বিনোদন ডেক্স : আজ ভারতীয় কিংবদন্ত্রী অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের জন্মদিন। তিনি মারা যান ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি। তাঁর জন্মগত নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। ১৯৬৩ সালে সাত পাকে বাঁধা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সুচিত্রা সেন ‘সিলভার প্রাইজ ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস’ অ্যাওয়ার্ড জয় করেন। ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করে। শোনা যায়, ২০০৫ সালে তাকে ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। কিন্তু সুচিত্রা সেন জনসমক্ষে আসতে চান না বলে সে পুরস্কার নেননি। ২০১২ সালে তাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সম্মাননা বঙ্গবিভূষণ প্রদান করা করা হয়। তিনি জন্মেছিলেন ১৯৩১ সালে পাবনা জেলার সদরে। তাঁর বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন শিক্ষক ও মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। তিনি ছিলেন কবি রজনীকান্ত সেনের নাতনী। সুচিত্রা-উত্তম জুটি একসময় বিখ্যাত ছিল। তার জীবনও রহস্যঘেরা। উত্তম সেন যেদিন মারা যান অনেকটা সেই দিনটিতেই যেন বিদায় নিলেন সুচিত্রা সেনও। উত্তমের শেষ শয্যার পাশ থেকে উঠে ফিরে গেলেন কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ২৪/৪/৪ ঠিকানার বাড়িতে। সেই যে আড়ালে গেলেন, তারপর ফিরেন মাত্র একবারই। ১৯৮২ সালের কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। রবীন্দ্রসদন প্রেক্ষাগৃহের সীমিত পরিসরে জমায়েতে অল্পসংখ্যক মানুষের সামনে উপস্থিত সুচিত্রা। সে-ই শেষবারের মত। এরপর থেকে আর কখনো জনসম্মুখে আসেননি তিনি। কেন? প্রশ্ন ভক্তদের।এর পর থেকে সুচিত্রা লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করেন মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কাটান। তবে গুঞ্জন রয়েছে, নিজেকে আড়াল করে মাঝে মধ্যে বেলুড়মঠে বিবেকানন্দ আশ্রমে যেতেন। ২০১১সালে একটি টিভি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুচিত্রা কন্যা মুনমুন সেন আর তার দুই মেয়ে রাইমা-রিয়া। সুচিত্রা সেন কেমন আছেন, কীভাবে সময় কাটান জিজ্ঞেস করা হলে কোন জবাব দেননি তারা। সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন প্রসঙ্গ। রাইমা রিয়া কখনো কোন সাক্ষাৎকারে ভুলেও দিদিমা সম্পর্কে একটা কথা বলেন না। সংবাদমাধ্যম সুচিত্রার খবরের জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও তার নাগাল পায়নি। যারা সুচিত্রার দেখা পেতেন তারা ছিলেন সবসময়ই চুপ। তবে কাছের দুই একজন দেখা করতে যেতেন। একজন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যজন কনা বসুমিশ্র। তারা আনন্দবাজারকে মৃত্যুর পর ১০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘সুচিত্রা সেন মনে করতেন তার বার্ধক্য দেখতে পেলে ভক্তরা কষ্ট পাবে তাই আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। আর ভাল সিনেমার অফারও পাচ্ছিলেন না। ফলে অবসন্নতায় ভুগতেন।’
সুচিত্রার চিকিৎসক প্রফুল্ল গুপ্ত বলেছেন, ‘এখানে একটিই কারণ থাকতে পারে। এটি হচ্ছে যারা খুবই সুন্দর তারা নিজেদেরকে বয়স্ক দেখতে অপছন্দ করেন। সম্ভবত তাদের এই পরিবর্তনকে তারা আমাদের চেয়েও কঠিনভাবে নেন। এটি একটি মানসিক রোগ। রোগের নাম ‘নার্সোফোবিয়া’। তিনি এ রোগে ভুগছিলেন। তবে একা সময় ভালই কাটাতেন। গান শুনতেন , নিজেও গাইতেন। বই পড়তেন। মুভি দেখতেন। মৃত্যুর আগে সন্ধ্যায় ছাদে গিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকতেন। একদিন জিজ্ঞেস করলে বলেছিলেন, জন্মেছি যখন মরব তো অবশ্যই, মরার পর কি ওই দূর আকাশে মিলিয়ে যাবে? সময়ডটকম
