বিশেষ সংবাদদাতা : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ঢাকা কাস্টমস হাউজ চলতি অর্থবছরে রাজস্ব বোর্ড থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার টার্গেটের কাছাকাছি পৌছে গেছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিনই পণ্যের আমদানি বাড়ছে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় রাজস্ব আদায় হচ্ছে, গ্রোথ বাড়ছে, শৃংখলা ফিরে এসেছে। এখন আর কাস্টমস কর্মকর্তারা পাচারকারিদের হাতে প্রহৃত হচ্ছেন না। কুরিয়ার শুল্কায়নে ধসনামা বিশৃংখল অবস্থা থেকে অনেকটাই শৃংখলা ফিরে এসেছে। প্রতিদিন কুরিয়ার শুল্কায়নে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিসি কুরিয়ার মো. সাইদুল ইসলাম। গতমাসেও ৫ পাচারকারিকে পাকড়াও করে পুলিশে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে।
কিন্ত বাধ সেধেছে এয়ারফ্রেইট আমদানি শাখার ১ নং, ২নং ও সম্প্রতি উদ্বোধনকৃত ৩ নম্বর গেট। এই তিনটি গেটে নজরদারি বৃদ্বি করা গেলে রাজস্ব ‘সিংহগতি’তে চলবে বলে অনেকে জানিয়েছেন। বিশেষ ১ নং ডেলিভারি গেটে শতভাগ নজরদারি কার্যকর করা গেলে এই এক গেট থেকেই প্রতিদিন ১০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় সম্ভব বলে অনেকে জানান। তবে এই ১ নং গেট ঢেলে সাজাতে হবে। ২০ কমার্শিয়াল ব্যবসার অন্তরালে পণ্যের শতভাগ কায়িক পরিক্ষা, শতভাগ পরিক্ষা-নীরিক্ষা ও নজরদারির আওতায় আনা গেলে রাজস্ব আদায় উত্তরোত্তর বৃদ্বি পাবে। এই ১ নং ডেলিভারি গেটটি মুাষ্টিমেয় ২০ কমার্শিয়াল ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। ওরা সবাই কাস্টমস কর্মকর্তাদের যেভাবেই হোক ম্যানেজ করে রাস্ব ফাকি দিয়ে, অনেক সময় নামকাওয়াস্তে ট্যাক্স দিয়ে ,অনেক সময় মিথ্যা ঘোঘণা দিয়ে পণ্য খালাস করে নিয়ে যাচ্ছে। তবে কাস্টমস কর্মকর্তারা যে সব সময় ম্যানেজ হয়ে যাচ্ছেন- তা কিন্ত নয়। অনেক সময় এই গেট দিয়ে পাচারের সময় জীবনের ঝুকি নিয়ে ডেলিভারি হওয়ার পরও মাঠে দৌড়ে গিয়ে পাচারকৃত পণ্য জব্দ করতেও সক্ষম হয়েছেন। অনেক সময় পণ্যের স্টপ ডেলিভারিও করেছেন। একরাতে এক কমার্শিয়াল ব্যবসায়ীর পণ্য স্টপ ডেলিভারি করে ১৬ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে কাস্টসের সব বিভাগের সমন্বয় থাকতে হবে। কাস্টমসের শুল্ক গোয়েন্দা, প্রিভেনটিভ, এসেসমেন্ট- এক্সামিন কর্মকর্তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করতে পারলেই এয়ারফ্রেইটের ১ নম্বর ডেলিভারি গেটে শৃংখলা ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।ব্যসায়ীরা জানান, এই ১ নং ডেলিভারি গেটে কোন কোন কমার্শিয়াল ব্যবসায়ীকে ট্যাক্স কমিয়ে দেয়া আবার কোন কোন ব্যবসায়ীর ট্যাক্স এমনভাবে বৃদ্ধি¢ করা হয় যে ওই পণ্য ডেলিভারি নিয়ে বাজারে বিক্রি করলে ওই ব্যবসায়ীর লাভ তো দূরের কথা- চালান বা পুজিও ঘরে আসবে না। প্রতিযোগিতায় এ সব ব্যবসায়ীরা টিকতে না পেরে ব্যবসা লাটে উঠাচ্ছে। হাতেগোনা ২০ ব্যবসায়ীকে গোয়েন্দা নজরদারিতে এনে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যথাযথ ট্যাক্স আদায়ের ব্যবস্থা করলেই ১নং ডেলিভারি গেটে শতভাগ শৃংখলা ফিরে আসবে বলে অনেকে মনে করেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টমস হাউজের দুই দুইবার পদায়নকৃত চৌকস কমিশনার প্রকাশ দেওয়ান জানান, আমরা চেষ্টা করছি যথাযথ রাজস্ব আদায় যেন হয়, প্রতিদিনই পণ্যের আমদানি বাড়ছে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় ট্যাক্স আদায় হচ্ছে, গ্রোথ বাড়ছে। তিনি জানান, রাজস্ব বোর্ড নির্ধারিত টার্গেটের কাছাকাছি পৌছে গেছি। আশা করছি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই লক্ষ্যমাত্রা ‘ফুলফিল’ হয়ে যাবে।
ডিসির পিয়ে নাসির এখনও বহাল: কয়েক ডিসি এয়ারফ্রেইট বদলি হলেও তার পিএ নাসির এখনও বহাল। তাকে এয়ারফ্রেইট থেকে বদলি করে এমন সাধ্য কার? তিন বছর সময় অতিক্রান্ত হতে চললেও ডিসির পিএ নাসির সেখানে বহাল তবিয়তে আছেন। ২০ কমার্মিয়াল ব্যবসায়ির সাথে অনেকটা স্যারের পক্ষে লিয়াজোও করে থাকেন।
প্রিভেনটিভে ২ সিপাইর ৩ বছর : প্রিভেনটিভে প্রায় ৩ বছর ধরে কর্মরত সিপাই অনুপম ও শফি। মুসলেম, দিবাকরকে বদলি করা হলেও অনুপম, শফি বহাল। এই দুই সিপাই এয়ারপোর্টে পাচারকারিচক্রের সহায়তা করে থাকেন বলে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছে। এই ২ সিপাই একটা ভাল কাজ করলে ১০টা খারাপ অর্থাৎ অনৈতিক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। কিন্ত কাস্টমস কর্তৃৃপক্ষ সিপাই অনুপম ও শফিকে ভাল জেনে তিন বছর যাবত প্রিভেনটিভে আগলে রেখেছেন।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
