স্টাফ রিপোর্টার : নামেই সিটি কর্পোরেশন, কাজে গ্রামের কোন জনপদের রাস্তার চিত্র। অল্প বৃষ্টিতেই হাটু পানি জমে যায় , সন্ধ্যার পর মেইন সড়কসহ প্রতিটি শাখা সড়কে বাতি জ¦লে না, ভুতুড়ে অবস্থা , ডিএনসিসির লাইটপোস্ট থাকলেও টিউবলাইট অকেজো, বাতি জ¦লে না। এ অবস্থা বছরের পর বছর জুড়ে। আশকোনা – হজ ক্যাম্প – নদ্দা- হলান- দক্ষিণখান মূল সড়কের কথাই এখানে বলছি। শাখা সড়কে অবৈধ দখলদার, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বরফ কলের বিকট শব্দে পাশের মসজিদে মুসুল্লিদের নামাজে প্রতিনিয়ত বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রধান এ সড়টি সংস্কার ও আন্ডারড্রেনেজ নির্মাণকল্পে টেন্ডার হয়েছে, হজ ক্যাম্প থেকে আশকোনা বাজার পর্যন্ত কাজ সম্পন্নও হয়েছে। বাকি সংস্কার কাজ থমকে আছে। জনতা বলাবলি করছে প্রধান এ সড়কটি নদ্দা- হলান- দক্ষিণখান পর্যন্ত আন্ডারড্রেনেজসহ সংস্কার করার টেন্ডার হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কার্যাদেশ পেয়েও কাজ করছে না। ফলে এ সড়কে অল্প বৃষ্টিতেই হাটু পানি জমে যায়, হাজার হাজার জনতার চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় । এই প্রধান সড়কে একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে -যার নাম আশকোনা সরকারি প্রাইমারি স্কুল। অল্প বৃষ্টিতেই এ স্কুলের সামনে হাটু পানি জমে যায়। ডিএনসিসি পানি নিষ্কাশন না করলে ৫-৭ দিনও সড়কে পানি জমে থাকে। এ অবস্থায় স্কুল পড়–য়া ছাত্ররা স্কুলে আসতে পারে না। ফলে তাদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে বছরের পর বছর। কিন্ত দেখার কেউ নেই। এ সড়কে হাটুপানির সচিত্র প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও ডিএনসিসি ‘কম্ভুকর্ন’।
আশকোনা প্রধান এ সড়কের আশকোনা প্রাইমারি স্কুলের দক্ষিণপাশে বিপরীতে একটি শাখা সড়ক ২০ ফিট নির্ধারিত থাকলেও দু:খু মেম্বার নামকরণ এ সড়কটি দু:খু মেম্বারের পরিবারসহ শহিদ তালুকদার, বাবুল গংরা আরো কতিপয় দখলদার দখল করে ভবন নিমাণ করেছে-যা সরজমিনে তদন্ত করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে। ফলে এ শাখা সড়কটি ৬ ফিটে এসে ঠেকেছে। এ সড়কে প্রাইভেট কার চলাচল তো দূরের কথা একটা অটো রিকশাও ঠিকমত চলতে পারে না।

অথচ সড়ক দখলদার শহিদ তালুকদারের ভবন পর্যন্ত ২০ ফিট রাস্তা প্রশস্ত করে তার বাড়িতে প্রাইভেট কার গ্যারেজ করছে। অন্যদের স্বার্থ ভুলুন্ঠিত করে রেখেছে।
এই অবৈধ সড়ক দখলদারদের উচ্ছেদে সাবেক ইউপি পরিষদ বার বার উদ্যোগ নিলেও ডিএনসিসি এখন পর্যন্ত নির্বিকার, সড়কটি অবৈধ দখলদারমুক্ত করতে কেউ এগিয়ে আসছে না।
এ শাখা সড়কসহ আশকোনা প্রধান সড়কে ডিএনসিসির লাইট পোস্ট নাই, ২/১টি শাখা সড়কে লাইটপোস্ট থাকলেও ডিএনসিসির বাতি জ¦লে না। ফলে এলাকায় দীর্ঘদিন ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে।
শাখা এ সড়কটির প্রবেশমুখে ২ টি বৈদ্যুতিক খুটি থাকার ফলে এ সড়কে প্রাইভেট কার প্রবেশ করতে পারে না। ২টি বৈদ্যুতিক খুটি এবং অবৈধ দখলদারদের সড়ক দখলের জন্য প্রাইভেট কার তো দূরের কথা– এ সড়কে কোন রকম ২/১টি অটোরিকশা চলাচল করতে পারে। অবৈধ বরফকলের পিআপ চলতে পারে।
এ সড়কটিতে বছরের পর বছর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকে, বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ায়, মসুল্লিারা নাক চেপে মসজিদে নামাজ পড়তে যায়।
এই শাখা সড়কে শুধু অবৈধ দখলদারই নয়্- এ সড়কে আশকোনা কেন্দ্রীয় প্রধান মসজিদের সাথেই মরহুম মোহাম্মদ আলি মাতুবুরের পরিবার সদস্যদের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বরফকল ফ্যাক্টরি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে করে জনগণের ভোগান্তি চরমে। মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময়ও এই বরফ কল বন্ধ থাকে না। বরফকলের বিকট শব্দে মুসুল্লিদের নামাজে প্রতিনিয়ত ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। রাতের বেলা পাশের ভবনের বাসিন্দাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে প্রতিরাতে। প্রতিবাদ করলে অবৈধ বরফকল হোতাদের কবলে পড়তে হয় বলে পাশের ভবনের লোকজন জানান।
এই বরফকলের হোতারা নাকি ইতিপূর্বে ক্ষমতাসীন দলের অংশিদার জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল, সরকারের পতন হলে ওরা এখন বিএনপির হয়ে গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ওদের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। ফলে ওদের থামায়-এমন সাধ্য কার? ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ কি ওদের লাগাম টেনে ধরবে-এ প্রশ্ন এলাকাবাসির।
আশকোনা এলাকায় ডিএনসিসির লোকজন নিয়মিত প্রতিণিয়ত মশার ওষুধ স্প্রে করে না।ডিএনসিসির লোকজন মশার ওষুধ মেশিন কাধে করে বহন করে ওষুধ না ছিটিয়ে মহড়া দিয়ে চলে যায়। এ চিত্র দীর্ঘদিনের। কিন্ত দেখার বা বলার কেউ নেই। এর ফলে ডেংগুর এই মওসুমে এলাকাবাসির ডেংগু আক্রান্ত হবার সমূহ আশংকা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে ডিএনসিসির প্রসাশক দ্রুত নজর দিবেন বলে এলাকাবাসি প্রসাশকের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

