ফেইজবুকে বিভ্রান্তি : বাংলাদেশ বিমান ও বেবিচকের প্রতিবাদ-ব্যাখ্যা : শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৫০ হাজীর ল্যাগেজ চুরির কোন ঘটনাই ঘটেনি

স্টাফ রিপোর্টার : হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ২১০ হাজির ল্যাগেজ চুরির কোন ঘটনা ঘটেনি বলে প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ বিমান এয়ার লাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ- বেবিচক। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে এ দুই সংস্থা এর প্রতিবাদ জানান।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এভসেক উপপরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার এসএম তানজিল আহমদ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা গত ০৩ জুন এ প্রতিবাদ জানান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স পরের দিন গত ০৩ জুন এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস-এর মহাব্যবস্থাপক- জিএম শাহনূও আলম ল্যাগেজ চুরির ঘটনার প্রতিবাদ জানান। উভয় সংস্থা শাহজালাল বিমানবন্দরে হাজিদের ল্যাগেজ চুরির ঘটনা অস্বীকার করে এর নাতিদীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রদান করে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ- বেবিচকের শাহজালাল বিমানবন্দরের এভসেক উপপরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার এসএম তানজিল আহমদ তার ব্যাখ্যায় বলেন,

বিমান প্রতিমন্ত্রীর ব্রিফিং : বিমানবন্দরে হাজিদের ১৫০ লাগেজ কেটে মালামাল চুরির বিষয়টি অসত্য

এ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দেশে ফেরা হাজিদের ১৫০টি লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি অন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পরশুদিন রাতের বেলা হাজীরা ফিরেছে। যাদের লাগেজগুলি কাটা হয়েছে এবং ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরি হয়েছে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রায়শই এরকম সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদেরকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়, যেটা আপনাদের সহযোগিতায় আমরা তার সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি পরিবেশন আপনাদের মাধ্যমেই করতে পারি। এবং তাতে করে বিভ্রান্তি নিরসন হয়। সেই প্রেক্ষিতে আমরা একটা বিবৃতি আপনাদেরকে দিতে চাই, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সিসিটিভি ও বডি অন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, তদন্তে দেখা গেছে মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো চুরি বা ইচ্ছাকৃত মিসহ্যান্ডলিংয়ের কারণে ঘটেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো হাজী বা যাত্রী মূল চেকিং লাগেজের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই জমজমের পানি বা যথাযথ সিলগালা না করে লিকুইড প্রসাধন সামগ্রী বহন করতে পারবেন না। এটা একটা নিয়ম। লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজ কেটে বা খুলে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ডিক্লারেশন ব্যতীত নগদ টাকা বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেওয়া নিষিদ্ধ। ঢাকা বিমানবন্দরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি বিভ্রান্তিকর এবং জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করেছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে জানান।