একুশে বার্তা প্রতিবেদন : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা প্রস্তুত হোন, অক্টোবর মাসে আমরা মনোনয়ন পর্ব শুরু করে দিয়েছি। অক্টোবর মাসে কোনো অন্তবর্তীকালীন, নির্বাচনকালীন সরকার হবে না। সরকার যেটা আছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সরকারই থাকবে। হয়তো সাইজটা একটু ছোট হবে।
আজ রোববার রাজধানীর উত্তরার আমির কমপ্লেক্স এলাকায় আওয়ামী লীগ ঘোষিত গণসংযোগ কর্মসূচি শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, যারা দলীয় মনোনয়নের বিরোধিতা করবেন, এবার প্রধানমন্ত্রী তাদের ক্ষমা করবেন না। মনে রাখবেন, শোডাউন করে যারা মনোনয়ন দাবি আদায় করবেন নিজের পছন্দমতো প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান দিয়ে দাবি আদায় করবেন, সেই ধারণা যারা করছেন, শোডাউনে কারো নমিনেশন হবে না।
তিনি বলেন, এবার শোডাউনের নামে যারা বিশৃঙ্খলা করবে, তাদের নম্বর কাটা যাবে। কয়েকটা সংস্থা এখানে মনিটরে আছে, কারা কি করছে সব দেখছি। প্রার্থীদের বলবো, সমর্থকদের থামান। না হলে কিন্তু আপনার নম্বর কাটা যাবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আবারো বলছি শেষ পর্যন্ত কর্মীদের প্রমাণ করতে হবে যে আমরা একটা সুশৃঙ্খল দল। এই ব্যানার, এই পোস্টার, এই সব বিলবোর্ড দেখে কাউকে মনোনয়ন হবে না। মনোনয়ন হবে জনমতের ভিত্তিতে।
ঢাকা-১৮ আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবার প্রত্যাশায় উত্তরা এলাকায় প্রায় একডজন ছোট-বড়-মাঝারি সাইজের নেতা এই সংসদীয় এলাকায় পোস্টার, বিরবোর্ঢ সাটিয়ে জমজমাট প্রচারনা চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে সবার ওপরে এগিয়ে আছেন মহানগরের উত্তর আওয়ামীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব হাবীব হাসান। পরের দাফে দক্ষিণখান ইউপি চেয়ারম্যান এসএম তোফাজ্জল হোসেনসহ প্রায় একডজন মনোনয়ন প্রত্যাশি। এরা ইতিপূর্বে উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের মাঠে ‘ সাহারা ঠেকাও’ শ্লোগানে এক বৈঠকে মিলিত হয়। ওই বৈঠকে প্রকাশ্যে বর্তমান ঢাকা-১৮ আসনের এমপি, সাবেক স্বরাষ্ট্র এবং ডাক ও টেলি যোগাযোগমন্ত্রী এড সাহারা খাতুনের আগামি নির্বাচনে মনোনয়ন ঠেকানোর ঘোষণা দেয়া হয়। এড সাহারা খাতুনকে আবারও দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে মহানগর উত্তরের নেতৃবৃন্দ তার পক্ষে কাজ করবেন না বলেও ওই বৈঠকে নেতারা অংগিকার করেন। খিলক্ষেত থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক কেরামত আলি দেওয়ান ছাড়া মহানগর উত্তরের সব নেতৃবৃন্দ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায় । এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা রিপোর্ট সরকারের হাইকমান্ডকে জানানো হয়েছে।
হাবীব হাসানের পোস্টার ও বিল বোর্ড দেখে যে কেউ মনে করবেন যে হাবীব হাসান নৌকার মনোনীত প্রার্থী,তিনিই নৌকায় ভোট চাইছেন। এসএম তোফাজ্জল হোসেনও হাবীব হাসানের চেয়ে প্রচারনার দিক থেকে কম নন। কিন্ত হাশেম চেয়ারম্যানের প্রচারনা চোখে পড়ছে না। আবার কোন কোন মাঝারি সাইজের নেতা সাহারা খাতুনের পক্ষে নৌকায় ভোট চেয়ে সাহারা খাতুনের নীচে নিজেদের ছবি দিয়ে পোস্টার করে প্রচারনা চালাচ্ছেন। আর এসব বিল বোর্ড পোস্টার দেখে দেখেই দলের সাধারন সম্পাদকের সরস উচ্চারন- বিলবোর্ড-পোস্টার দেখে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবাহান গোলাপ, ঢাকা আওয়ামী লীগের উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।
