সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর তথ্য : ২০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকা থেকে বাদ

ডেক্স রিপোর্ট : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, ২০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সারাদেশের এক লাখ ৮২ হাজার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। যাদের নামে কোনো আপত্তি নেই, এমন মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আগেই প্রকাশের
সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি  বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যে তালিকার বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি নেই, যেমন ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা, মুজিবনগর সরকারের যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন, যারা সশস্ত্র বাহিনীতে থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, নার্স, শিল্পী-কলাকুশলীদের নাম প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে মার্চের মধ্যে প্রকাশের চেষ্টা করব।
মন্ত্রী বলেন, যাদের নামে আপত্তি এসেছে, তাদের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই চলছে। তবে কিছুসংখ্যক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানজনক আইডি কার্ড এখনো পাননি। তবে আগামী ২৬ মার্চের আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সরকারি দলের সেলিম আলতাফ জর্জের পক্ষে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার ও হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘৃণা প্রকাশের লক্ষ্যে সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় একটি ঘৃণাস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের জায়গা নির্বাচনের কাজ চলমান রয়েছে।
সরকারি দলের আরেক এমপি আনোয়ার আবেদীন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি জাতীয় পতাকার মতো রঙ দিয়ে সাজানোর প্রস্তাব প্রশংসনীয়। বিষয়টি আমরা অবশ্যই বিবেচনা করব। যাতে দূর থেকে দেখেই মানুষ বুঝতে পারে এটি মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি।
আগামীতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা আরও বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার প্রশাসন বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের দৃশ্যমান স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা বড় ফলকে লিখে তা টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া আছে।
সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার কবর সংরক্ষণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের আওতায় দেশের সব মুক্তিযোদ্ধার কবর সংরক্ষণ করা হবে।