বেবিচক : একটিং চীফ ইনজিনিয়ার শহিদুল আফরোজকে সাবেক আইনমন্ত্রীর আত্মীয় বলে প্রচার, রাজনৈতিক ট্যাগ লাগানোর পায়তারা

স্টাফ রিপোর্টার : আবারও বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল আফরোজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সাবেক আইনমন্ত্রীর আত্মীয় বলে প্রচার করা হচ্ছে। ঠিক আইনমন্ত্রী যে দিন গ্রেফতার হন তার পরের দিনই তাকে ( আফরোজ) নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আত্মীয় বলে একটি গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়। হেড লাইন করা হয় ‘দুদক আইনে বরখাস্তকৃত বেবিচক প্রধান প্রকৌশলী’। তাকে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগানোর পায়তারা করা হচ্ছে। কিন্ত প্রধান প্রকৌশলী দাবি করেন সাবেক আইনমন্ত্রী তার আত্মীয় নন।
বেবিচকের একটি ঠিকাদারি কাজের একটি চেকে সই করার অপরাধে দুদক মামলায় জড়িয়ে সাড়ে ৪ মাস জেল খাটেন। পরে জামিনে মুক্ত হন। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পর ট্রাইব্যুনাল তার বরখাস্ত প্রত্যাহার করার আদেশ দেন। সে প্রেক্ষিতে বেবিচক কর্তৃপক্ষ জন প্রশাসন, আইন মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তার বরখাস্ত প্রত্যাহার করে বেবিচকে যোগদানের সুযোগ করে দেয়। গত ২৩ জুন ২০২৩ তিনি বেবিচকে যোগদান করেন। তিনি সিনিয়র প্রকৌশলী এবং কাজের পারফরমেন্স ভাল হওয়ায় তাকে গত জানুয়ারীতে একটিং প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়া হয়। সে থেকে সততা ও দক্ষতার সাথে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্ত তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দুদকের মামলায় বরখাস্ত, সাবেক আইনমন্ত্রীর আত্মীয় বলে অপপ্রচার করে তাকে একটিং চীফ ইনজিনিয়ারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তার সাথে একই প্রক্রিয়ায় বরখাস্ত আদেশ বেবিচক প্রত্যাহার করায় অন্যরাও বেবিচকে চাকরি করছেন।
দুদকের মামলা চলমান, বিচার শেষে যে সাজা হবে তা আসামিরা মেনে নেবেন- এটা আইনি প্রক্রিয়া, এর ব্যত্যয় হবার সুযোগ নেই। কিন্ত মামলা চলমান অবস্থায় আইনি প্রক্রিয়ায় বেবিচকের বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করায় আসামিরা চাকরি করছেন।
বেবিচকে চেয়ারম্যান বদলি হলেও মেম্বাররা এখনও বহাল : বেবিচকে চেয়ারম্যান বদলি হলেও গত সরকারের ঘনিষ্ট ৪ মেম্বার এখনও বহাল। এর মধ্যে একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জিল্লুর রহমানের আত্মীয়। এরা চেয়ারম্যানকে মিসগাইড করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলেও শোনা যায়। আওয়ামী ঘরানার শমী কায়সারের বিমানবন্দরে ২টি লাউন্ঞ নবায়ন, আওয়ামী ঘরানার অন্যদের লাউন্ঞ নবায়ন করার প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক ট্যাগে পদোন্নতি বন্ঞিতদের পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না। ৬০জন এডিসহ অন্যরা দীর্ঘদিন যাবত পদোন্নতি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।এদের পদোন্নতির ব্যাপারে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, মেম্বাররা চেয়ারম্যানকে সহয়োগিতা করছেন না বলেও শোনা যায়। বেবিচক প্রশাসন ঢেলে সাজাতে হলে গত সরকারের ঘনিষ্ঠদের বেবিচক থেকে বদলি জরুরী বলে অনেকে মনে করেন।
পরিচালক মানব সম্পদ কি ব্লাকবল পদে বসেছেন? বেবিচকে নতুন পদ ‘ মানব সম্পদ’ সৃষ্টি করে ডিডি নূরুল ইসলামে এ পদে বসানো হয়েছে। এ পদের বাইরে কোথাও তাকে বদলি করা হচ্ছে না। এ পদের বাইরে নাকি কোথাও তাকে বলি করার সুযোগ নেই, তা হলে কি ব্লাকবল পদে তাকে বসানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট গায়েব করার কথা শোনা যায়। তার ফাইল তলব করলেই এর বাস্তবতা মিলবে। তাকে তর তর করে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। তাকে ডিডি থেকে পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে অডিট আপত্তির কথাও শোনা যায়। তার ভাগিনা হাকিম স্বর্ন পাচার করার সময় হাতেনাতে ধরা পরেও দিব্যি চাকরি করছেন।আওয়ামীলীগের ঘনিষ্ট এই নূরুল ইসলাম বেবিচক কর্মচারী-কর্মকর্তাদের তোপেরমুখে রাখেন , তারা তার ব্যবহারে অতিষ্ঠ। অতিদ্রুত পরিচালক নূরুল ইসলামকে পরিচালক মানব সম্পদ পদ থেকে বদলি দাবি করছে।
বেবিচকে মানব সম্পদ বিভাগ সৃষ্টি করে সরকারের মাথাভারি প্রশাসন করা হয়েছে। এই বিভাগের জন্য সরকারকে অতিরিক্ত বেতনভাতা দিতে হচ্ছে। বেবিচক সৃষ্টির পর থেকে মানব সম্পদ বিভাগ ছাড়াই কার্যক্রম চলেছে, প্রশাসন বিভাগ কাজ করেছে।