খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি : আজ বিএনপির অনশন

একুশে বার্তা  রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপির অনশন আজ রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে পালিত হবে। গতকাল রবিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের প্রতিবাদে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সোমবার সকাল ৯টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজধানী মহানগর নাট্যমঞ্চে (গুলিস্তান) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উদ্যোগে ‘প্রতীক অনশন’ কর্মসূচি পালিত হবে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সকাল ৯টার পূর্বেই মহানগর নাট্যমঞ্চে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে আমি ঢাকা মহানগরের পুলিশ বিভাগের সাথে কথা বলেছি তারা ইতিবাচক সারা দিয়ে মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন। : তিনি আরও বলেন, অনশন কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।  এছাড়া ২০ দলীয় জোটের নেতাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও সংহতি প্রকাশের কথা রয়েছে। : তিনি বলেন, লর্ড কার্লাইলের ভারতে ভিসার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির নীতি হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। এই নীতি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর আমল থেকে এখনও পর্যন্ত অব্যাহত আছে। বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করে, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক যোগাযোগই হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্কের ভিত্তি। ভারত একটি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ^াস করে। এদেশের মানুষ প্রত্যাশা করে, বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দেশ ভারত বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন দেবে এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পেতে সহযোগিতা করবে। যেভাবে ভারত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণের পাশে থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তা করেছে। ভারতের সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। তাই বাংলাদেশের জনগণ আশা করে, ভারত জনগণের মতামতকেই প্রাধান্য দেবে এবং কোনো অনির্বাচিত জনসমর্থনহীন সরকারের প্রতি সমর্থন প্রদান করবে না। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, ড. মামুন আহমেদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ। : এর আগে সকালে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গতকাল একটি দৈনিক পত্রিকায় নয়াদিল্লির একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শক লর্ড কার্লাইলকে ভারতে ঢোকার অনুমতি না দিতে নয়াদিল্লিতে জোরালো সুপারিশ পাঠিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়-এর নিকট আমাদের জিজ্ঞাসা, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের এখন কোন দলের মুখপাত্র? লর্ড কার্লাইল চলতি সপ্তাহেই নয়াদিল্লি সফরে ১৩ জুলাই ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও কারাদন্ডের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্য দেয়ার কথা। যদি ঢাকাস্থ হাইকমিশনের জোরালো সুপারিশের কারণে লর্ড কার্লাইলের ভিসা দেয়া না হয় তাহলে এটা প্রমাণিত হবে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাদন্ড দিতে হাইকমিশনের নেপথ্য ভূমিকা রয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনের এই ভূমিকা দুঃখজনক এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আগ্রাসী হস্তক্ষেপ। বাংলাদেশের একটি ভোটারবিহীন সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা ঔপনিবেশিক শাসকদের ন্যায়, যেন তারা বাংলাদেশে তাদের প্রতিভুদের টিকিয়ে রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন যদি ঔপনিবেশিক শাসনের গভর্নর হাউজে পরিণত হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন ও সার্বভৌমত্ব অতি দুর্বল। : তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আরেকজন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ভারত সফরে গিয়ে সেখানে একটি শীর্ষস্থানীয় ‘থিংক ট্যাংক’-এর আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘বিএনপি ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, বিএনপি হচ্ছে চীন ও পাকিস্তানপন্থী।’ এইচ টি ইমাম-এর উদ্ভট বেহায়াপনায় বাংলাদেশিরা হতবাক ও স্তম্ভিত। জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় রাখতে সেখানে বিভিন্ন নীতি নির্ধারকদের কাছে নতজানু হয়ে লেজ নাড়িয়ে ভারতীয় কৃপা আদায়ের জন্য এইচ টি ইমামের মতো আওয়ামী মন্ত্রী ও নেতারা এমন ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছেন যা বাংলাদেশে বিরল। এটি যেন মোড়লের কাছে নিজের বিশ^স্ততা প্রমাণ করা। প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বীকারোক্তিতেই বলেছেন- তিনি ভারতকে সবকিছু দিয়েছেন, প্রতিদান চাননি। কিন্তু এখন প্রতিদান পেতে প্রধানমন্ত্রী একের পর এক প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন সেখানে। এরা বিবেক, আত্মমর্যাদা, জাতীয়তাবাদী অহংকার সবকিছু বিসর্জন দিয়ে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে অপমানিত করে দিল্লির দরবারে করুণা ভিক্ষা করছেন। এইচ টি ইমাম হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘চলতি হাওয়ার পন্থী’। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ ডিঙিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন এই এইচ টি ইমাম। যখন যে হাওয়া বয়ে যায় সেই হাওয়ার সাথেই গা ভাসিয়ে দেন এই এইচ টি ইমাম সাহেবরা। ১৫ আগস্টের মর্মস্পর্শী হত্যাকান্ডের যদি বিন্দুমাত্র বিচলিত ও মর্মাহত হতেন এইচ টি ইমাম তাহলে লাশ ডিঙ্গানো ঐ মন্ত্রিসভার শপথ পাঠের অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন না। জাস্টিস বি এ সিদ্দিকী আমৃত্যু মুসলিম লীগ করেছেন, তারপরেও লক্ষ লক্ষ মানুষের হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী টিক্কা খানের শপথ পড়াননি। এইচ টি ইমাম কতবড় অনৈতিক হতে পারেন, যিনি ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে বলেছেন- তোমরা বিসিএস পরীক্ষায় কেবল লিখিত পরীক্ষায় পাস করো, আর মৌখিক পরীক্ষার দায়িত্ব আমার। বর্তমান এই দুঃশাসনকে টিকিয়ে রাখার মূল হোতাদের একজন হচ্ছেন এই এইচ টি ইমাম। এরা নিজের পাতে ক্ষমতার ঝোল ঢালার জন্য আত্মা বিক্রি করতেও দ্বিধা করেন না। : এইচ টি ইমামের সমালোচানা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এইচ টি ইমাম বলেছেন- ভারত বিএনপিকে সুযোগ দেবে না। এইচ টি ইমাম সাহেবকে বলতে চাই- ভারত সুযোগ দেয়ার কে? বাংলাদেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। সুযোগও দেবে বাংলাদেশের জনগণ। আপনার বক্তব্যে বোঝা যায়- বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের চাবিকাঠি ভারত। আর সেজন্যই প্রভুদের কাছে দেনদরবার শুরু করেছেন। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে প্রভুদের কাছে তাই এতো আকুতি মিনতি করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ আর সেই সুযোগ আপনাদের দেবে না। বাংলাদেশে কোন দল ক্ষমতায় আসবে তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ। জনগণকে পাশ কাটিয়ে এদেশে আর কোনো ষড়যন্ত্রমূলক ভোটারবিহীন জাতীয় নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না। আসলে এই এইচ টি ইমামরা কখনোই আয়নায় নিজের চেহারা দেখেন না। এইচ টি ইমামদের ভূমিকা মিরন ও ঘষেটি বেগমের মতো। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। :