এবার যাত্রী শূন্য নয়-যাত্রী নিয়েই শাহজালাল বিমানবন্দরে গণ শুনানি : যাত্রী হয়রানি আমলে নেয়ার আশ্বাস

একুশে বার্তা রিপোর্ট :  কোন রকম নামকাওয়াস্তে প্রচার করে গত ৩০ এপ্রিল রোববার দুপুরে এবার যাত্রী শূন্য নয়-  যাত্রীদের নিয়েই শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিতরে  গণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। যাত্রীদের  অভিযোগ শুনতে ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গণশুনানির আয়োজন করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এটা সিএএবি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দ্বিতীয় গণ শুনানি। এর আগে গত নভেম্বরে বিমা্নবন্দরের বাইরে যাত্রী শূণ্য অবস্থায় প্রথম গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গণ শুনানিতে এপিবিএন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। অথচ এপিবিএন পুলিশের সিভিল টিমের সদস্য কর্তৃক বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিসা, পাসপোট, টিকিট চেকিংয়ের নামে যাত্রী হয়রানি হয়ে থাকে বলে ইমিগ্রেশন পুলিশ-এপিবিএনের মধ্যে মাঝেমধ্যে রেষারেষি চলে। অবশ্য এপিবিএন পুলিশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যদিও তা মানতে নারাজ।এপিবিএন পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে আমরা মানব পাচাররোধে যাত্রীদের ভিসা, পাসপোর্ট, টিকিট চেক করে থাকি। আমরা ইমিগ্রেশনকে এ কাজে সহায়তা করে থাকি।

গণশুনানিতে  বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। একই সঙ্গে ল্যাফট বিহাইন্ড ব্যাগ ও হারিয়ে যাওয়া ব্যাগেজ উদ্ধারে হয়রানির অভিযোগও করেন যাত্রীরা।

গণশুনানিতে যাত্রীদের অভিযোগ শোনেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান।অভিযোগগুলো স্বল্প সময়ে সমাধানের আশ্বাসও দেন বেবিচক চেয়ারম্যান।

যাত্রী আব্দুল্লাহ শাওন বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত অনেক উন্নতি হয়েছে। আগের চেয়ে অনেক কিছুই সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু দু:খের বিষয় অনেকের ব্যবহারে আমরা কষ্ট পাই। ইমিগ্রেশনে যারা আছেন, তাদের আমরা স্যার বলেই সম্বোধন করি, অথচ তারা তুই বলে খারাপ আচরণ করেন।

যাত্রীর এমন অভিযোগের জবাবে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফউজ্জামান বলেন, অনেকে এখানে কাজ করেন, কারও কারও ব্যবহারে সমস্যা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়টি যেন আর না ঘটে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবো।

যাত্রী খলিল সরদার বলেন, আমি বাহারাইন থেকে গালফ এয়ারে বাংলাদেশে এসেছি ৩ এপ্রিল। আজ পর্যন্ত আমার লাগেজ দিতে পারেনি। আমার বাড়ি বরিশাল। তিন দিন বরিশাল থেকে এসে বিমানবন্দরে ঘুরছি। কিন্তু কেউ সমাধান দিতে পারেনি।

গণশুনানিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য (প্রশাসন) মো. হাফিজুর রহমান, সদস্য (নিরাপত্তা) শাহ্ মো: ইমদাদুল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ( ই/এম সার্কেল) মো. আবদুল মালেক, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক, এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) পরিচালক ওবায়দুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।