একুশে বার্তা রিপোর্ট : মেজবাহ উদ্দিন শেখ। ৩০ বছরের চাকরি জীবনে ২০ বছরই নিরাপত্তা গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ১৫ দিন আগে নিরাপত্তা অপারেটর হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। চাকরি আছে আর ৪ মাস। ৭ দিন আগে ধুমধাম করে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্ত এবার সোনাসহ ধরা খাওয়ায় আর পেনশন নিয়ে ফিরতে পারবেন কিনা- সন্দেহ।
এ দিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজবাহ নিরাপত্তা অপারেটর হিসেবে পদোন্নতি পাবার পরও তাকে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে ভিআইপিতে ডিউটিতে নিয়োজিত রাখেন ‘সি’ শিফটের ডিএসও রোকন। ডিএসও রোকন দীর্ঘদিন ধরে শাহজালালে কর্মরত। তাকে সিলেট ওসমানি বিমানবন্দরে বদলি করা হলেও তা ঠেকিয়ে দেয়া হয়।
দীর্ঘদিন ডিএসও রোকন শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে ওষুধ পাচারের জড়িত থাকার বিষয়টি গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছে। প্রতিবাদ করায় সামাদ নামে একজন নিরাপত্তারক্ষীকে নিরাপত্তা শাখা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার কথামত না চলায় ১০/১২ জন নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয় ডিএসও রোকন। ডিএসও হিসেবে দায়িত্ব পাবার ‘অমি কি হনুরে’ ভাব ফুটে ওঠেছে তার ব্যবহারে বলে অনেকে জানান। অতি সম্প্রতি শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে অস্ত্র যাত্রী বহন করে নিয়ে যাবার ঘটনার সময় ডিএসও রোকন ডিউটিতে বহাল ছিল। অথচ এ ঘটনায় ২ জন নিরাপত্তারক্ষীকে সাসপেন্ড করা হয়।
মেজবা গত ১৫ বছর ধরে এ বিমানবন্দরটিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী এক নেতাকে অলিখিত ‘প্রটোকল’ দিয়ে আসছিলেন। এর বদৌলতে বিমানবন্দরের ভেতরের সংরক্ষিত এলাকায় তার ছিল অবাধ যাতায়াত। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গড়েছেন বাড়ি, কিনেছেন ফ্ল্যাট।
শরীরে স্বর্ণ, দামি ধাতব, মুদ্রা কিংবা অর্থ বেঁধে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচার করার একটি পদ্ধতি রয়েছে। এ পদ্ধতিকে বলা হয় ‘বডি ফিটিংস’। জানা গেছে, বডি ফিটিংস কৌশল কাজে লাগিয়েই অঢেল ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন মেজবাহ। এ ক্ষেত্রে তিনি বেছে নিয়েছিলেন সবচেয়ে দামি ধাতব পদার্থ স্বর্ণ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকেই জানতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার সাহচর্যের কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাননি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
গত ১৮ জানুয়ারি ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ৬ পিস স্বর্ণের বারসহ তিনি ধরা পড়েন ঢাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হাতে। এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিন দিনের রিমান্ডে আছেন মেজবাহ উদ্দিন। জিজ্ঞাসাবাদে নাকি চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্যই দিচ্ছেন, বলছে পুলিশ। তবে ভাগবাটোয়ারাজনিত ঝামেলায় এবং বিমানবন্দরে কর্মরত এফসেক সদস্যদের সাথে অহমিকাভাব ব্যবহার করার কারণেই নাকি মেজবাহ ফেসে গেছে, তার পতন হয়েছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি-প্রিভেনটিভ) মো. মারুফ আহমেদ জানান, মেজবাহ উদ্দিন শেখ দীর্ঘদিন ধরে শাহজালাল বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণের পাচার চালিয়ে আসছিলেন। তার সঙ্গে শীর্ষ সোনা পাচারকারীদের সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও তথ্য মিলেছে।
বিমানবন্দর থানার ওসি বিএম ফরমান আলী জানান, রিমান্ডে মেজবাহ উদ্দিন শেখ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।
