শাহজালাল বিমানবন্দর , নাটেরগুরু সম্পাদক শাহাদত : সিএএবির শতকোটি টাকার সম্পদের পর আবার প্রায় ১৬ কোটি টাকার সম্পত্তি ওয়েলফেয়ার কমিটির নামে নতুন করে বরাদ্দ : সাধারণ কর্মচারিদের ক্ষোভ : বেহাত হবার আশংকা : বিএনপি- জামায়াতের নেতারা তারেক জিয়ার নাম ব্যবহার করে কর্নধার সাবেক ডিডি ইসমাইল হোসেন তালুকদারের সমন্ধয়ে পেংগুইনের নামে বহুতল মার্কেট নির্মাণ : এখনও মার্কেট ছাড়েনি পেংগুইন, সিএএবির তদন্ত ভেস্তে গেছে

নিউজ ডেক্স :  শাহজালাল বিমানবন্দর  , ওয়েলফেয়ার কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাটেরগুর শাহাদত হোসেন মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের পর এবার আবার তার পাশে ৪ কাঠা জমি মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের পর এবার ‘শাহজালাল বিমানবন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারি ওয়েলফেযার কমিটি’র  নামে বরাদ্দ দিয়ে আবার লুটপাটের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। সম্পত্তি শাখার সুব্রত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও তার ইন্ধন রয়েছে বলে অনেকে জানান। আগের বরাদ্দকৃত জমিতে বিএনপি-জামায়াত নেতারা  তারেক জিয়ার নাম ব্যবহার করে এবং সিএএবির অবসরপ্রাপ্ত ডিডি ইসমাইল হোসেন তালুকদার মরহুম হাবিবুল্লাহ খান পরস্পর যোগসাজশে  একটি প্যাড ও নাম  সর্বস্ব ডেভেলাপমেন্ট  কোং( পেংগুইন) বহুতল মার্কেট  করার পর সেই মার্কেটই এখন বেহাত হবার আশংকা করছে মুক্তিযোদ্ধা নেতারা। যদিও বিমান প্রতিমন্ত্রী সিএএবির জমি বেহাত হবে না বলে  গণমাধ্যমে বলেছেন । বলেছেন চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এ নিয়ে দৈনিক সমকাল  গত ৩১ জুলাই/২১ এক সচিত্র অনুসন্ধ্যানি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,

কর্মীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)-এর  প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদ বা জমি বেহাত হতে চলেছে। মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ওয়েলফেয়ার কমিটির নামে বেবিচক ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে এই জমি বরাদ্দ দেয়। চলতি মাসের শুরুতে বেবিচক থেকে প্রায় ১৬ কোটি টাকা মূল্যের চার কাঠার বেশি জমি নতুন করে ওয়েলফেয়ার কমিটির নামে বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।

অভিযোগ, বেবিচকের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে অতীতে বরাদ্দ জমিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বহুতল মার্কেট, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ও দোকানের পজিশন বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

তিন ধাপে বরাদ্দ প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট : ১৯৯৭ সালে বেবিচক কর্তৃপক্ষ ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের গোল চত্বরের পূর্ব পাশে এবং হজক্যাম্পের সামনে বেবিচক মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের নামে পৃথকভাবে প্রায় শতকোটি টাকার জমি বরাদ্দ দেয়। যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের অফিসের জন্য পাঁচ হাজার ৭৭৪ দশমিক ৫১ বর্গফুট জায়গাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বেবিচকের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সেই বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতলবিশিষ্ট খাওয়ার হোটেল, ফাস্টফুড শপসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

২০০০ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন হজক্যাম্পের সামনে বহুতল মার্কেট করতে সাত হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গা দেয় বেবিচক। পরে ২০১২ সালে একই স্থানে আরও সাড়ে ছয় হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এভাবে তিন ধাপে কর্মচারীদের নামে মোট বরাদ্দ জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৭৭৪ দশমিক ৫১ বর্গফুট। সংশ্নিষ্টদের মতে, বর্তমানে এখানকার জমির বাজারমূল্য কাঠাপ্রতি প্রায় চার কোটি টাকা।

এখনও মার্কেট ছাড়েনি পেঙ্গুইন : বেবিচকের কয়েকজন কর্মী জানান, ২০০০ সালে হজক্যাম্পের সামনে বহুতল মার্কেট নির্মাণের নামে ১১৫ কর্মীর (মুক্তিযোদ্ধা) কাছ থেকে এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা তোলা হয়। বেবিচকের ওই সময়ের মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এই টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি অসাধু চক্র।

