একুশে বার্তা ডেক্স : দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারে গেছেন বিএনপির তিন নেতা।
তারা হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান।
শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তারা নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারে উপস্থিত হন, যেখানে একমাত্র বন্দি হিসেবে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
২০ মিনিট অপেক্ষায় থাকার পর একজন কারা কর্মকর্তা এসে বিএনপি নেতাদের ফটকের ভেতরে নিয়ে যান।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল এই তিন নেতা সাক্ষাতের জন্য অনুমতি নিয়ে কারাগারে গেলেও খালেদা জিয়ার অসুস্থতা কথা বলে তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসা বিএনপি নেতারা পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে দলীয় নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানায়।
শনিবার কারাগারে যাওয়ার আগেও সংবাদ সম্মেলন করে একই দাবি জানান ফখরুল। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, চিকিৎসার অবহেলায় খালেদার অবস্থার অবনতি হলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি দলীয় নেত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল একাই দেখা করে এসেছিলেন মির্জা ফখরুল। পরদিনই এক্স রে করার জন্য বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়েছিল খালেদাকে।
খালেদার বোন সেলিনা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর, স্ত্রী কানিজ ফাতিমাসহ পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার কারাগারে গিয়ে দেখা করে এলেও সেই সুযোগ পাচ্ছিলেন না বিএনপি নেতারা।
এর আগে কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিদিন অবনতি হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কারাবন্দি আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ফাইল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পড়ে আছে, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রতিদিন তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।
আজ শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। এই বিষয়টা আমরা অত্যান্ত গুরুত্বসহকারে বার বার বলছি। আমরা উচ্চ পর্যায়ের একটি ডেলিগেশন টিম হোম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় পর্যন্ত পাঠিয়েছিলাম। সেখানে দীর্ঘক্ষন আলোচনা হয়েছে। হোম মিনিস্টারও কনভিন্সট যে উনার একটা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে এবং একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার প্রয়োজন। এজন্য তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সাথে সাথেই আইজি প্রিজনকে ডেকে নিয়ে এসেছিলেন, এ সময় তিনি তাকে বলেছিলেন চিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার করুন। আমরা শুনেছি তারা (আইজি প্রিজন) তারপরে বিভিন্ন ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে যেনো চিকিৎসা দেয়া হয় এর রিকমেন্ড করেছেন। সেটা এখন পর্যন্ত সেই ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে পড়ে আছে, এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এবং এই সিধান্তহীনতার কারণে প্রতিদিন তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগে তিনি সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে আমাদের সাথে দেখা করতে পারতেন, কিন্তু এখন তিনি অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার কারনে আর তা পারছেন না। আমরা বার বার বলছি, অন্তত বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাটা করানো হবে। কিন্তু কতটা ভয়ঙ্কর হলে চিন্তা করেন, তার চিকিৎসা পর্যন্ত জেলখানায় করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা হচ্ছে না। বেগম জিয়ার চিকিৎসা না করানোর পিছনে একটা থিম আছে, নিল নকশা রয়েছে। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে তার স্বাস্থ্যর আরো অবনতি ঘটতে পারে। আর এর দায় দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি করলেও সরকার সেদিকে কোনো কর্ণপাত করছে না। আমরা বলে আসছি বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দের হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। এখানে এমআরআই সহ সকল পরীক্ষার যন্ত্র আছে যা অন্য খানে নাই। এজন্যই আমরা ইউনাইটেড হাসপাতালের কথা বলছি।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই চিকিৎসা দিচ্ছে না সরকার।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম। তিনি আইজিপ্রিজনকে ডেকে এনে চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো অগ্রগতি নাই। সরকার যে উদ্দেশ্য বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়েছে সে উদ্দেশ্য শেষ হয়নি। তারা চান বেগম খালেদা জিয়ার আরেও ক্ষতি। সেজন্যই তাকে চিকিৎসা দিচ্ছে না। তার চিকিৎসায় একদিন বিলম্ব হলেও দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন, পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক নিউরো মেডিসিন ডা. ওয়াহেদুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার ঘারের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে নার্ভগুলো ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে। এতে তিনি ডান হাতের তুলনায় বাম হাতে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে, এবং বাম হাতে শক্তি কমে যাচ্ছে ফলে ওই হাত দিয়ে তিনি কিছুই ধরে রাখতে পারছেন না বলে আমরা শুনছি। এছাড়া কোমরের স্পাইনাল কড নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোমরের হার ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। এতে তার প্যারালাইসিস হওয়ার আশঙ্কা করছি।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল কুদ্দুস বলেন, ২০০১৫ ও ১৭ সালে অপারেশন করা হয়েছে। তার চোখের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। তার যদি চোখের সুচিকিৎসা না করা হয় তাহলে তার চোখের কর্নিয়া স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. আব্দুল কুদ্দুস, ডা, ওলিউর রহমান, ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
