সিএএবির যাত্রীশূণ্য গণশুনানিতে সিএএবির চেয়ারম্যান : পৃথিবীর কোন বিমানবন্দরে শতভাগ নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হয় না : ল্যাগেজ চুরি অনেক কমে গেছে : ‘জিয়া বিমানবন্দরের’ নামে লন্ডন ফ্লাইটে ১৯টি নিরাপত্তা স্ট্রীকার নিয়ে কথা বলেননি চেয়ারম্যান

একুশে বার্তা ডেক্স : যাত্রী নিরাপত্তা, ল্যাগেজ চুরি, দুর্নীতি রোধ, সাশ্রয়, বাইরের তল্লাশি, ইয়াবা পাচার, লন্ডন ফ্লাইটে ১৯টি নিরাপত্তা স্ট্রীকার- ইত্যকার বিষয়ের সবগুলো গণ শুনানিতে ওঠে আসেনি। ল্যাগে চুরি ,নিরাপত্তা নিয়েই সিংহভাগ সময় কেটেছে। যদিও বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের ওপর চলছিল গণশুনানি। মঞ্চে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সামনেও ছিলেন বেবিচক, বিভিন্ন বিমান সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিক। কিন্তু যাদের জন্য গণশুনানির আয়োজন, তারাই- যাত্রীশূন্য ছিল মন্ঞ ও সামনের অংশ। অনুষ্ঠানে কোনো যাত্রীর দেখা পাওয়া যায়নি।
আয়োজনে ত্রুটি থাকায় তা শাহজালালে করা হয়নি।  গণ শুনানির আগে সংস্থার চেয়ারম্যান এ বিষয়ের ওপর তার পারিষদবর্গের মতামত নিয়েছেন কিনা- তা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে।

১১ নভেম্বর, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দরের এমটি হল (পরিবহন হলরুম) রুমে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
কোনো প্রতিষ্ঠানের সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, দুর্ভোগ বা দুর্নীতিসহ অনিয়ম তুলে ধরতে এবং সেবার মান বাড়াতে ওই প্রতিষ্ঠানে সেবাগ্রহীতাদের নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হয়ে থাকে। সেখানে সেবাগ্রহীতারা কী কী সমস্যার মুখোমুখি হন, সেসব জানান।
বেবিচকের গণশুনানিতে যাত্রীদের উপস্থিতি না থাকায় অায়োজনটি অঘোষিত সংবাদ সম্মেলনে পরিণত হয়। বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, গণশুনানিতে যাত্রী নেই কেন।
এর জবাবে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল এম নাঈম হাসান জানান, পরবর্তী সময়ে ভালো জায়গা নির্বাচন করে গণশুনানিতে যাত্রীদের উপস্থিত করা হবে।
যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং, লাগেজ চুরি, রানওয়েতে ফাটল ধরা, বার্ড শ্যুটার, নিরাপত্তাসহ যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে নানা অভিযোগ উঠে অাসে শুনানিতে।
গণশুনানিতে প্রশ্ন করা হয়, ‘বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে দুদিকে অার্চওয়ে বসিয়ে যাত্রীদের দেহ, ব্যাগ ও লাগেজ তল্লাশি করা হয়। কিন্তু যারা গাড়িতে করে বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন তাদের কেন তল্লাশি করা হয় না?’, ‘এটা কি শুধু দরিদ্র মানুষের জন্য প্রযোজ্য?
উল্লিখিত প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা ধনী-দরিদ্রের কোনো বিষয় নয়। অামরা সকলকে তল্লাশি করি। অনেক সময় গাড়িতে চারজন থাকলে একজনকে নামিয়ে দেওয়া হয়। অার বিদেশ যান এমন শ্রমিকদের ৯৫ শতাংশ গাড়িতে করে বিমানবন্দরে অাসেন। অনেক সময় অামাকেই তল্লাশি করা হয়। প্রশ্ন করা হয় অাপনি কে? অামাদের কাছে ধনী-দরিদ্র বলে কোনো শব্দ নেই।’বিমানবন্দরে অনেক সময়ে সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রীর স্বজন, তাদের গাড়িচালকরা ভেতর পর্যন্ত ঢুকে যান। এতে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হয় কি না জানতে চাইলে নাঈম হাসান বলেন, ‘সারা পৃথিবীর কোনো বিমানবন্দরে শত ভাগ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা সম্ভব হয় না। তবে অামরা চেষ্টা করি। অার মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনদের ভেতরে প্রবেশ করতে না দিলে অামাদের অনেক সময় মন্ত্রণালয়-দূতাবাস থেকে চিঠি দিয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। তারপরও এমনটি যদি হয়ে থাকে, অামরা সেটা দেখব। এখন থেকে তারা অার্চওয়ে তল্লাশির পর ভেতরে প্রবেশ করবেন। তবে বিষয়টি অামরা সমাধান করার চেষ্টা করছি।’
অতিরিক্ত চার্জ ধরার কারণে অান্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো তাদের বিমান বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অামরা তো চার্জ নির্ধারণ করি না, এটা সরকার থেকে করা হয়। এ কারণে অামাদের কিছু করার নেই। অতিরিক্ত চার্জের কারণে অনেক বিমান বন্ধ হয়েছে, এটি সত্য নয়। এখানে চার্জের কোনো সম্পর্ক নেই।’
নিরাপত্তাকর্মীদের পোশাক নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে অাছেন, তাদের পোশাকের বিষয়টি ভেবেছি। পোশাকের ডিজাইনের কাজও চলছে। পোশাকের পাশাপাশি কীভাবে তাদের আরও প্রশিক্ষিত করা যায়, তার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সাথে কথাবার্তা চলছে।’
বিমানবন্দরে লাগেজ চুরির বিষয়টি জোরালোভাবে গণশুনানিতে উঠে অাসে। তবে চুরি অাগের চেয়ে অনেকাংশে কমে গেছে বলে দাবি করেন বেবিচক চেয়ারম্যান।
বিমানবন্দরে পাখি অাসার বিষয় তুললে নাঈম হাসান বলেন, ‘অামাদের বার্ড শ্যুটার অাছে। তারপরও মাঝে-মাঝে রানওয়েতে পাখি অাসে। অামরা চেষ্টা করি যাতে কোনো পাখি না অাসে।’ কিন্ত বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের সামনে বিভিন্ন ফ্স্টফুডের দোকানের উচ্ছিস্ট খাবার সংগ্রহের জন্য ঝাকে ঝাকে পাখি আসে, তা আবার রানওয়ের দিকে যায়। এ সব দোকানপাট এমপি ,সিএএবির কর্মচারি সম্পত্তি শাখার অদুদ, কতিপয়  সাংবাদিক- যারা সিএএবির বিট করে  ফার্মের নামে বা আত্মীয়জনের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রানওয়েতে পাখি আসা-যাওয়া বন্ধ করতে হলে টার্মিনাল ভবনের সামনের দিকে ২০/৩০টি দোকান বন্ধ করতে হবে বলে এভিয়েশন বিশেঙ্ঘরা মতামত ব্যক্ত করেন।