শাহজালালে ভিআইপি রজনীগন্ধায় এসএসএফ সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহার, ভিআইপি নিরাপত্তা বিঘœ সৃষ্টি : সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাশিদা সুলতানাকে কৈফিয়ত তলব : থোরাইকেয়ার !

বিশেষ সংবাদদাতকা : হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে জাতির জনক বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্য মিতুর ভিআইপি মুভমেন্ট চলাকালিন সময়ে সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, বর্তমানে পদোন্নতি প্রাপ্ত উপপরিচালক (ট্রেনিং) রাশিদা সুলতানা জোরকরে ভিআইপি রুম রজনীগন্ধায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত এসএসএফ সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ ও দুর্ব্যবহার করেন। ঘটনাটি ঘটে গত ২২ অক্টোবর। উক্ত ঘটনার জের ধরে সাবেক সিএসও রাশিদা সুলতানাকে সিভিল এভিয়েশনের প্রশাসন বিভাগ থেকে পরিচালক (প্রশাসন) কর্তৃক গত ১৩ নভেম্বর কৈফিয়ত তলব করে এক দাপ্তরিক চিঠি দেয়া হলেও তিনি তা থোরাইকেয়ার করছেন। রাশিদা সুলতানা ব্যক্তিগতভাবে তার বক্তব্য প্রদানের জন্য হাজির হননি এবং দাপ্তরিক চিঠিতেও জবাব প্রদান করেননি। তিনি সিএএবির প্রশাসনকে থোরাইকেয়ার করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেখ পরিবারের সদস্য খন্দকার মাশরুর হোসাইন মিতু আবুধাবি যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ২২ অক্টোবর বিকেল ১৬০০ ঘটিকার সময় শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন। বিমানবন্দরে ভিআইপি রুম রজনীগন্ধা ব্যবহার করার সময় এসএসএফ সদস্যদের নজরদারিতে থাকা অবস্থায় বিমানবন্দরের সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাশিদা সুলতানা কর্তব্যরত এসএসএফ সদস্যদের বাধা ওপেক্ষা করে উচ্চস্বরে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে ভিআইপি রুম রজনীগন্ধায় জোরকরে প্রবেশ করেন। এ সময় রাশিদা সুলতানা কর্তব্যরত এসএসএফ সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ ও দুর্ব্যবহার করেন।
তাকে কৈফিয়ত তলবকৃত দাপ্তরিক পত্র থেকে জানা যায়, ইতিপূর্বেও সাবেক সিএসও রাশিদা সুলতানা বিমানবন্দরে ভিআইপি নিরাপত্তা পালনকালিন সময়ে কর্মকর্তাদের সাথে দুর্ব্যবহার ও ভিআইপি নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনে বিঘœ সৃষ্টি করেন মর্মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনয়ন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৭টি কারণ দর্শানো নোটিশ এবং ১টি কৈফিয়ত তলবসহ একডজন অভিযোগ আমলে নেয়নি সিএএবির প্রশাসন। তাকে বিমানবন্দর থেকে বদলির সুপারিশ করে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক কাজি ইকবাল করিম নিজেই বদলি হয়ে গেছেন। কিন্ত রাশিদা সুলতানা এখনও শাহজালালে বহাল। তাকে প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে ‘এডি থেকে ডিডি’ করা হয়েছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রাশিদা সুলতানাকে ‘মানসিক ভারসাম্য’ বলে আখ্যায়িত করলেও তাকে একটি দেশের একটি প্রধান বিমানবন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা করা হয়েছে। তাকে বয়স মার্জনায় চাকরিতে নিয়োগ, তার জন্ম সনদ, শিক্ষা সনদ নিয়ে অভিযোগ আমলে নেয়নি সিএএবির প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি মুভমেন্টেও রাশিদা সুলতানা লাপাত্তা থেকেছেন- তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি। তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা হিমাগারে গেছে বলে জানা গেছে। রাশিদা সুলতানা নিজকে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে থাকেন এবং ভিভিআইপি- ভিআইপি মুভমেন্টকে থোরাইকেয়ার করে থাকেন। সর্বশেষ গত ২২ অক্টোবর তার প্রতিফলন ঘটেছে ভিআইপি মুভমেন্ট চলাকালে এসএসএফ সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহারের মাধ্যমে।
রাশিদা সুলতানাকে সিএএবির প্রশাসন দাপ্তরিক চিঠিতে তলব করলেও তিনি গত ১৮ নভেম্বর ব্যক্তিগতভাবে পরিচালক ( প্রশাসন) এর দপ্তরে হাজির হয়ে তার বক্তব্য প্রদান করেননি। এর আগে রাশিদা ছুটির আবেদন করলেও তার ছুটি মনজুর করা হয়নি।