বিমানে ৩ স্থাপনার ক্লিনিং টেন্ডার : পরিচালক প্রশাসন অন্ধকারে : টেন্ডারের শর্ত লংঘন করে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভুয়া সনদে টেন্ডারে অংশ নেয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়ায় প্রক্রিয়া চুড়ান্ত! কলকাঠি নাড়ছেন এস্টেট ম্যানেজার জনাব আলি

বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ বিমানের ৩ স্থাপনার ক্লিনিং কাজে ৭ বার টেন্ডার হওয়ার পর এবারও টেন্ডারের শর্ত লংঘন করে পরিচালক প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে, ভুল বুঝিয়ে ভুয়া সনদে টেন্ডারে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর তা আমলে নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে টেন্ডারে অংশ নেয়া ৫ সিন্ডিকেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘ক্রাউন প্রপার্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট লি:’ বা ‘রাতুল এন্টারপ্রাইজ’কে তড়িগড়ি করে কার্যাদেশ দেয়ায় প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে সিপিসি-৩ কমিটির বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদন দেয়া হয়েছে, মেনুজ হবে, এর পরই কার্যাদেশ দেয়া হবে। টেন্ডার সিডিউল শর্ত লংঘন করে শতকরা ১০ ভাগ লেস/এভাব দিয়েও কার্যাদেশ দেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কলকাঠি নাড়ছেন বিমানের একজন পরিচালক, একজন জিএম এবং এস্টেট ম্যানেজার। ইতোমধ্যেই অভিযোগকারি ঠিকাদারকে ওই পরিচালকের দপ্তরে ডেকে নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের নেপথ্য কাহিনী জানতে চেয়েছেন এবং প্রতিবেদন বন্ধ করার জন্য কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিমানের তিন স্থাপনা- শাহজালাল বিমানবন্দরে অবস্থিত মহাব্যবস্থাপক এয়ারপোর্ট সার্ভিসের অফিসসমুহ, শাহজালাল আভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ভবনে বিমানের অফিসসমুহ এবং বিমান অপারেশন ভবন পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতার ক্লিনিং কাজের টেন্ডার ৭ বার হবার পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি আবার নতুন করে টেন্ডার আহবান করে বিমান কর্তৃপক্ষ। টেন্ডারে ৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এরমধ্যে বিমানের নীতিমালা অনুসারে ‘মেসার্স গাজী এন্ড ব্রাদাস‘ সর্বনি¤œ দরদাতা হয়। টেন্ডার সিডিউলে ১৪ লাখ টাকার ক্লিনিং কাজের এক বা একাধিক কার্যাদেশ থাকতে হবে এবং এ কাজে ৩ বছরের অভিঙ্ঘতা থাকতে হবে-–এমন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়।। কিন্ত ৫ সিন্ডিকেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভুয়া অভিঙ্ঘতার সনদ দিয়ে টেন্ডারে অংশ নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুয়া অভিঙ্ঘতার সনদ দিয়ে টেন্ডারে অংশ নেয়ার ব্যাপারে জিএম পূর্ত বরাবর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তা আমলে নিয়ে ডিজিএম ( মানব সম্পদ) কামাল উদ্দিনকে প্রধান করে ম্যনেজার দীপক বাবু, জনাব আলি এবং সম্পত্তি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটি তদন্ত করে একটি মনগড়া অস্বচ্ছ তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিপিসি-৩ কমিটির বৈঠকে ভুয়া সনদে টেন্ডারে অংশ নেয়া ৫ সিন্ডিকেডের মধ্যে ‘ক্রাউন প্রপার্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট’ অথবা ‘মেসার্স রাতুল এন্টারপ্রাইজ’কে কার্যাদেশ দেয়ায় বিষয়টি চুড়ান্ত করেছে। সিপিসি-৩ কমিটির সভাপতি পরিচালক প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে, অন্ধকারে রেখে এর সাথে জড়িত চাটুকাররা জিএম পূর্তের ধর্মপুত্র বলে বিমানে চাউড় হওয়া সেই কাশেমের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রাতুল এন্টারপ্রাইজ’ অথবা সিভিল এভিয়েশনের ‘শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্লিনিং কাজে’ ভুয়া সনদে টেন্ডারে অংশ নেয়ার ব্যাপারে অভিযোগের পর সিএএবির গঠিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনে ভুয়া সনদে টেন্ডারে অংশ নেয়ায় বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হওয়া সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্রাউন প্রপার্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট’কে কার্যাদেশ দেয়া হচ্ছে।
এর আগেও ভুয়া সনদে ‘মেসার্স রাতুল এন্টারপ্রাইজ’কে বিমানের বনানীর সেলস অফিসের ক্লিনিং কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়। এ ব্যাপারে কলকাঠি নাড়েন একজন জিএম। এ ব্যাপারে অভিযোগ করার পরও তা আমলে নেয়নি বিমান কর্তৃপক্ষ।
বিমানের ৩ স্থাপনায় ক্লিনিং কাজে ৭ বার টেন্ডার, ভুয়া সনদে টেন্ডারে অংশ নেয়া- এ সব বিষয়ে জিএম (পূর্ত) আজিজুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে কমিটি করে দেয়া হয়েছে। অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কার্যাদেশ দেয়া হবে।