একুশে বার্তা রিপোর্ট : ঢাকা থেকে দুবাই যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের বিজি-১৪৭ উড়োজাহাজ ময়ুরপঙ্খী ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় উড়োজাহাজটির পাইলট চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করলে ওই ছিনতাই চেষ্টাকারী দুই জন ক্রুকে অস্ত্রের মুখে পণবন্দি করে। উড়োজাহাজটির অন্য যাত্রী এবং পাইলট ক্রুরা নিরাপদে নেমে আসেন। সর্বশেষ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই ছিনতাই চেষ্টাকারী অস্ত্রধারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা আটক করে বলে জানানো হয়, পরে সে মারা যায়, তার নাম মাহদী। এর ফলে ৪ ঘন্টার নাটকীয়তার অবসান হলে বিমান বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে থাকে।
সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন ওঠেছে, বিমানবন্দরের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে অস্ত্রসহ কিভাবে ছিনতাইকারি বিমানবন্দরের ভিতরে প্রবেশ করে বিমানে ওঠে গেল।
রোববার বিকেল সাড়ে চারটায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে বাংলাদেশ বিমানের বহরে নতুন সংযোজিত হওয়া উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খী ১৪২ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশ রওনা দেয়। আকাশে ওড়ার পরপরই উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয় বলে তথ্য মিলেছে।
বিমান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই যাত্রীদের আসনে থাকা এক ব্যক্তি নিজের আসন ছেড়ে ককপিটের দিকে এগিয়ে গিয়ে এক ক্রু’র কাছে গিয়ে ধাক্কা দেন। এসময় ওই যাত্রী একটি পিস্তল ও বোমাসদৃশ বস্তু বের করে বিমানটি ছিনতাই করার কথা জানান। এসময় তিনি ককপিট না খুললে বিমান উড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দেন। ঘটনার আকস্মিকতায় অন্য কেবিন ক্রুরা ককপিটে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটের কাছে উড়োজাহাজে অস্ত্রধারী আছে এবং ছিনতাইয়ের চেষ্টা হচ্ছে মর্মে গোপনে সাংকেতিক বার্তা দেন।
সূত্র জানিয়েছে, সাংকেতিক বার্তা পাবার পর পাইলট মো. শফি ও সহকারী পাইলট মো. জাহাঙ্গীর ককপিটের দরজা বন্ধ করে দেন এবং কৌশলে চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করেন। উড়োজাহাজ অবতরণের পর চারটি জরুরি গেট খুলে দিলে যাত্রীরা নেমে পড়েন। ইত্যবসরে ওই অস্ত্রধারী ফ্লাইট স্টুয়ার্ট সাগরকে আটকে রাখে বলে সূত্র জানায়।
ওই বিমানের একজন যাত্রী জানিয়েছেন, উড়োজাহাজের ভেতরে একজন যাত্রীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তিনি বিদেশি। ভেতরে একটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। কেউ একজন তাতে আহত হতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণের পর পরই বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য বিজি-১৪৭ উড়োজাহাজটি ঘিরে ফেলে এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। এসময় বিমানবন্দর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিমানটি চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণের পর প্রত্যক্ষদর্শী এক গাড়ির চালক বলেন, আমি দেখছিলাম আমার বস এসেছে কিনা। দেখলাম, ইমার্জেন্সি গেট খোলা। ভাবছিলাম কোনো আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে। এরপর দেখলাম, ইমার্জেন্সির ওখান দিয়ে যাত্রীরা লাফিয়ে লাফিয়ে বের হয়ে আসছেন। ভেতর থেকে শোনা গেল যে, ওরা স্যুট করেছে।
ওই উড়োজাহাজে থাকা সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন থান বাদল একটি বেসরকারী টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, পাইলট আমার সঙ্গে এসেছে। সে বলেছে, তাকে পারসু করার চেষ্টা করেছে হাইজ্যাকার, বলছে সে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চায়।
এ দিকে ৪ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি ৮ মিনিটের সেনা কমান্ডে শেষ হয় বলে জানান চট্রগ্রামের জিওসি। অভিযানে ছিনতাইকারি মাহদী নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেন।
বিমানের জরুরি অবতরণের পর পরই সিভিল এভিয়েশন সচিব মহিবুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিমানের সব যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হলেও দু’জন ক্রু ও সন্দেহভাজন ভেতরে আছে। তিনি কমান্ডো অভিযানেরও তথ্য দেন।
এদিকে সর্বশেষ রোববার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, আর্মড পুলিশসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উড়োজাহাজটির ভিতর তল্লাশী অভিযান শুরু করে। রাত পৌণে ৮টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক অস্ত্রধারীকে বের করে আনা হয়েছে বলে বিমান বন্দর সূত্র জানিয়েছে। পরে সেনাবাহিনীর পক্ষ হতে এক ব্রিফিংয়ে ওই আহত ছিনতাই চেষ্টাকারী নিহত হবার খবর দেয়া হয় বলে সুত্র জানায়।
সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান সিএএবির সদর দপ্তরে গতরাতে (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, ‘ বর্তমান বিমানবন্দরের যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাতে অস্ত্র বহন করে ভিতরে প্রবেশ সম্ভব নয, ভেতরের কেউ সরবরাহ করে থাকতে পারে।’
