একুশে বার্তা প্রতিবেদন : শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য থেকে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল বলেই প্রতিরোধ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আগের দিন জিগাতলায় সংঘর্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখন আপনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে গোলাগুলি করতে করতে আসবেন, তাদের কে কি বল প্রয়োগ করবে না? চুমু খাবে?”
এক গুজব থেকে শনিবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা চড়াও হলে তাদের উপর হামলা হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়।
রোববার সকালে শেখ কামালের জন্মদিনে বনানীর কবরস্থানে তার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া ওবায়দুল কাদেরের কাছে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, শিক্ষার্থীরা আবার রাস্তায় নামলে তাদের উপর বল প্রয়োগ করা হবে কি না?
উত্তরে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোনো প্রকার বল প্রয়োগে যায়নি।
“অশুভ শক্তি ছাত্রদের আন্দোলনে ঢুকে আমাদের উপর আক্রমণ চালিয়েছিল, আমাদের ১৭ জন নেতাকর্মী হাসপাতালে আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছে।”
নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ঘিরে নাশকতার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের দাবি।
তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্র তো চলছেই, এই আগস্ট মাসেও আমরা ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি, গন্ধ পাচ্ছি বাতাসে, অশুভ শক্তির আস্ফালনের গন্ধ পাচ্ছি।”
কাদের বলেন, “আজকে ছাত্রছাত্রীদের অরাজনৈতিক নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলন কারা নোংরা রাজনীতির দিকে নিয়ে যেতে চায়, সেটা গত তিন দিনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। গতকাল তো দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে, কারা?
এসময় ইন্টারনেটে আসা বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কথিত ফোনালাপের কথা তুলে ধরেন কাদের।
গুজব ছড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগ অফিসে মেয়েদের নাকি আটকে রেখেছে, সাংবাদিক বন্ধুরা আপনারা আওয়ামী লীগ অফিসে সারাদিন ছিলেন, কোথায় আটকেছিল কে? অনেক ঘটনাই ফাঁস হয়ে যাবে, সবার ছবি আছে। সবার কার্যক্রম আমরা নীরবে লক্ষ করেছি।”
‘অশুভ শক্তি’কে প্রতিরোধ করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান কাদের।
আমাদেরও ধৈর্যের সীমা রয়েছে। সেটা অতিক্রম করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে তুলতে এক সপ্তাহ পর কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, “আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। তার মানে এই নয় যে তারা অরাজকতা করতেই থাকবেন, আর আমরা দৃশ্য দেখতে থাকব। মোটেই না, আমাদেরও ধৈর্যের সীমা রয়েছে। সেটা অতিক্রম করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আজ রবিবার গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট দেশব্যাপী ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকের একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদু্জ্জামান মিয়া বলেন, “পুলিশ আইন প্রয়োগে কঠোর হবে। তবে ব্যবহারে নমনীয় থাকবে।”
পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, “আমাদের ট্রাফিক আইনটি মানার জন্য বাধ্য করতে হয় এখানে। আইন তো হয় মানার জন্য, বাধ্য করার জন্য নয়।”
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সড়কে নেমে গাড়িও চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা শুরুর পর এই ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা আসে।
শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে উঠে আসা নয়টি দাবি পূরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও তারা রাজপথ ছাড়ছে না। এর মধ্যে আন্দোলনরতদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটতে শুরু করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি আগেও বলেছি। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে অন্য দিকে নেওয়ার প্রচেষ্টা হচ্ছে। আপনারা দেখেছেন হাজার হাজার আইডি কার্ড গলায় ঝুলানো হয়েছে। একটাও স্কুলের ছাত্র নয়, সব প্রাপ্তবয়ষ্ক।”
পাশাপাশি নানা গুজব ছড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “পাকিস্তানে কী ঘটেছে, সেটা এনে এখানে দেখানো হচ্ছে। দিল্লিতে কী ঘটেছে, আমাদের ২০১৩/১৪ সালের ছবি দৃশ্য দেখাচ্ছে।
“আর নেতাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কমেন্টস পোস্ট করছে। এগুলো বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে তারা।
আমরা বলব, তারা এগুলো পরিহার না করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।”
শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “তাদের দাবি অপূর্ণ নেই। নয়টি দাবির দুটি দাবি, যেমন আইনের কথা বলেছে সেটার সময় লাগবে, আগামীকাল সেটা কেবিনেটে উঠছে। আন্ডারপাসও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে, সেটারও কাজ শুরু হবে। কাজেই এখন আর কিছু নেই। তাই আপনাদের মাধ্যমে বলব, তারা যেন রাস্তা থেকে ফিরে যায়।
