানে মুখরিত করে তুলেন আশ- পাশের এলাকা। ‘আমার নেত্রী আমার মা বন্দি হতে দেবো না’- নারায়ণগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত এই স্লোগানেই খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে,  খালেদার সফরকে কেন্দ্র করে  গুলশান ১, তেঁজগাও, কাকরাইল, নয়াপল্টন, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, গাউছিয়া, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া, মৌলভিবাজার এ সিলেটের মোড়সহ বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের যাত্রাপথে রাজধানীর গুলশান ১ হয়ে তেঁজগাও, কাকরাইল, নয়াপল্টন, মতিঝিল ও যাত্রবাড়ি হয়ে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশেরর সময় রাস্তায় কোন নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। এসময় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তৃতীয় তলা থেকে শুধু মাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম দলের চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানান। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আশে-পাশে এসময় আর কোন দলীয় নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি।

এদিকে গাড়ি বহর রাজধানীতে তেমনি যানযটে না পড়লেও বেগম জিয়ার নিজের বাসভবন ফিরোজা থেকে যানজটের কারণে গুলশান- ১ আসতে ৩০ মিনিটেও অধিক সময় লাগে।

খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গি হিসাবে ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

খালেদা জিয়া সর্বশেষ সিলেটে গেছেন ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর। সে সময় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

গত ৩১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সিলেটে হয়রত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করে জনসভায় যোগ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।