অবশেষে বেবিচকে ছাত্রলীগ ক্যাডারকে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি! ৫ জন বন্ঞিতই : বদলির পরও শাহজালালের নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালক এভসেক বহাল : শাহজালালে থাকার তদবির

স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃৃপক্ষ-বেবিচকে ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার কামরুজ্জামানকে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি দিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর বিমানবন্দরের কি-পয়েন্টে পদায়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বৈষম্য বিরোধী কর্মচারিরা বেবিচক চেয়ারম্যান বরাবর গত ০৭ এপ্রিল/২৫ অভিযোগ দায়ের করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃৃপক্ষ ওই অভিযোনামা রিসিভ করেছে। কিন্ত এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এর আগে বেবিচকের বৈষম্য বিরোধী কর্মচারিরা ৬ জন কর্মকর্তাকে দানব আখ্যায়িত করে কর্তৃৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ করে এবং এদেরকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়। কিন্ত ৭ মাস পরও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ তো দূরের কথা –উণ্টো এই ৬ দানবের অন্যতম, চট্রগ্রাম ভার্সিটির নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডারকে পদোন্নতি দিয়ে উপপরিচালক করে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর বিমানবন্দরের স্টোরের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বৈষম্য বিরোধী কর্মচারীরা তাকে পদাবনতিসহ শাহজালাল থেকে প্রত্যাহারের দাবি করেছে। ৬ দানবের ৫ জনকে পদোন্নতি না দিয়ে কামরুজ্জামানকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। ৫ জন বন্ঞিত—ই রয়ে গেলেন!
উল্লেখ্য, বেবিচকে আরো নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতারা দিব্যি চাকরি করছেন। শুধুমাত্র আওয়ামী সাবেক এক মন্ত্রীর লোককে শাহজালালের স্টোর থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
বেবিচকে বিভাগীয় পদোন্নতি বোর্ডে – ডিপিসি যারা দায়িত্বরত তারাও আওয়ামী দোসর বলে বৈষম্য বিরোধী কর্মচারিরা দাবি করেন। সরকার পতনের ৭ মাস পরও এদেরেকে বেবিচক থেকে বদলি করা হচ্ছে না। গণমাধ্যমে এদের নিয়ে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও কতর্ৃৃপক্ষের টনক নড়ছে না।
বদলির পরও বহাল কার স্বার্থে ? এ দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ও এভসেক পরিচারককে বদলি করার এক সপ্তাহ পরও তারা বহাল। এই দু’কর্মকর্তা শাহজাললে থাকার জন্য তদবির করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।তদবিরের ব্যাপারে সরকারের একজন মহিলা উপদেষ্টার কথা শোনা যায়। যিনি আবার উত্তরা থেকে পুরো বিমানবন্দর এলাাকায় নীরব পরিবেশ গড়ে তোলার মূল উদ্যোক্তা।
এ দিকে বেবিচকের অর্গানুগ্রামে পরিচালক থেকে নির্বাহী পরিচালক এবং এভসেক পরিচালক করার নিয়ম থাকলেও এবং অনেক পরিচালকের ‘পরিচালক হিসেবে ২ বছর অতিক্রান্ত হলেও’ তাদের এ দ’ুপদে পদায়ন না করে বিমান বাহিনী থেকে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টি অবগত থাকলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে সূত্রে জানা যায়। জনপ্রশাসন সচিব এ ব্যাপারে নজর দিবেন বলে অনেকে মনে করছেন।
বেবিচকে যোগ্য ও দক্ষ পরিচালক থাকা সত্ত্বেও কেন বিমান বাহিনী থেকে বার বার প্রেষণে শাহজাললের নির্বাহী পরিচালক এবং পরিচালক এভসেক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তা রহস্যজনক।
যোগ্য প্রার্থী থাকার পর এবারও প্রেষণে বিমান বাহিনী থেকে জনবল পদায়ন করা হয়েছে। নতুন পরিচালক ও পরিচালককে বদলির প্রঙাপন জারি করা হলেও তা ভেস্তে যাচ্ছে।
এ নিয়ে যোগ্য প্রার্থীরা আইনগত দিকটি খতিয়ে দেখছেন। সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতো আদালতে যাবার জন্য মনোনিবেশ করা হচ্ছে বলে জানা যায়। যদিও নতুন অর্গানুগ্রামে প্রধান নিরাপত্তার এই- পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
৬ মাসের একটিং প্রধান প্রকৌশীর একশন নেই। তার গত এক সপ্তাহের কার্যদিবসে এক সিনিয়র প্রকৌশলীকে তার সাবেক পদে বসানোর জন্য চেয়ারম্যান বরারবর সুপারিশ করা হয়েছে মাত্র। ইএম / সিভিল ডিভিশনের কোন প্রকৌশলীকে বদলি বা সংযুক্তি বাতিল বা নবায়ন করা হয়নি। ইএম-এর সহকারি প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান সেলিমকে বিদেশে কারিগরি পরিদশর্নের পর দেশে আসার পর তাকে তার পুরনো জায়গায় পদায়নের প্রক্রিয়া চলছে। সিভিল প্রকৌশলী যশোরের কাজি বায়জীদকে বদলির ৭ মাস পরও যশোরেই রাখা হয়েছে, তাকে বরিশাল পাঠানো হয়নি। কেন তার চাকরি যশোর বিমানবন্দরে রাখা হয়েছে- তা প্রশ্নবিদ্ধ, অথচ একই বদলির প্রঙাপনে ইএম প্রকৌশলী শামীমকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

ধীরগতিতে চলছে একটিং প্রধান প্রকৌশলীর দাপ্তরিক কাজ- যাকে বলে কচ্ছপগতি। অনেকে আশংকা করছেন কম্ভুকর্ন হয়ে যায় কিনা। এতে করে বড় বড় প্রকল্প মাঠে মারা যেতে পারে বলে অনেকে আশংকা করছেন।