একুশে বার্তা রিপোর্ট : ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, খুলনা ও অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের খবরে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও পোলিং এজেন্টদের গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানির বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে মার্শা বার্নিকাট এ উদ্বেগের কথা জানান। : মার্শা বার্নিকাট বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যে নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। আমরা দেখতে চাই, সরকার তার অঙ্গীকার পূরণ করবে।’ ডিকাব সভাপতি রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিশু। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভালো-খারাপ সব রকম দৃশ্যই দেখা গেছে। ভোটারের কাছ থেকে ব্যালট নিয়ে সিল মারা, বিপ্তি সংঘর্ষ, ব্যালট ছিনতাই, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের হুমকি ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দাপটসহ সর্বত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল। আবার কিছু কিছু কেন্দ্রে ভালো ভোটের চিত্রও দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ও দলের ‘বিদ্রোহী’ কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মধ্যে বিপ্তি সংঘাত, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হলেও বড় ধরনের কোনো গোলযোগ বা রক্তপাতের ঘটনা ঘটেনি। তারপরও ৯টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ আছে, এজেন্টদের কেন্দ্রছাড়া করার েেত্র নেয়া হয়েছে অভিনব কৌশল। আর আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যদের একটি অংশকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকজন প্রত্যদর্শী বলেন, মূলত বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্রছাড়া করার পরই বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সভর্তি করার ঘটনাগুলো ঘটেছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটা অংশের বড় ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বার্নিকাট বলেন, ওই স্থিতিশীলতা কেবল অবাধ, নিরপে ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রা করা সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার অবাধ, নিরপে, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ, যেখানে বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। বাংলাদেশ সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রা করবে- আমরা সেটাই দেখতে চাই। : যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই তাদের নতুন ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। যেভাবে তারা ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে চিহ্নিত করে আসছে তা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই এলাকার মধ্যে পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষের বসবাস। বিশ্ব অর্থনীতির অর্ধেকের বেশি কর্মকান্ড এ এলাকাতেই ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার, ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারী। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বড় অংশীদার হিসেবেও এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল হলো সেই এলাকা, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সমুদ্র সীমা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র বেশ কয়েকটি দেশের অবস্থান ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি মিত্র দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী নিয়মিত সামরিক মহড়া ও যৌথ প্রশিণের আয়োজন করে আসছে। (ডিক্যাব) অনুষ্ঠানে এসে বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হলে গণতান্ত্রিক বাতাবরণ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে সহিষ্ণুতার চর্চা হবে, মানবাধিকার গুরুত্ব পাবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমর্থন পাবে, যা সব নাগরিকের নিজের মতো শান্তিপূর্ণ ও দৃঢ়ভাবে প্রকাশের সুযোগ দেবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডিক্যাবের এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাত্র দুই দিনের মাথায়, যে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে মতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে। : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে আসছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিএনপি ও সমমনরা ওই ভোট বর্জন করে। ফলে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান মতাসীন দলের প্রার্থীরা; আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো মতায় আসে। যুক্তরাষ্ট্র ওই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে না।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
