শাহজালালে ভয়াবহ মানব পাচারের নমুনা: ৬ জন ধরা খাবার পর পালিয়ে রক্ষা পেল ৭১ জন, কন্ট্রাক্ট ছিল ৫ লাখ টাকা করে: ইমিগ্রেশন পুলিশ, প্রবাসী কল্যাণ ডেক্স, সংশ্লিষ্ট এয়ার লাইনস, বেবিচকের বারি মোল্লার নেতৃত্বে অসাধু কর্মচারিরা-যারা কয়েকযুগ ধরে শাহজালালে কর্মরত জড়িত বলে গোয়েন্দা সন্দেহ! জাল ভিসা নিয়ে বোর্ডিং গেট আইনেস পর্যন্ত যায় কিভাবে?

নিউজ ডেক্স : ‘বডি কন্ট্রাক্টে’ মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ৭৬ যাত্রী। তবে গোয়েন্দা নজরদারিতে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর বোর্ডিং গেটে পাঁচ যাত্রী আটকা পড়েন। তাদের আটকা পড়ার খবরে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায় আরও ৭১ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রী। এই ঘটনার পর সবার মনে প্রশ্ন জাল ভিসা নিয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত কীভাবে গেলো ওই পাঁচ যাত্রী। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে গোয়েন্দারা। শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে।
মানব পাচারকারি সিন্ডিকেড বিভিন্ন কোড ব্যবহার করে, এবারের কোড ছিল ‘শাপলা’। এই ‘শাপলা’ কোড বলতে না পারায় ওরা আটকে যায়।
বেবিচকের কর্মচারি বারি মোল্লার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী মানব পাচার সিন্ডিকেড শাহজালালে দীর্ঘদিন সক্রিয়। সিন্ডিকেড সদস্যরা শাহজালালে কেউ ১৬ বছর, কেউ ১২ বছর, কেউ আবার ২৮ বছর ধরে কর্মরত। এদের মধ্যে গাজি তোফায়েল, গাজি আজাদ, মিজানুর রহমান নোয়াখালি, আমিনুল ইসলাম, আমির হোসেন, সুমন, জিন্নাহ, সাঈদ, মনির,ভুইয়াসহ অর্ধশত। এদের মধ্যে ১/১১ এর সময় কয়েক জন ধরা খেয়ে চাকরিচ্যুত হয়েছে্‌, এদের মধ্যে ফকা চৌধুরি ও শহীদ দর্জি রয়েছেন। গোয়েন্দা রিপোর্টে এদেরকে শাহজালাল থেকে বদলির সুপারিশ করা হলেও তারা এখনও বহাল।
গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টরা জানান, শনিবার রাতে একটি বড় গ্রুপ জাল ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানো হয়। এর ফলে মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের পাসপোর্ট ভিসা চেক করা শুরু হয়। চেকিংয়ের এক পর্যায়ে বোর্ডিং গেটের কাছে পাঁচজন যাত্রীর ভিসা চেক করে দেখা হয় সেগুলো জাল। তখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই খবর একই গ্রুপের অন্যান্যদের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে বাকি ৭১ জন বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়।
বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সুত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র বডি কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠিয়ে আসছে। যেসব দেশে লোক পাঠানো হয় এসব দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া অন্যতম। সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ করে কেউ ট্যুরিস্ট ভিসায় কাজ করার উদ্দেশ্যে যায় অথবা জাল ভিসায় সেদেশে পাঠানো হয়। জাল ভিসায় যাওয়ার পর মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনে ধরা পড়ে। সেখান থেকে পরে দেশে ডিপোর্টেড করা হয়। এভাবে অনেক যাত্রীকে মালয়েশিয়া দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। ওমরা ভিসায়ও মানব করা হয়ে থাকে। রাজধানির পল্টনে এদের নেটওয়ার্ক। ইমিড়গ্রশন পুলিশের ৩ শিফটে ৬ করে ১৮ জন এ চক্রের সাথে জড়িত বলে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। ম্যানপাওয়ার কর্মকর্তা মহিদুল থেকে শুরু করে ৩ শিফটে আরো ৬ জন জড়িত রয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে।
অবৈধ ভাবে বিদেশ যেতে কাগজপত্রে ত্রুটি রেখেই বিনা বাধায় ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দেয় একটি অসাধু চক্র। যা ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত। এর সঙ্গে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ, প্রবাসি কল্যাণ ডেক্স এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা এবং বেবিচকের কমচারিরা যারা শাহজালালে দেড়যুগের বেশি সময় ধরে কর্মরত-এদের মধ্যে গাজি তোফায়েল, তার শ্যালক আজাদ, নোয়াখাইল্যা মিজান, সাঈদ, জিন্নাহসহ অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারি জড়িত থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা। গোয়েন্দা রিপোর্টে এদের বদলির সুপারিশ করা হলেও শাহজালাল কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয় না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা থাকলেও ৭৬ জন শেষ পর্যন্ত বিমানে ওঠেননি। এর মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের অফলোড করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমান সংস্থার চেক-ইন কাউন্টার থেকে ভিসা যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাদের ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়েছিল। পরে ইমিগ্রেশনও বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়।ম্যানপাওয়ার কার্ড দেয় প্রবাসি কল্যাণ ডেক্স, এর সাথে ম্যানপাওয়ার কর্মকর্তা মহিদুলের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা উচিত। বোর্ডিং গেটে গিয়ে আইনেসে পাঁচজনের ভিসা জাল বা অবৈধ হিসেবে শনাক্ত হয়।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
৭১ বা ৭৬ জন নয়- এ প্রক্রিয়ায় শাহজালাল দিয়ে অহরহ মানব পাচার হয়ে যাচ্ছে-কারণ বেড়ায় ক্ষেত খায়!
এ ব্যাপারে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে,

