চট্রগ্রাম কাস্টমস হাউজ একঘন্টা অচল

ডেক্স রিপোর্ট : চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আনস্টাফিং শাখায় হয়রানির অভিযোগে প্রায় এক ঘণ্টা কাজ বন্ধ রেখেছে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। এর ফলে সোমবার বিকেল সোয়া চারটা থেকে এক ঘণ্টা এই কাস্টমসের কাজ বন্ধ ছিল। পরে আলোচনার পর সাড়ে পাঁচটা থেকে কাজে যোগ দেয়  তারা।

এর আগেও নিজেদের অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পেরে আচমকা ধর্মঘট ডেকেছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। গতকালও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তারা এমন সময় ধর্মঘট ডাকল যখন সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদেশ উৎসবমুখর।

চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এ কে এম আকতার হোসেন কাজ বন্ধ করার কথা অস্বীকার করে জানান, ‘আনস্টাফিং শাখার সাথে আমাদের জেটি সরকারের একটি বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। পরে কমিশনার মহোদয় এসে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধান করেছেন। আমরা কোনো ধর্মঘট কিংবা কাজ বন্ধ করিনি। এই সময়ে কাজ বন্ধের প্রশ্নই আসে না।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এদিকে, বিকেল চারটা থেকেই সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের অনেক নেতা ফোন করে, এসএমএস দিয়ে ধর্মঘটের কথা কালের কণ্ঠকে অবহিত করছিল এবং আন্দোলনের মুখে বৈঠকে বাধ্য করার কথাও জানানো হয়। কিন্তু আকতার হোসেন এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন। এর আগে সোমবার সোয়া চারটা থেকে বিকেল সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রেখে কাস্টম হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। এই সময়ে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সদস্য খন্দকার আমিনুর রহমানের মধ্যস্থতায় কাস্টমস কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সমঝোতার পর সাড়ে পাঁচটায় সেই বৈঠক শেষ হয়।

বৈঠকের বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান জানান, ‘এটি তেমন কোনো ইস্যু নয়। ছোট-খাটো বিষয়ে এত হৈ চৈ এর কী আছে। সিঅ্যান্ডএফরা যে অভিযোগ দিয়েছে সেগুলো শুনতে আজ মঙ্গলবার সকালে সংশ্লিষ্টরা বসবেন। যৌক্তিক হলে মানবে; না হলে আদেশ বহাল থাকবে। ভ্যাট দিবসের অনুষ্ঠান শেষ করে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এসে তাদেরকে বিষয়টি বলার পর তারা কাজে যোগ দিয়েছে।’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্য ঘোষণা অনুযায়ী সঠিক কিনা তা তদারকির কাজ করে থাকে কাস্টমসের আনস্টাফিং শাখা। কিন্তু যতবারই কাস্টমসের দক্ষ কোনো কর্মকর্তা এই শাখায় যোগদান করেন তখনই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের চক্ষুশূলে পরিণত হন সেই কর্মকর্তা। মিথ্যা ও ভুয়া ঘোষণা দিয়ে আনা চোরাচালান পণ্য এক শ্রেণির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে আসলেও আনস্টাফিং শাখায় ধরা পড়ছে। গত দেড় মাসে শুল্কফাঁকির অনেক ঘটনা ধরা পড়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। গতকালের আচমকা কর্মবিরতি সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এর আগেও আনস্টাফিং শাখায় সহকারী কমিশনার একের পর এক শুল্ক ফাঁকির চালান আটক করায় সহকারী কমিশনার আবদুল আহাদের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকে এবং তাঁর কক্ষ ভাঙচুর করেছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, গতকাল একদিনে কোনো বড় চালান আনস্টাফিং শাখায় আটকা পড়েনি। কিন্তু আগের ক্ষোভ থেকেই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নেতারা আনস্টাফিং শাখায় গিয়ে উপকমিশনার নুর উদ্দিন মিলনের সাথে সাক্ষাত করে অভিযোগ অবহিত করেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করার আশ্বাস দেন কিন্তু তাত্ক্ষণিক সমাধান না পাওয়ায় তারা সেখান থেকে বের হয়েই কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।