‘আফ্রিকার জংগল, পাগলের পর এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার গোরস্থানে চলে গেছে’

একুশে বার্তা প্রতিবেদক : বহুল আলোচিত- সমালোচিত তত্বাবধায়ক উচ্চ আদালত, আফ্রিকার জংগল, পাগলের থেকে এবার গোরস্থানে চলে গেছে। আর তত্বাবধায়ক সরকার গোরস্থানে যাওয়ার ব্যাপারে  এবার   মন্তব্য করলেন ক্ষমতাসীন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র উদ্ধোধন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তত্বাবধায়ক সরকার গোরস্থানে চলে গেছে মন্তব্য করে বলেন , এ দেশে আর তত্বাবধায়ক সরকার আসবে না,  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এক সময় তত্বাবধায়ক সরকার আফ্রিকার জংগলে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছিলেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী। আর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম জিয়া মন্তব্য করেছিলেন পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়।  বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আওয়ামীলীগ যখন বিরোধী দলের কাতারে সামিল হয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছিল’ ১৮৩ দিন হরতাল কর্মসূচী পালন করছিল-  তখন বেগম জিয়া জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকাবস্থায়  এই মন্তব্য করেছিলেন। পরে অবশ্য বেগম জিয়ার জোট সরকার গণ আন্দোলনের মুখে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেন এবং সংসদে বিল পাস করে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেন। দেশে  চারবার তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্ত বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর তত্বাবধায়ক সরকারের কনসেপ্ট আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং আদালত  তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দেন।

২৪ জানুয়ারি  বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ একর জমির উপর নবনির্মিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধন শেষে তত্বাবধায়ক সরকার গোরস্থানে চলে গেছে  বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নির্বাচন সময় মতোই শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি যদি নির্বাচন না করে, তাহলে বিএনপিকে বাটি চালান দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নিশিত নন্দী মজুমদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি), পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এমপি জিয়াউল হক মৃধা, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) রেজওয়ানুর রহমান, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. আবু সাঈদ। সমাবেশে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।