স্টাফ রিপোর্টার : বেবিচকের ১৪ প্রকৌশলীর মধ্যে খালাস পেলেন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইএম শুভাশীষ বড়–য়া। ফেসে গেলেন আরেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইএম জাকারিয়া এবং তত্¦াবধায়ক প্রকৌশলী সিভিল হাবিবুর রহমান। এই ২ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোাগ অনুসন্ধ্যাধীন রয়েছে। দুদক এ ২ জনকে তলব কবরে। আরেক সিভিল ডিভিশনের সহকারি প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ অনুসন্ধ্যাধীণ রয়েছে।
অন্যদিকে ১০ প্রকৌশলীকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে দুদক।
উল্লেখ্য, গত ১৯.৯.২০২৪ তারিখে বেবিচকে কর্মরত ১৪ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকে কোন মামলা/অভিযোগ তদন্তাধীন আছে কিনা জানতে চেয়ে বেবিচক থেকে দুদকে দাপ্তরিক পত্র দেয়া হয়। যার স্মারকনং-০০.০০০০.১৩.১২.০০১.১৭.৯১৮ তারিখ: ১৯.৯.২৪ ।
দুদকের ১ মাস ০৬ দিন তদন্তের পর অবশেষে সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন কর্তৃক স্বাক্ষরিত দাপ্তরিকপত্রে বেবিচককে এ হালনাগাদ তথ্য জানায় দুদক। প্রকৌশলীদের নামের তালিকা প্রস্তুত করেন দুদকের সহকারি পরিচালক মিজানুর রহমান। দাপ্তরিক চিঠির বিষয়বস্তুতে বলা হয়েছে- ‘দুদক কমিশন কর্তৃক তথ্য প্রদান’। দুদকের দাপ্তরিকপত্রের স্মারকনং: ০০.০১.০০০০.১০৩.০৬.০০৪. ২৪..১৩৪০ তারিখ: ২৪.১০.২০২৪।
যেহেতু তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান সিভিল ডিভিশন এবং তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইএম মো. জাকারিয়া হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ অনুসন্ধ্যানাধীন রয়েছে সেহেতু বেবিচক এ্যাক্টে এই ২ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর ডিপিসি হবে না। ফলে এরা ২জন প্রধান প্রকৌশলীর যে রঙিণ স্বপ্ন দেখছেন, এ স্বপ্ন আপাতত ভেস্তে যাচ্ছে। তবে দুদক থেকে যদি ক্লিনটাচ সনদ হয় তবে এদের ডিপিসি হতে পারে।
আওয়ামী দোসর, প্রতারণার মামলায় ২৩ দিন জেল খাটা, শিক্ষা সনদ জালিয়াতির পরও দুদক অভিযোগ থেকে খালাস পেলেন সহকারি প্রকৌশলী ইএম মাহমুদ হাসান সেলিম এবং তার আপন ভাই বেবিচকে ট্রিপল দায়িত্বপ্রাপ্ত, যার সিলেটের কানাইঘাটে বিশাল মৎস খাবার, সিলেটে এয়ারপোর্টের নিকট হিলসাইড এপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান হাসিন আহমেদ থেকে, মধ্যস্থতা করেছেন সিলেট এয়ারপোর্ট ম্যানেজার। অত্যাধুনিক ফ্লাট, ঢাকায় ফ্লাট/প্লট থাকার কথা শোনা গেলেও দুদক তদন্ত থেকে পার পেয়ে গেলেন সহকারি প্রকৌশলী ইএম এনামুল হক। আপন দুইভাই একই স্টেশনে দীর্ঘদিন যাবত চাকরি করেন কিভাবে- বেবিচকের চোখে তা পড়ে না। তাদের বদলির ব্যাপারে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে তালিকা দেয়া হলেও প্রশাসনে গিয়ে স্থবির হয়ে যায়। প্রকৌশলী সেলিম ও তার বউ সরাসরি আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বেবিচক থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। বেবিচক এদেরকে আগলে রেখেছে।
দুদক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া আরেক সহকারি প্রকৌশলী ইএম শাহিনুর আলমকে বার বার বদলি করা হলেও বছরের পর বছর ইএম-১-এর অধীন শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত। তার পদবীও প্রশ্নবিদ্ধ, তার পদবী কি সহকারি প্রকৌশলী ‘ইএম’ না সহকারি প্রকৌশলী ‘ইলেকট্রনিক্স’ । তাকে নিয়োগপত্র দেয়া হয় উপ-সহকারি প্রকৌশলী ইলেকট্রনিক্স পদে। এ পদটিই নাকি বেবিচক অর্গানুগ্রামে নেই। তাহলে এ পদে তাকে কিভাবে নিয়োগ দেয়া হলো?
সফিকুল, আয়েশা, আছালত প্রকল্পের নিয়োগ প্রাপ্ত, প্রকল্প শেষ হলেও তাদের চাকরি শেষ হয়নি। তাদেরকে রাজস্ব খাতে নেয়া হয়েছে, কিন্ত ভুতাপেক্ষ তারিখ থেকে অর্থাৎ সেই ১৯৯৬ সাল তাদের চাকরি কাউন্ট করে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। কিন্ত তারা রাজস্ব খাতে এসেছে ২০১১ সালে।
এ দিকে ইএম এবং সিভিল ডিভিশন মিলে ১৭ প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে। এদের সবার অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে কিন্ত কারো কারো ডবল/ট্রিপল দায়িত্ব বাতিল করা হয়নি। গত ২৩ অক্টোবর বেবিচকের প্রশাসন থেকে এডি তিরান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রঙাপনে এ রদবদল করা হয়।
এই বদলির প্রঙাপনে সহকারি প্রকৌশলী ইএম এনামুল কবীরকে বরিশাল বিমানবন্দরের অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিল করে ইএম-৩ এবং সেমসুর ইএম সংক্রান্ত কাজের জন্য সেমসুতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব আগের বদলির প্রঙাপনেও ছিল এবং নতুন করে বরিশাল এট করা হয়েছিল, এবার বরিশাল কর্তন করা হলো। এ বদলি তার জন্য আইওয়াশ মাত্র।
যশোহর বিমানবন্দরের সহকারি প্রকৌশলী সিডি কাজি বায়েজীদ আহমদকে এবার বরিশাল বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উপসহকারি প্রকৌশলী ইএম মো. আবু নোমানকে ইএম-১ –এ বদলি করা হয়েছে।
এ বদলির তালিকায় স্থান পায়নি সহকারি প্রকৌশলী ইএম মাহমুদ হাসান সেলিম, শাহিনুর আলম, মোমেন মিয়া, সিলেটে কর্মরত ফারুক হোসেন।
বেবিচকের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারির মেয়ের জামাই উপসহকারি প্রকৌশলী থেকে সহকারি প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মোমেন মিয়াকে কিছুদিন আগে যশোহর বিমানবন্দরে বদলি করা হলেও তদবিরের জোরে একমাস পর আবার ইএম-১-এ চলে আসে। এই মোমেন মিয়া গত কয়েকবছরে চাকরি জীবনে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে ঠিকাদাররা বলে বেড়ান। ঘুষ ছাড়া নাকি এই মোমেন মিয়া কাজের প্রাক্কলন ছাড়েন না। তার শ^শুরও নাকি ঠিকাদারি কাজ করে থাকেন।
এ দিকে সহকারি প্রকৌশলী ইএম আবুল হোসেনকে ইএম-২ থেকে ইএম-১-এ বদলি করা হয়েছে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
