ডেক্স রিপোর্ট : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের শুরু থেকেই বেশ অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ। ঐক্যফ্রন্টের নানামুখী তৎপরতায় চাপের মুখে রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন এ দলটিকে। ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি দল ও সরকারের তরফ থেকে বরাবরই নাকচ করা হয়েছে। তবে কাল বৃহস্পতিবার গণভবনে আহূত সংলাপে সাত দফা নিয়ে আলোচনা উঠলে দাবিগুলো মেনে নেয়া হবে কি না বা ওই দাবিগুলোর কোন দফা কতটুকু যৌক্তিক এবং সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন দফা আছে কি না- এসব নিয়ে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবিই সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক মনে করেন ক্ষমতাসীনেরা। ফলে সংলাপে সাত দফার বিষয়ে আলোচনা তুলবে না আওয়ামী লীগ। প্রথমে সাত দফা এড়িয়ে কিভাবে সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে ঐক্যফ্রন্ট সংলাপে সাত দফা তুললে প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম দফা না মানার ব্যাপারে অনড় থাকবে আওয়ামী লীগ। প্রথম দফায় আছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনাসাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপে সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদাসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় দফায় উল্লেখ আছে, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান। তবে কিছুটা ছাড় দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে ৩, ৫ ও ৬ দফার আংশিক বিবেচনায় নেয়া হতে পারে। এটাও নির্ভর করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গতিবিধির ওপর।
তৃতীয় দফায় উল্লেখ আছে- বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। পঞ্চম দফায় আছে, নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি মতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ মতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা। ষষ্ঠ দফায় উল্লেখ আছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচনপ্রক্রিয়া পর্যবেণে ভোটকেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনকালীন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা। এই তিনটি দফা কাটছাঁট করে আংশিক আমলে নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম দিনে ঐকমত্য না হলে ঐক্যফ্রন্টের সাথে স্বল্প মেয়াদে আরেকটি তারিখ নির্ধারণ করে সংলাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সরকার। অবশ্য এরই মধ্যে সরকারের তরফ থেকে সংবিধানবহির্ভূত কোনো দাবি মানা হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে।-
সূত্র আরো জানায়, শর্তের বেড়াজালে আটকিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সাত দফার বাইরে বিকল্প পদ্ধতি তুলে ধরারও প্রস্তাব দিতে পারে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে। তবে দাবি আদায়ে ঐক্যফ্রন্টের তীব্র চাপ ও আন্দোলনের হুমকি অব্যাহত থাকলে তাদের দাবি বিবেচনায় নেয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম দফা কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। ওই দাবিগুলো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এগুলো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। অথচ নির্বাচন একেবারেই কাছাকাছি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও সময়ের অজুহাত দেখিয়ে ওই দাবিগুলো এড়িয়ে যেতে চায় আওয়ামী লীগ।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সরকারি দলের সংলাপে খোলামেলা আলোচনা হবে। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি ও ১১লক্ষ্য আলোচনার টেবিলে তোলা হবে। আলোচনার টেবিলেই সিদ্ধান্ত হবে। ঐক্যফ্রন্টের কিছু দাবি সংবিধানসম্মত নয়, সে ক্ষেত্রে কী হবে- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা তাদের দাবিতে অটল থাকবে, না সরে আসবে, দেখেন না কী হয়।
