এবার ছিনতাইকারীদের কল্যাণ ফান্ড!জমা ৮ লাখ টাকা

একুশে বার্তা ডেক্স : ছিনতাইকারী সদস্যদের কেউ জেলে গেলে তাকে ছাড়াতে গঠন করা হয়েছে কল্যাণ ফান্ড। এ ফান্ডের অর্থের সংস্থান হবে ছিনতাই থেকে। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

এদিন রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধে ৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৫৭ জন অজ্ঞান পার্টির সদস্য, ৮ ছিনতাইকারী, ৮ জালনোট কারবারি ও ৬ মাদকব্যবসায়ী রয়েছে। আবদুল বাতেন বলেন, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বিভিন্ন উৎসব সামনে রেখে বেপরোয়াভাবে তাদের কার্যক্রম চালায়। বিভিন্ন বাসযাত্রীকে অচেতন করে তাদের অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা ঈদের সময় বেড়ে যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, প্রথমে তারা কোনো ব্যক্তিকে টার্গেট করে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। এর পর তাদের অপর সদস্যরা টার্গেটকৃত ব্যক্তি ও তাদের সদস্যকে ট্যাবলেট মেশানো খাবার খেতে উদ্বুদ্ধ করে। এতে টার্গেট করা ব্যক্তি খেতে রাজি হলে ট্যাবলেট মেশানো খাবার খাওয়ায় এবং নিজেরা সাধারণ খাবার খায়। খাবার খাওয়ার পর ওই ব্যক্তি অচেতন হলে তার মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। এ ক্ষেত্রে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা খাবারে চা, কফি, জুস, ডাবের পানি, পান, ক্রিমজাতীয় বিস্কুট ইত্যাদি ব্যবহার করে।

এ সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের কাছ থেকে ৫৫৩টি চেতনানাশক ট্যাবলেট, ৭ কৌটা মলম ও ৭ বোতল বিষ মেশানো পানীয় জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ছিনতাইকারী ও জালনোট কারবারি এবং মাদকব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের জালনোট, ৬১ হাজার ১৫৯ পিস ইয়াবা, ১২টি ছিনতাই করা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

আবদুল বাতেন বলেন, ছিনতাই করা টাকা ভাগাভাগি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কল্যাণ ফান্ড; যে ফান্ডের টাকা ব্যয় হয় সহযোগীদের আদালত থেকে ছাড়িয়ে আনা ও চিকিৎসা কাজে। ছিনতাই করা টাকার কল্যাণ ফান্ডে আকার নেহাত কম নয়। এমনই এক ছিনতাইকারীদের কল্যাণ ফান্ডের হদিস পেয়েছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। ফান্ড থেকে উদ্ধারও হয়েছে ৮ লাখ টাকা, যার পুরোটাই ছিনতাইয়ের।

গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারীচক্রের সদস্যরা হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন সাগর, মো. আলী হাসান, সবুজ বিশ্বাস, মো. রকি নুরুজ্জামান, মোছা. মুক্তা বেগম, মোছা. বেবি আক্তার, মোছা. নূপুর, ঝুমুর ও মো. লিটন মিয়া।