একুশে বার্তা রিপোর্ট : রাজনীতিতে সহনীয় অবস্থান ফিরে এসেছে। দুটি বড় দলেরই বোধদয় হয়েছে। বিএনপি ছাড় দিয়েছে। ফলে আজ রাজধানিতে বিএনপি-আ‘লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি থাকেছে না। অথচ দুটি দলই একইদিন অর্থাৎ আজ ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানিতে সবাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে ঢাকা দখলের খেলায় মত্ত হয়েছিল। আ‘লীগ নেতা নাসিম তো ঘোষণাই দিয়েছিলেন ২৯ সেপ্টেম্বর ১৪ দলের দখলে থাকবে ঢাকা। বিএনপি ঘোষণা করেছিল যে কোন মূল্যে বিএনপি ২৯ সেপ্টেম্বর সমাবেশ করবে রাজধানিতে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আ‘লীগ ২৯ সেপ্টেম্বর পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করবে না বলে সেতুমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন। কিন্ত বিএনপি ছাড় দেয়ায় আজ আ‘লীগের সমাবেশ হচ্ছে।
এদিকে ।দুই দফা পিছিয়ে আগামীকাল রোববার রাজধানীতে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ঢাকা মহানগর পুলিশের অনুরোধে শনিবারের বদলে রোববার সমাবেশ করার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। ওই দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মৌখিক আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তবে, ডিএমপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ রাজধানীতে ১৪ দলের কর্মী সমাবেশ হচ্ছে মহানগর নাট্যমঞ্চে। যদিও ১৪ দলের পক্ষ থেকে মাঝে নাগরিক সমাবেশ করার কথা জানানো হয়েছিল।
একই দিন সমাবেশ ডাকায় বিএনপিকে একদিন পিছিয়ে রোববার সমাবেশ করার পরামর্শ দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ। বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চাইলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়- সেদিন কর্মদিবস থাকায় অনুমতি দেয়া যাবে না।
পরে তাদের পরামর্শে ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সরকারি ছুটির দিনে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। তবে, একই দিনে রাজধানীতে সরকারি দলের বড় সভা থাকায় সংঘাতের আশঙ্কায় বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি ডিএমপি। বিএনপির প্রতিনিধি দলকে শনিবার সকালে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে আগামীকাল রোববার সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করার অনুমতি চাইতে বলা হয়।
সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দলের পক্ষ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য ডিএমপিতে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেদিন কর্মদিবস হওয়ায় তারা সমাবেশের অনুমতি দেননি। ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটির দিনে সমাবেশ করার আবেদন করতে বলা হয়। কিন্তু একই দিন আওয়ামী লীগের কর্মসূচি থাকায় হঠাৎ আমাদের জানিয়ে দেয়া হয় এদিন সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। আবার আজ শনিবার সকালে অনুমতির জন্য যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল সকালে অনুমতির জন্য দেখা করবে। আশা করি কাল রোববার সমাবেশ করার জন্য আমরা অনুমতি পাব। আমরা সমাবেশের সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এদিকে, রোববারের সমাবেশ থেকে বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পরিষ্কার বার্তা দেবে বলে জানা গেছে। সমাবেশে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের চিন্তা ও অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে দলটি। সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি যেমন দাবি জানানো হবে তেমনি জাতীয় ঐক্যে আগ্রহী দলগুলোর জন্যও বার্তা থাকবে। ইতিমধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সমাবেশ থেকে আগামী দিনের করণীয় নিয়ে নীতি নির্ধারণী বার্তা দেয়া হবে। অন্যদিকে, বিএনপির ব্যানারে সমাবেশ আয়োজন করা হলেও ২০ দলীয় জোটের শরীক দলগুলোসহ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দলগুলোকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই লক্ষ্যে গত ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গত কয়েকদিন ধরে বলে আসছেন- সমাবেশের পর থেকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচি দেয়া শুরু হবে। সমাবেশ থেকে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রাম ও কর্মসূচির বিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দেয়া হবে।
