খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি লড়াই চলবে : মওদুদ

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : বিএনপির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য ব্যা‌রিস্টার মওদুদ আহ‌মেদ ব‌লে‌ছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মু‌ক্তির জন্য আইনি লড়াই আমরা চালিয়ে যাবো। কিন্তু তাতে তার মুক্তি আসবে বলে আমরা মনে করি না। একমাত্র রাজপ‌থের আন্দোলন আর সংগ্রামেই বেগম খা‌লেদা জিয়ার মু‌ক্তি।

শুক্রবার  জাতীয় প্রেসক্লা‌বের কনফারেন্স লাউঞ্চে সংবাদপ‌ত্রের স্বা‌ধীনতা, নির্বাচন ক‌মিশ‌নের হস্ত‌ক্ষেপ ও আজ‌কের বাংলা‌দেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও গু‌ণীজন সংবর্ধনা আনুষ্ঠা‌নে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

মওদুদ বলেন, আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় চেষ্টা করছি। কিন্তু পেরে উঠছি না। কারণ নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের অধীনে। বিচারকরা সম্পূর্ণভাবে সরকারের ইচ্ছামতো কাজ করছে। খালেদা জিয়ার জামিন, আদালতে আনবে কি আনবে না সব কিছু নির্ভর করছে নিম্ন আদালতের উপর।

‘আমি বিশ্বাস করি খালেদা জিয়া জামিন পাবেন। কিন্তু বিলম্বিত হবে। সরকার ইচ্ছা করেই বিলম্বিত করবে’

মওদুদ সামনে তাদের তিনটি কর্মসূচি আছে উল্লেখ করে বলেন, আমাদের একটিই লক্ষ্য-গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। তার জন্য সামনে আমাদের তিনটি কর্মসূচি থাকবে। তা হলো- খালেদা জিয়ার মুক্তি, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে তাতে জনগণকে গণআন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং সেই আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

মওদুদ এসময় ভারত সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিভাবে বলেন যে, ভারতকে যা দিয়েছি তা কখনো ভুলতে পারবে না। এর চেয়ে নির্লজ্জ, অপমানজনক কোনো বক্তব্য জাতির জন্য হতে পারে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা করি। তিনি কিভাবে এই কথা বললেন।

তিনি আরো বলেন, মানুষ জানে আপনি ভারতকে কি দিয়েছেন। সবই দিয়েছেন। তা আজ স্বীকার করছেন। আপনি জাতীয় স্বার্থ নষ্ট করে ভারতকে দিচ্ছেন। তাতো আপনি করতে পারেন না। ১৬ কোটি মানুষকে আপনি আঘাত দিয়েছেন। এর জবাব আপনাকে দিতে হবে।

মওদুদ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,’ একবার ধরলে ছাড়ি না।’ এতোদিন ধরেননি কেন? এটা তো নতুন কিছু নয়। মাদকে ছেয়ে গেছে। এ কারণে নেননি যে এই ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগের নেতা, পৃষ্ঠপোষক।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে মানুষ হত্যার লাইসেন্স দিয়ে দিলেন। এ কয়দিনে ১৩৮ জন নিহত। অথচ চিহ্নিত মাদক সম্রাটকে ধরা হলো না। এতে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, দেশে যে সত্যিকার সংকট সে সংকটকে অন্যদিকে ধাবিত করার জন্য মানুষ হত্যা করছেন।