শাহজালালে আনসার সদস্য- ইউএস বাংলার কেবিন ক্রু বাকবিতন্ডা : প্যান্ট খুলে চেক, অবশেষে আটক , মুচলেকা দিয়ে ছাড়

একুশে বার্তা রিপোর্ট : শাহজালাল আন্তজাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মী ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একজন সিনিয়র কেবিন ক্রু‘র ভুল বোঝাবুঝি ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা কর্মীদের অভিযোগ সিকিউরিটি চেকিংয়ে বেল্ট খুলতে বলায় ওই কেবিন ক্রু পরণের জামা-কাপন খুলে ফেলেন। অপর দিকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু বলেছেন, তিনি প্যান্ট খোলেননি। তার পরণে এয়ারলাইন্সের ইউনিফরমের ভিতর থ্রি কোয়াটার প্যান্ট ছিল। আর্চওয়েতে বেল্ট খোলার পরও ধাতব বস্তু থাকার শব্দ হচ্ছিল। তখন আনসার সদস্যদের কেবিন ক্রু জানান, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্টের বাটনের কারণে শব্দ হতে পারে। তখন আনসার সদস্যরা তাকে প্যান্ট খুলে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট দেখাতে বলেন। এ কারণেই তিনি প্যান্ট খুলে দেখিয়েছেন।এ নিয়ে আনসার সদস্য ও কেবিন ক্রুর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একজন প্রত্যক্ষ দর্শী জানান, কথা কাটাকাটির এক  পর্যায় নিরাপত্তা কর্মী অই কেবিন ক্রু কে জামা কাপর খোলার অভিযোগ দেখিয়ে তাকে আটক  করে।

বুধবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে প্রি-বোর্ডিং চেকিং গেটে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ওই কেবিন ক্রু‘র নাম মো. শাহফিকুর রহমান। তিনি বিমান সংস্থাটির অনেক সিনিয়র কেবিন ক্রু। এই ঘটনায় বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটির সদস্যরা তাদের আটক করলেও পরে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয় ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ। বিমান সংস্থাটির সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজার কামরুল ইসলাম জানান, মুলত ঘটনাটি একটি বুল বোঝাবুঝির ফসল। তাছাড়া ওই কেবিন ক্রু অনেক সিনিয়র। তার পক্ষে এধরনের কোন আচরণ করা রহস্যজনক। তারপরও বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখবেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বুধবার নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কেবিন ক্রুদের প্রশিক্ষণের জন্য বিমানবন্দরে নিয়ে আসে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ। ১৯ জন কেবিন ক্রু (অভজার্ভার) প্রথমে যথাযথ নিরাপত্তা তল্লাশি ছাড়াই প্রি-বোর্ডিং চেকিং গেট অতিক্রম করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ডেকে পুনরায় তল্লাশির মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশের অনুরোধ জানান। তবে কেবিন ক্রু (অভজার্ভার) সদস্যরা বিমানবন্দরে প্রবেশের কোনও অনুমোদিত কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তাকর্মীরা বিমানবন্দরের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তা অবহিত করেন। একইসঙ্গে তাদের ওই স্থান থেকে সরিয়ে দেন।

বুধবার সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে প্রি-বোর্ডিং চেকিং গেটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের সিনিয়র কেবিন ক্রু মো. শাহফিকুর রহমানকে (আইডি-১৭০০) আর্চওয়ের মাধ্যমে প্রবেশের অনুরোধ জানান দায়িত্বরত আনসার সদস্য। নিয়মমাফিক মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, কোট, ঘড়ি, জুতা খুলে এক্স-রে মেশিনে স্ক্রিনিংয়ের জন্য ট্রেতে রাখেন তিনি। তাকে কোমরের বেল্ট খুলে ট্রেতে রাখতে বলা হয়। তখনই উত্তেজিত হয়ে শাহফিকুর রহমান জামা ও প্যান্ট খুলে ফেলেন! পরবর্তী সময়ে তাকে এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করতে না দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেবিন ক্রু মো. শাহফিকুর রহমানকে এভসেক কন্ট্রোল রুমে আনা হয়।

এ প্রসঙ্গে শাহজালাল বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনও অনুমতি ছাড়াই শিক্ষানবীশ ক্রুদের বিমানবন্দরে নিয়ে এসেছিল ইউএস-বাংলা। তাদের মধ্যে একজন তল্লাশির সময় অসদাচারণ করেছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন  একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল কে বলেন, ওই কেবিন ক্রু’র প্যান্টের ভেতর আরেকটি থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ছিল। আর্চওয়েতে বেল্ট খোলার পরও ধাতব বস্তু থাকার শব্দ হচ্ছিল। তখন আনসার সদস্যদের তিনি জানান, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্টের বাটনের কারণে শব্দ হতে পারে। তখন আনসার সদস্যরা তাকে প্যান্ট খুলে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট দেখাতে বলেন। এ কারণেই তিনি প্যান্ট খুলে দেখিয়েছেন।’

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের মন্তব্য, ‘আনসার সদস্যদের আচরণে আমাদের কেবিন ক্রু বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন, তখন রাগ দেখিয়ে তিনি কিছু কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রতিনিধি ও এভসেকের প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তারা এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’

বিমানবন্দরে কেবিন ক্রুদের প্রবেশের বিষয়ে ইউএস-বাংলার এমডির দাবি, ‘কেবিন ক্রুদের প্রবেশে আলাদাভাবে অনুমতি লাগে না। তাদের পোশাক ও আইডি কার্ড সঙ্গে থাকলেই হয়। আগেও কখন অনুমতির প্রয়োজন হয়নি।’