স্টাফ রিপোর্টার : দুই মাস কারাবন্দি থাকার পর বেরিয়ে বিএসএমএমইউতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর কারাগারে ফেরত গেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগার থেকে বের করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে।
গত ৮ মার্চ জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আদালত পাঁচ বছর কারাদণ্ডের রায় দেওয়ার পর এই কারাগারেই রয়েছেন তিনি।
পুলিশের কালো রঙের একটি গাড়িতে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারাগার থেকে বের করা হয় খালেদাকে। বহরের সামনে-পেছনে ছিল র্যাবের পাহারা।
সাড়ে ১১টার কিছু সময় পরই বিএসএমএমএইতে পৌঁছালে গাড়ি থেকে হোঁটেই নামেন সাদার উপর কালো প্রিন্টের সুতি শাড়ি পরা খালেদা জিয়া। ৭৩ বছর বয়সী খালেদা লিফটেও ওঠেন হেঁটে।
খালেদা জিয়া কেবিনে যাওয়ার পর চারজন চিকিৎসক অধ্যাপক এম আলী, ফয়েজুর রহমান, এস এম সিদ্দিক ও মো. মামুনকে নিয়ে সেখানে যান বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, এরা সেই বোর্ডের সদস্য নন। ডা. মামুন বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক।
বিএসএমএমইউর কর্মকর্তারা জানান, খালেদা জিয়ার এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়। প্যাথলজি বিভাগ থেকেও হেঁটে হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে যান তিনি।
দুই ঘণ্টা পর বেলা দেড়টার দিকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে কারাগারের পথে রওনা হয় একই গাড়ি; আগের মতোই পাহারা নিয়ে। পৌনে ২টার দিকে নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারে ঢোকে গাড়িটি।
খালেদার জন্য যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান। বোর্ডে সদস্য রয়েছেন ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।
এই মেডিকেল বোর্ড গত সপ্তাহে কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে এসে জানিয়েছিল, তার অসুস্থতা গুরুতর নয়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা আগে জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র, চোখ ও হাঁটুর সমস্যা রয়েছে। সেজন্য তাকে নিয়মিত নানা রকম ওষুধ খেতে হয়।
অসুস্থতার খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বিএনপি খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে তার চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছিল। খালেদা বন্দি হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাকে দেখতে চাইলেও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি পায়নি।
গত ৮ এপ্রিল কারাবন্দি হওয়ার পর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাকে দেখতে চাইলেও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি পায়নি।