কোডের গরমিলে আটকে গেল মানব পাচার

একটি মাত্র গোপন কোড ‘শাপলা’ বলতে না পারায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভেস্তে গেছে মালয়েশিয়াগামী ৭৬ যাত্রীর মানব পাচার পরিকল্পনা। শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টুরিস্ট ভিসার আড়ালে ‘বডি কন্ট্রাক্ট’র মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সময় বোর্ডিং গেটে ধরা পড়েন তারা। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ও সিভিল এভিয়েশনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা মানব পাচার সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বোর্ডিং গেটে কোডের গরমিল হওয়ায় প্রথমে পাঁচ যাত্রীকে আটকে দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে একই সিন্ডিকেটের আরও ১০ জন তড়িঘড়ি করে বিমানবন্দর ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গোয়েন্দা জালে তারাও আটকা পড়েন। এদিকে চেক-ইন কাউন্টারে অপেক্ষমাণ বাকি ৬১ যাত্রীও বোর্ডিং পাশ না নিয়েই একে একে সরে পড়েন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে তাদের মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগিব সামাদ যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জড়িতদের শনাক্ত এবং পুরো নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে কাজ করছেন।
সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা ‘বডি কন্ট্রাক্ট’র মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের বিষয়টি আগেই জানতে পারেন। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু হয়। সন্দেহজনক যাত্রীদের পাসপোর্ট ও ভিসা পুনরায় যাচাইয়ের সময় একে একে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এতে ২৮৮ যাত্রীর ভ্রমণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন যেতে পারেননি। এর মধ্যে বোর্ডিং গেট থেকে ১৫ জনের পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের অফলোড করা হয়।
যাত্রা বাতিল হওয়া ৭৭ জনের মধ্যে একজনের পাসপোর্ট ও এয়ার টিকিটের কপি যুগান্তরের হাতে এসেছে। টিকিট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভার্চুয়াল এয়ার ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এটি ইস্যু হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পল্টনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ও কথিত ট্রাভেল এজেন্ট হারুনের মাধ্যমে এসব যাত্রীর মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ (ওয়ার্ক পারমিট) কার্যত বন্ধ থাকায় টুরিস্ট ভিসার আড়ালে তাদের পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছিল একটি নির্দিষ্ট গোপন কোড ‘শাপলা’। কিন্তু বোর্ডিং গেটে সেই কোড বলতে না পারায় ভেস্তে যায় পুরো মানব পাচার পরিকল্পনা।
এ ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, ভিসায় গুরুতর অসঙ্গতি থাকার পরও কীভাবে এসব যাত্রী চেক-ইন ও ইমিগ্রেশনের একাধিক স্তর নির্বিঘ্নে পার হয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। একাধিক সূত্রের দাবি, চেক-ইন কাউন্টারে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাদের ভিসা ‘ভেরিফায়েড’ হিসাবে গ্রহণ করা হয়। এরপর ইমিগ্রেশন থেকেও বিদেশ যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়।
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্র অর্থের বিনিময়ে জাল বা ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্রধারী ব্যক্তিদের বিমানবন্দরের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন ধাপ পার করিয়ে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। এ কাজে বিমানবন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাইরের দালাল চক্র জড়িত। সাম্প্রতিক কয়েকটি গোয়েন্দা তদন্তেও এমন একটি চক্রের অস্তিত্ব এবং বিমানবন্দরের ভেতরের কয়েকজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ‘উত্তরা’, ‘সিলেট’, ‘চশমা’, ‘একাশি’, ‘নদী’, ‘শাপলা’ ও ‘বিমান’ এ ধরনের গোপন কোড ব্যবহার করে দালাল চক্রের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাউন্টারে যাত্রী পাঠানো হয়। এরপর তাদের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স এবং এক্সিট গেট পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।
যুগান্তরের হাতে আসা একটি গোপন তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে বিদেশ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে (ডিপোর্টেড) দেশে ফিরেছেন ২২ হাজার ৩৭২ জন বাংলাদেশি। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৭২৮ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ মানব পাচারের শিকার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে মানব পাচার চক্রে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ৯ জনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের একাধিক ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবল। এতে সিভিল এভিয়েশনের একজন অ্যারোড্রাম অপারেটরের নামও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চলতি বছরের এপ্রিলে প্রতিবেদনটি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) জমা দেওয়া হয়।
এর আগে ৩০ মার্চ এক অভিযানে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক মানব পাচারে জড়িত সিভিল এভিয়েশনের অ্যারোড্রাম অপারেটরের আব্দুল বারী মোল্লাকে আটক করা হয়। সরকারি চাকরির আড়ালে তার নেতৃত্বেই গড়ে উঠেছে মানব পাচার চক্র। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই চক্র ওমরাহ ভিসায় যাত্রীদের প্রথমে সৌদি আরব পাঠায়। পরে কাতার, মিসর ও সিরিয়া হয়ে নৌপথে ইতালি নেওয়া হয়। এছাড়া ভারত, শ্রীলংকা ও দুবাই হয়ে একই রুটেও মানব পাচার করা হয়।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা না গেলে বিমানবন্দরগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি এয়ারলাইন্স ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থাও কমে যেতে পারে। তাই জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে।
বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব এসএম লাবলুর রহমান বলেন, যেহেতু তদন্ত প্রতিবেদনে বারী মোল্লার নাম এসেছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।