স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে আছেন আওয়ামী দোসরারা। গত ১৭ বছর, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস এমনকি বিএনপি সরকারের ২ মাসের শাসনামলেও এই আওয়ামী দোসরদের টিকিটিও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। উল্টো আওয়ামী দোসরাই পুরো বেবিচকে রামরাজত্ব করছেন। মন্ত্রণালয় এদের ব্যাপারে খোজখবর রাখলেও এখনও বদলির তালিকায় এদেরকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।
এরাই আবারও আওয়ামী দোসরদের পদোন্নতি প্রদানের পায়তারা করছে। যদিও ডিডি পদে এদের পদোন্নতি পাবার বা দেবার বেবিচক আইনের এখতিয়ার । ইতিপূর্বে এরা এডি পদে পদোন্নতি না নিয়ে সরাসরি ডিডি পদে পদোন্নতির পায়তারা করেছিল, কিন্ত আটকে দেন সাবেক সদস্য প্রশাসন মিজানুর রহমান। কিন্ত এরপরও এদেরকে চলতি দায়িত্ব দিয়ে ডিডির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর আগে বহুবার ডিপিসি করে এদের ডিডি পদে পদোন্নতি দেয়ার প্রক্রিয়া করা হয়েছে কিন্ত মন্ত্রণালয় বার বার তা আটকে দিয়েছে।
এবার আবার কলকাঠি নাড়া হচ্ছে। এই আওয়ামী দোসরদের মধ্যে একজন এক্স ছাত্রলীগ ক্যাডারকে ডিডি পদে পদোন্নতি দেয়াও হয়েছে। তিনি পদোন্নতির আগে যে চেয়ারে ছিলেন বদলির পরও সেই চেয়ারেই বর্তমান। আওয়ামী দোসর বাকি ৫ জনকেও পদোন্নতি দেয়ার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।
আর এ নিয়েই গত ৩১ মার্চ অনেকটা গোপনে ডিপিসি বৈঠক করা হয়েছে বলে বেবিচক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তবে বিমান সচিব বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
উক্ত বৈঠকে আওয়ামী দোসর আনোয়ার হোসেন, ওয়াহিদুজ্জামানসহ অন্যদের ডিডি পদে পদোন্নতি দেয়ার আলোকপাত করা হয়েছে। বেবিচক প্রশাসনের কি-পয়েন্টে বসে থাকা কর্তাব্যক্তিসহ কমিটির কয়েক মেম্বার অতি উৎসাহি হয়ে এ বৈঠকের আয়োজন করেছেন বলে সূত্রে জানা যায়।
যাদেরকে ডিডি পদে পদোন্নতি দেয়ার ডিপিসি বৈঠক- এদেরকে ৬ দানব আখ্যায়িত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বৈষম্য বিরোধী বেবিচক কর্মচারিরা ব্যানারসহ মিছিল সমাবেশ করেছে। কিন্ত এদের দাবি এখন আমলে নেয়া হয়নি।
খোজখবর নিয়ে জানা যায়, ৬ দানবখ্যাত আওয়ামী দোসর বেবিচকের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসনসহ অন্যদের ডিডি পদে পদোন্নতি দেবার জন্যই এ বৈঠকের আয়োজন। বেবিচকের কর্মচারীরা এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, এই আওয়ামী দোসরদের ডিডি পদে পদোন্নতি দেয়া হলে তারা আবারও আন্দোলনে যাবেন বলে তারা জানান।
যাদেরকে ঘিরে ডিপিসি– কে এই আনোয়ার-ওয়াহিদুজ্জামান : ডিপিসি বৈঠকে আনোয়ার হোসেনকে উপ-পরিচালক (ডিডি) পদে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আনোয়ার হোসেনের বাড়ি নড়াইলে। আনোয়ার রাজশাহী প্রকৌশল বিশ^ বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন।
ওয়াহিদুজ্জামানের বাড়ি ফরিদপুরে। তার আপন বড় ভাই খুলনা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তার অবৈধ প্রভাব সিভিল এভিয়েশনে প্রয়োগ করেছেন। এদের অত্যাচারে বিএনপি ট্যাগ দিয়ে অনেক যোগ্য অফিসারদের বছরের পর বছর প্রমোশন দেয়া হয়নি। অনেককে মন্ত্রণালয়ে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হুমায়রা ম্যাডাম ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন এরা দুজন আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ কর্মী। এই দুজনের কারণে গত ১৫ বছর বিএনপির অনেক লোকজন নির্যাতিত হয়েছিল। প্রমোশন বোর্ডে সচিব নাকি চুপচাপ ছিলেন। এই দুজনের পদোন্নতির আদেশ বের হলে বেবিচক কর্মচারিরা আবারও আন্দোলনের ডাক দিতে পারে বলে জানা যায়।
বেবিচকে অবৈধভাবে পলিনকে লাইব্রেবিয়ান থেকে পদে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পাবার ব্যাপারে এই আনোয়ার হোসেন কলকাঠি নেড়েছন, বেবিচক প্রশাসনকে মিসগাইড করে মন্ত্রণালয়কে অন্ধকারে রেখে পলিনের পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন। বেবিচকে চাউড় হয়েছে এই পলিন- আনোয়ার মধুর সম্পর্ক। পলিনের পদোন্নতি বাগিয়ে নিলেও এই দুজনের পদোন্নতি বাগিয়ে নেয়ার বিষয়টি ধরে ফেলেন তৎকালিন সদস্য প্রশাসন মিজানুর রহমান। মন্ত্রণালয়ের ফাইলআপ হবার অগেই তিনি তা কেটেছেটে দেন। ফলে ওই যাত্রায় আনোয়ার-ওয়াহিদের পদোন্নতিতে বাগড়া পড়ে। কিন্ত তারা থেমে নেই, এবার আবার পদোন্নতির কলকাঠি নাড়ছেন। কিন্ত এদের ষোলকলা পূর্ণ হবে কি?
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
