ডেক্স রিপোর্ট : চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় ১২০ টন পণ্য। যার বেশির ভাগই প্রবাসীদের পাঠানো। যা পরিত্যক্ত হওয়ায় প্রচুর আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রবাসী পরিবারের স্বজনরা।
শুধু তাই নয়, বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে সরকারও। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অসচেতনতার কারণে বিপুল অঙ্কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের।
বিমানবন্দর কার্গো হলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হয় কার্গো আমদানি। এরপর প্রবাসীরা তাদের প্রিয়জনদের জন্য নিত্যব্যবহার্য নানা সামগ্রী পাঠান কার্গোর মাধ্যমে। কিন্তু সেগুলো জালিয়াতি বা অবৈধ পন্থায় আনাসহ নানা অভিযোগে খালাস হয়নি বিমানবন্দরের কার্গো হল থেকে।
ফলে, ২০০৩ সাল থেকে পণ্য জমতে জমতে পণ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ টন। যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা হবে বলে সূত্র জানায়। আর এসব পণ্য খালাস না পেয়ে অভিযোগের অন্ত নেই প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের।
সূত্র আরো জানায়, প্রবাসী ও তাদের পরিবারের স্বজনরা এসব পণ্য খালাস পেতে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু অবৈধ পণ্য প্রেরণসহ নানা অভিযোগে তাদের ক্রমান্বয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এক পর্যায়ে ওই পণ্য খালাস পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন। এভাবে কার্গো হলে জমতে থাকে প্রবাসীদের পাঠানো পণ্য। আর মেয়াদোত্তীর্ণ শেষে হতে থাকে পরিত্যক্ত।
সূত্র আরো জানায়, এসব পণ্য খালাস না হওয়ায় প্রবাসীদের কোটি কোটি টাকা যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনি সরকার হারিয়েছে রাজস্ব। অন্যদিকে, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব পণ্যের গুদাম ভাড়া থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের কার্গো হলে দীর্ঘ বছর ধরে পড়ে থাকা এসব পণ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সূত্র জানায়, কার্গো হলের পরিত্যক্ত পণ্যের দুর্গন্ধের কারণে সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের কাজের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রক্রিয়াগত কারণে আটকে যাওয়া পণ্য খালাস দিতে না পারায় ওয়্যার হাউজেই নষ্ট হয়ে গেছে অনেক মূল্যবান পণ্য।
সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু হয় ২০০০ সালে। কার্গো ফ্লাইট শুরু হয় ২০০৩ সাল থেকে। এরপর প্রবাসীরা গৃহস্থালিতে ব্যবহার্য নানা পণ্য কার্গো সুবিধায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠাতে থাকে। এ সুবিধার অপব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ওসব চালানে নিয়ে আসে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের এয়ারফ্রেইট শাখা এসব পণ্য জব্দ করে। কার্গো ফ্লাইট শুরুর পর দীর্ঘ ১৬ বছরে নিলাম কিংবা ক্রাশ (ধ্বংস) কর্মসূচি না নেয়ায় কার্গো হলে পরিত্যক্ত পণ্য বাড়তে থাকে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ম্যানেজার কাজী খায়রুল কবির জানান, বিভিন্ন সময় জব্দকৃত প্রায় ১২০ টন পণ্য বিমানবন্দরের কার্গো হলে পড়ে আছে। অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এসব পণ্য ওয়্যার হাউজের এক-তৃতীয়াংশ স্থান দখল করে আছে।
কাস্টম হাউজের এয়ারপোর্ট অ্যান্ড এয়ারফ্রেইট সূত্র জানায়, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থেকে একাধিকবার জব্দকৃত পণ্য নিলাম কিংবা ধ্বংস করার উদ্যোগ নেয়। ওই সময় সিভিল এভিয়েশন ওসব পণ্যের গুদাম ভাড়া দাবি করার কারণে নিলাম প্রক্রিয়ায় যাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার নাহিদ নওশাদ মুকুল বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার বিমানবন্দরের কার্গো হল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে জব্দকৃত কি পরিমাণ পণ্য রয়েছে তা ইনভেন্ট্রি করার নির্দেশ দেন। তার নিরীখে ৪টি ইনভেস্টি টিম গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই নিলাম এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া পণ্য ধ্বংস করার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