কর্মীরা জানান, পেঙ্গুইন নামে একটি স্থানীয় ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে বহুতল মার্কেট নির্মাণের চুক্তি করেছিল মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড। এতে শর্ত ছিল, পেঙ্গুইন কোম্পানি ১২ বছর এই মার্কেটের নিচতলা এবং চতুর্থ তলার ভোগদখল করবে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলায় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন মুক্তিযোদ্ধা সদস্যরা। কিন্তু চুক্তির শর্ত কয়েক বছর আগে শেষ হয়ে গেলেও মার্কেট ছাড়েনি ওই কোম্পানি।

পেঙ্গুইন কোম্পানির নামে গোপনে এ মার্কেটের একাধিক দোকানের পজিশন বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বেবিচক থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছরেও এ তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্তের নামে মোটা অঙ্কের বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে কমিটির বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে বেবিচকের সম্পত্তি শাখার সহকারী কর্মকর্তা সুব্রত চন্দ্র দে সমকালকে বলেন, কর্মচারীদের নামে কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ করা জমি হস্তান্তরযোগ্য নয়। বেবিচক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে কেউ যদি এ সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করে, তবে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ ব্যাপারে পেঙ্গুইন কোম্পানির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেবিচকের কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ীই বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মার্কেট পরিচালনা ও ভোগদখল করা হচ্ছে। তিনি জানান, এ কোম্পানির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- বেবিচকের উপপরিচালক প্রশাসন (অব.) ইসমাইল হোসেন তালুকদার, জোবায়ের হোসেন, শাহাবুদ্দিন, তারেক রহমানসহ ছয়জন। জিনের বাদশাখ্যাত  হাজি আ: রউফ ইতিমধ্যেই মারা গেছেণ, তার ছেলে হাল ধরেছে।  তারেক কানাডা প্রবাসি, শাহাবুদ্দিন বিভিন্ন মামলায় পলাতক, তার ভাই মাতাব্বরি করছে।

এ ব্যাপারে বেবিচকের মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সদস্য সচিব মো. সেরজান আলী সরদার বলেন, পেঙ্গুইন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চলতি বছর মে মাসেই মার্কেট ভোগদখলের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তবে এখনও তারা মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, ২০০০ সালে বেবিচকের পরিচালক হাবিবুল্লাহ খান (অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত) মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের দায়িত্বে থাকার সময় পেঙ্গুইনের সঙ্গে মার্কেট নির্মাণের চুক্তি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে বেবিচক কর্তৃপক্ষ মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের নামে থাকা জায়গার বার্ষিক ট্যাক্স চার গুণ বাড়িয়েছে। প্রতি স্কয়ার ফুট জায়গার ট্যাক্স ৩৫ টাকার বদলে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কোটি টাকার ট্যাক্সও বকেয়া পড়েছে। গত মাসে প্রায় দুই কোটি টাকার বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়। হজক্যাম্পের সামনে ফের নতুন বেবিচক থেকে কর্মীদের নামে কোটি টাকার জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অন্য কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

নতুন বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ : তিন ধাপে প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমি বরাদ্দের পর চলতি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বেবিচক আবারও চার কাঠার বেশি জমি বরাদ্দ করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ওয়েলফেয়ার কমিটির নামে। যার মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এবং বিমানবন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল-আহসান কর্মীদের নামে বেবিচকের ওই জমি বরাদ্দ করেছেন। শাহজালাল বিমানবন্দর অ্যারোড্রাম কর্মী এবং ওয়েলফেয়ার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাহাদত হোসেন বলেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিমানবন্দর হজক্যাম্পের সামনে বেবিচক কর্তৃপক্ষের শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক কর্মীদের নামে চার কাঠার বেশি জমি বরাদ্দ করেছেন। সেখানে মার্কেট নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে সেখানে মার্কেট নির্মাণের নামে কমিটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে শাহাদত হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে বেবিচকের মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের মো. সেরজান আলী সরদার বলেন, ইতোমধ্যে বেবিচক কর্তৃপক্ষ মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের নামে থাকা জায়গার বার্ষিক ট্যাক্স চার গুণ বাড়িয়েছে। প্রতি স্কয়ার ফুট জায়গার ট্যাক্স ৩৫ টাকার বদলে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কোটি টাকার ট্যাক্সও বকেয়া পড়েছে। গত মাসে প্রায় দুই কোটি টাকার বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়েছে। হজক্যাম্পের সামনে ফের নতুন বেবিচক থেকে কর্মীদের নামে কোটি টাকার জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অন্য কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, কর্মীদের নামে বেহাত হতে পারে না বেবিচকের সম্পদ। তিনি বলেন, বেবিচকের কর্মীদের নামে বরাদ্দ সম্পত্তি অন্য কারও কাছে হস্তান্তর এবং ভোগদখলের বিষয়ে বেবিচকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।