আওয়ামী লীগকে ছাড়া জাতীয় ঐক্যের নামে দেশে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে :কাদের

একুশে বার্তা ডেক্স : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে রেখে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ঘোষণা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। আসলে জাতীয় ঐক্যের নামে দেশে সাম্প্রদায়িক  মেরুকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। যা দেশের জন্য কখনো শুভ হতে পারে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে আয়োজিত রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তৃতায় ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়াও ১৪ দলে আরো দল রয়েছে। মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি (এ) রয়েছে। দেশে আমাদের জোট ও মহাজোটের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কখনো জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

‘জাতীয় ঐক্য’ শব্দ দুটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যে নামেই তারা যান, ‘জাতীয় ঐক্য’ শব্দ দুটি তাদের ব্যবহার না করাই ভালো।

নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী

ছাড়া আর কেউ জানেন না

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষণা করবে কখন নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করবে এবং কখন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটা সরকার বা দলের কাজ নয়। ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নিশ্চিত হলেও এটা বলার দায়িত্ব আমাদের নয়, বলার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। ইসিকে বিব্রত করা কারো উচিত নয়।

জনগণের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যরাই মনোনয়ন পাবেন

ওবায়দুল কাদের দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণের কাছে যে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি হলো দেশের জনগণ। তিনি বলেন, জরিপ রিপোর্ট আছে, আমলনামা, এসিআর আছে, ছয়মাস পরপর আপডেট হচ্ছে। সর্বশেষটাও যোগ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম যাচাই বাচাই করছে। আমাদের জনমতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দিতে হবে।

দলের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলার বড় কারণ মনোনয়ন পেতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দলীয় মনোনয়ন লাভের অসুস্থ প্রতিযোগিতা দলের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলার সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের দায়িত্বশীল নেতারা এ ধরনের প্রতিযোগিতা করলে কর্মীরা কি করবে? তবে শুধু একজন মনোনয়ন চাইবে তা হতে পারে না। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা থাকা ভালো। প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা অসুস্থতা ও অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। এটা ভালো নয়। আত্মঘাতী প্রচার বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনের এই মুহূর্তে দলের কোনো কমিটি ভাঙা যাবে না। সেই সঙ্গে কোনো নতুন কমিটিও গঠন করা যাবে না। এটা কেন্দ্রীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

সভায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, এস এম কামাল হোসেনসহ রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।