একুশে বার্তা প্রতিবেদন : চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি এবং সারাদেশে নেতাকর্মীদের গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে জনসভা করবে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটি এ জনসভা করতে চায়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত ২৪ সেপ্টেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। আশাকরি, প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করবে। আমরা ১ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ জনসভা করেছিলাম। ওই সভার জন্য চারদিন আগে অনুমতি দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ।
তাই আশা করবো, এবারও জনসভা করার অনুমতি পাবো। রিজভী বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার প্রতি সরকারের আচরণের ঘটনাগুলো প্রকাশ হওয়ায় দেশবাসীসহ বিশ্ববাসী বিমূঢ় বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে।
দেশের প্রধান বিচারপতিকে যেভাবে হুমকি, গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে, তাতে আওয়ামী রাজনীতির বিকৃত সংস্কৃতি আবারো জনগণের কাছে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আগ্রাসন চালিয়ে প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলকেও সরকার দখলে নিয়েছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। এখন সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছা অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক কার্যক্রম চলে। ২১ আগস্টের বোমা হামলা মামলা এটির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সুশাসনেরবোধ কখনই ছিল না। নানা ফন্দিফিকির করে ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাস বিতরণের কেন্দ্রে পরিণত হয়। আওয়ামী রাজনীতি কখনই দলীয় সংকীর্ণতার বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। সে জন্য আওয়ামী ক্ষমতাসীনরা ব্যাংক-বীমা, শেয়ারবাজার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেক্টর সবই আত্মসাৎ করেছে।
এখন বেওয়ারিশ লাশ দাফনের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের উপরেও নেকনজর পড়েছে। বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায়ের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম-এর উপরে চড়াও হয়েছে যুবলীগের মহানগরীর নেতারা। এই ঘটনা জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। আর কিছুদিন পর হয়তো আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লাশের কাছ থেকেও চাঁদা চাইবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, গণমাধ্যমের বিরাট অংশ এখনো সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে। তবে ক্ষুদ্র একটি অংশ যে পা চাটছে ও সুবিধার ঝোল খাচ্ছে তা জনগণ দেখছে। সংবাদ মাধ্যমের গলায় দড়ি ঝোলাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে ওবায়দুল কাদের সাহেবদের তৃপ্তি মিটছে না, তাই এখন গোটা গণমাধ্যমকেই পকেটে ঢোকানোর চেষ্টায় কিছুটা বেগ পাওয়াতে আফসোস করে নানা কথাবার্তা বলছেন। রিজভী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা ও বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় কাহার আকন্দের দাখিলকৃত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যুক্তিসহ প্রশ্ন তুলেন। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী ও সমর্থক তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দের পরিচয় ইতিমধ্যে খানিকটা দেয়া হয়েছে। তিনি ‘চার্জশিট মহাকাব্য’ রচনায় সিদ্ধহস্ত বলেই তাকে ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার দায়িত্ব যে দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
তিনি রঙধনুর রঙ মিশিয়ে কাল্পনিক রিপোর্ট তৈরি করতে দক্ষ, এর প্রমাণও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির নির্দোষ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য কর্মকর্তাদেরকে কাল্পনিক গল্প তৈরি করে ফাঁসানোর ব্যাপারে কাহার আকন্দ শেখ হাসিনার ইচ্ছাপূরণে সেই কাজটিই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলায় তারেক রহমানের নাম জড়ানো সম্পূর্ণরূপে চক্রান্তমূলক ও সরকার প্রধানের ক্রোধ ও ঈর্ষার ঝাল মেটানোরই বর্ধিত প্রকাশ। জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অবৈধ সরকার প্রধানের প্রতিদিনই নানা প্রকাশের আক্রমণ নব নবরূপে স্ফুরিত হচ্ছে। আর কাহার আকন্দদেরকে দিয়ে সরকার সেই আক্রমণেরই প্রকাশ ঘটাচ্ছে।
