ঢাকা কাস্টমস হাউজের কুরিয়ার শুল্কায়নে মিজান-মুখলেস-কানা সুমন সিন্ডিকেড : গেট কন্টাক্টে পণ্য খালাসে কাস্টমস সহায়তা: সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব

বিশেষ সংবাদদাতা : ঢাকা কাস্টমস হাউজের কুরিয়ার শুল্কায়নে মিজান-মুখলেস-কানা সুমন-সবুজ-পলাশ সিন্ডিকেড প্রায় দেড়যুগ ধরে তাদের রামরাজত্ব কায়েম করে চলেছে। বিভিন্ন খাচা থেকে জোরপূর্বক ভ্যালেয়েবল পণ্য পাচার করছে অন্যদিকে পণ্যের মিস ডিক্লালেশনে ও ডুব্লিকেট আইপি দাখিল করে দেদারচ্ছে পণ্য পাচার করছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরে তা খতিয়ে দেখছে। এই সিন্ডিকেট সদস্যরা নিজেরাই পণ্যের এসেসমেন্ট/এক্সামিন করে নিজেরই কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাদের নামের সীল মেরে সাইন নকল করে পণ্য পাচার করছে। র‌্যাব ইতিপূর্বে এই সিন্ডিকেট সদস্যদের কয়েকজন গ্রেফতার করে তাদের বলয় থেকে কাস্টমস কর্মকর্তাদের নামের সীল উদ্বার করেছিল। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানা মামলা হয়। কিন্ত পরবর্তীতে পুলিশ ম্যানেজে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ায় সিন্ডিকেট সদস্যরা পার পেয়ে যায়। শুধু এ ঘটনায়ই নয়Ñ এই সিন্ডিকেট সদস্যরা ৬ কাস্টমস কর্মকর্তাকে ফিল্মিস্টাইলে মারধর করে ৩০ কোটি টাকার পণ্য ছিনিয়ে নেয়ার সময় পুলিশ সিন্ডিকেট সদস্য এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে। ওই নেতা জেল খেটে জামিনে আছেন। এ ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তা শাজাহান বাদি হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন, মামলার চার্জশীটও হয়।
একই প্রক্রিয়ায় গত ১১ আগস্ট কুরিয়ার শুল্কায়ন দিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে পণ্য পাচারের সময় বিমানবন্দর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য কানা সুমনকে গ্রেফতার করেছে। মিজান- মুখলেস-পলাশ-সবুজ পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে। কানা সুমনকে পুলিশ রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিঙাঘাসাবাদ শেষে ২০ আগস্ট জেলখানায় পাঠনো হয়েছে।র‌্যাব-পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য মুখলেস, মিজান, পলাশ, সবুজ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ কয়েকদফা অভিযান চালিয়েও এদেরকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুরিয়ারে সিন্ডিকেট সদস্যরা- তারা নিজেরা ইনভয়েস বানিয়ে দেয়, মিস ডিক্লারেশনে পণ্য পাচার করে নিয়ে যায়। আবার যদি পণ্যের ট্যাক্স ১০ লাখ হয় তারা তা আন্ডার ইনভয়েস করে ১শ’ ডলার দেখায়। এভাবে প্রতিদিন সরকারি কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাকি দিয়ে গেট কন্টাক্টে পণ্য পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে। এসি রুব্বা ইফ্ফাত আমলে কুরিয়ারে প্রতিদিন দেড় কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করা হতো। আর এখন তা ধস নেমেছে।
এই সিন্ডিকেট সদস্যরা কুরিয়ারে বিভিন্ন খাচার লোকজনকে মারধর করেও পণ্য ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সিন্ডিকেট সদস্যরা এতোই শক্তিশালি যে, ওরা ইতিপূর্বে কুরিয়ারে কর্মরত একজন সহকারি কমিশনারের হাত কেটে নিতে চেয়েছিল-যা ওই সময় পত্রপত্রিকায় হেডলাইন হয়। সাধারণ সিএন্ডএফদেরও এরা হুমকি দেয়, কাজ করতে দেয় না। প্রতি খাচা থেকে পণ্য শুল্কায়নের আগেই সিন্ডিকেট সদস্যরা দামি দামি পণ্য বের করে ফেলে। অনেক সময় নামমাত্র ট্যাক্স দিয়ে নিয়ে যায়। আইপিতে (ইমপোর্ট পারমিট) ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ডুব্লিকেট আইপি দাখিল করে কাস্টমসের এসেসমেন্ট টিমকে ম্যানেজ করে পন্য ছাড় করে নিয়ে যায়।এ প্রক্রিয়া প্রতিদিন চলছে।যা গোপন তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। সিন্ডিকেট সদস্যদের উত্তরার অফিসে কাস্টমস অফিসারদের নামের সীল বানিয়ে পেপারসে মেরে দেয়। অনেক সময় সহকারি রাজস্ব কর্মকর্ত/ রাজস্ব কর্মকর্তারা সিন্ডিকেট সদস্যদের আমন্ত্রণে তাদের উত্তরাস্ত অফিসে গিয়ে ১/২শ’ পেপারে সই করে দিয়ে আসে।্ বিনিময়ে পকেট ভরে নিয়ে ‘নগদ নারায়ণ’। র‌্যাব-পুলিশ এই সিন্ডিকেট সদস্যদের পাকড়াওয়ে তৎপর রয়েছে। এ ব্যাপারে এনবিআর প্রশাসনসহ কাস্টমস সিআইসির নজরদারি চায় ব্যবসায়ীরা।