একুশে বার্তা প্রতিবেদন : যে এয়ারওয়েজের বিমান দুর্ঘটনা- সেই এয়ারওয়েজই তদন্ত করছে। এতে তদন্ত কাজে পক্ষপাতিত্ব করা হতে পারে বলে মনে করছেন এভিয়েশন দক্ষরা। অতচ তাই হচ্ছে শাহজালালে। বিমানের চাকা ফেটেছে থাই এয়ারওয়েজের- তদন্তও করছে থাই এয়ারওয়েঝ কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই তদন্ত কাজে থাই এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ ঢাকায় এসেছে। তবে এটা আইকাও রুলস অনুসারে করা হচ্ছে বলে সিএএবির সদস্য পরি.পরি মনে করেন।
গত বুধবার থাইল্যান্ড থেকে একদল বিশেষজ্ঞ ঢাকায় এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা উড়োজাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় কাজে দিনভর ব্যস্ত সময় কাটান। তাদের ভাষ্যমতে, যে কারণেই চাকা ফাটুক, স্কিড করার পরও পাইলট অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে উড়োজাহাজটিকে রানওয়েতে ফিরিয়ে এনে নিরাপদে সঠিকভাবে থামাতে সক্ষম হয়েছিলেন। এটা অবশ্যই পাইলটের একক কৃতিত্ব। এ প্রসঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের এক পরিচালক জানান, নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলার এয়ারক্রাফটও অনেকটা একই কায়দায় রানওয়ের বাইরে ছিটকে পড়ায় পাইলট তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলেই ভয়ঙ্কর পরিণতি ঘটে। থাইএয়ারওয়েজের পাইলট নিজের দক্ষতাই হোক কিংবা অলৌকিকভাবেই হোক এমন ঘটনায় রক্ষা পেয়ে গেছেন যাত্রীরা। এটা অবশ্যই বড় স্বস্তিদায়ক।
তিনি বলেন, যে অবস্থায় উড়োজাহাজটির একের পর এক ছয়টি চাকা ফেটে গেছে-তাতে বিধ্বস্ত হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। এরকম পরিস্থিতিতে গোটা উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে যাত্রী ও ক্রু সবাই প্রাণ হারানোর নজির নিকট অতীতেও রয়েছে।
সাধারণত কোন পরিস্থিতিতে এভাবে ছয়টি চাকা ফাটার ঘটনা ঘটে জানতে চাইলে সিভিল এভিয়েশনের সদস্য এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তদন্তের আগে কোন মন্তব্য করা মোটেই সমীচীন হবে না। কেননা প্রতিটি দুর্ঘটনার নেপথ্যেই আলাদা আলাদা কারণ থাকে। চাকা ফাটলেই বলা যাবে না সব উড়োজাহাজেরই একই কারণে ফাটে।
তিনি জানান, থাই এয়ারওয়েজের উড়োজাহাজের চাকা ফাটার ঘটনা তদন্ত করবে ওদেরই লোকজন। আইকাও রুলস এনএক্স-থার্টিন অনুযায়ী উড়োজাহাজ কোম্পানির নিজস্ব দায়িত্বে তদন্ত করার এখতিয়ার রয়েছে। তারা ইচ্ছে করলে ঘটনাস্থলের দেশকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবেও করতে পারে। আবার এককভাবেও করতে পারে। এটা কোন ফ্যাক্টর নয়।
এদিকে কবে নাগাদ উড়োজাহাজটি উদ্ধার করা হতে পারে তা নিশ্চিত করতে পারেনি সিভিল এভিয়েশন। বুধবার ব্যাঙ্কক থেকে আসা একদল এভিয়েশন প্রকৌশলী ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ঢাকায় আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা প্রাথমিকভাবে উড়োজাহাজটিকে উড্ডয়নযোগ্য করতে কত সময় লাগতে পারে সেটা নির্ণয় করবে আগে। তারপর বলা যাবে ঠিক কত সময় লাগবে। উড়োজাহাজটিকে হ্যাঙ্গারে নিয়ে শুধু চাকা প্রতিস্থাপন করলে সময় লাগবে কম। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সম্ভব হবে। যদি অন্যান্য যান্ত্রিক ত্রুটি থাকে তাহলে আরও সময় লাগতে পারে।
শাহজালালের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফারুক আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, কবে নাগাদ উড়োজাহাজটি উড্ডয়নযোগ্য করা সম্ভব হবে তা ঠিক এখনই বলা সম্ভব না হলেও যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি সেটিকে থাইল্যান্ডে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, ঢাকায় আটকে পড়া থাইল্যান্ডগামী সব যাত্রীকেই মঙ্গলবার হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে তাদের অর্ধেককে ব্যাঙ্কক নিয়ে যাওয়া হয়। বাকিদের বুধবার দুপুরে পাঠানো হয়। থাই এয়ারওয়েজের বাকি ফ্লাইটই স্বাভাবিক সিডিউল মেনেই অপারেট করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ব্যাঙ্কক থেকে আসা থাই এয়ারওয়েজ (টিজি ৩২১) উড়োজাহাজের পেছনের ছয়টি চাকা ভেঙ্গে চুরমার হয়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বিমানটি।
