একুশে বার্তা ডেক্স : জাতীয় এৗক্যফন্ট্রের চট্রগ্রামের সমাবেশে প্রধান বক্তা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার নিজেরাই নাশকতা, সন্ত্রাস, সহিংসতা সৃষ্টি করে দেশকে অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে। তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করার পর পরই আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এর মাধ্যমে দেশকে অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দেয়া হল। নেত্রীর সেই কথাই আজ সত্যি প্রমানিত হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জনগন এখন নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই করছে। আগামী নির্বাচনে জনগন ভোট দিতে পারলে ভাঙ্গা নৌকায় আর উঠবেনা। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগনকে আটকে রেখে কোন স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা অন্যায়ের কাছে মাথানত করবনা, আমরা পরাজিত হবনা। ৭ দফা দাবি আদায় করে, জনগনের ভোটের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব। মির্জা ফখরুল ড. কামাল হোসেনকে জাতির সামনে একজন অভিভাবক, বিবেক হিসেবে মন্তব্য করেন।
আ স ম আবদুর রব বলেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবেনা, বাংলাদেশ ঘেরাও করতে হবে। স্বৈরাচার যাতে পালাতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনা বিচারে পালাতে দেবনা, পালাবার রাস্তা নাই। তিনি বলেন, ৭ দফা মেনে না নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনা ছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করলে বলবো সরকার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবেননা। পুলিশ আর বেশিক্ষন সরকারের পাশে নাই। খালেদা জিয়াকে নি:সঙ্গ করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন, এজন্য ক্ষমা নাই। মামলা হামলায় কাজ হবেনা, ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে, জনতার কাছে আত্মসমর্পন করতে হবে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান চেতনা গণতন্ত্র আজ আওয়ামী বাক্সে বন্দী। চট্টগ্রামের সমাবেশে সরকার পদে পদে বাধা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিছিল আসতে দিচ্ছেনা, সড়কে দাঁড়াতে দিচ্ছেনা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে, তবুও জনতার স্রোত নেমেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এই চট্টগ্রাম থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তিনি পুলিশ প্রশাসনকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, আজকে আওয়ামীলীগ যা করেনি, আপনারা তা করেছেন। মনে রাখবেন আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, হুশিয়ার হয়ে যান। সরকারের বেআইনী হুকুম না মেনে জনগনের পাশে দাড়ান।
ব্যারিষ্টার মওদুদ বলেন, সরকার কোন ভাবেই চাইবেনা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে। নির্বাচনের আগে যাতে সরকারের অনিয়ম দুর্নীতির সমালোচনা প্রকাশ করা না যায় সেজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মওদুদ বলেন, আমরা সকলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। এই ঐক্যেই স্বৈরাচারের পতন আনবে, গনতন্ত্র ফিরে আসবে। আওয়ামী লীগকে একটি অসহিষ্ণু স্বৈরাচারী দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের এই আচরণের কারণে জনগন ভোটের অধিকার হারিয়েছে, আইনের শাসন হারিয়েছে, বিচার বিভাগ স্বাধীনতা হারিয়েছে এবং সর্বোপরি গণমাধ্যম স্বাধীনতা হারিয়েছে।
মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আমরা শুধুই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, কোন অধিকার কেউ দেয়না, আদায় করে নিতে হয়। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জাতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবেন না, তা দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যাবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ খালেদা জিয়াকে জনমানবহীন কারাগারে রেখে দেয়া কোন ধরনের মানসিকতা? গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেয়া জায়গায় আহত মুক্তিযোদ্ধা নিজের সব কিছু ত্যাগ করে গনস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তুলে জনগনের সেবা করে আসছিলেন, আর সে প্রতিষ্ঠানে কুকুরদের লেলিয়ে দিয়ে ধবংশ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধূরী বলেন, বর্তমান সরকার পাকিস্তানিদের চাইতে খারাপভাবে দেশ শাসন করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজের ছায়াকেও এখন ভয় পান মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনি জনতাকে ভয় পাবেননা। জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা আইনজ্ঞ, আইনের মানুষ। তাই খালেদা জিয়াকে যেভাবে হেনস্থা করছেন, তার পূনরাবৃত্তি হবেনা এই নিশ্চয়তা আছে। তিনি বলেন, এই চট্টগ্রাম থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান, তাকে নিয়েও কটুক্তি করা হয়। মাওলানা ভাসানীর জন্ম না হলে শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু হতেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আর মাত্র ১০ দিন অপেক্ষা করেন, দেখেন কি হয়। বিজয় নিশ্চিত।
মাহমুদুর রহমান মান্না সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আমাদের একটাই শ্লোগান তুমি যাও, ভোট দাও, ক্ষমতা ছাড়। তিনি বলেন, আমরা এই সরকারের পতন চাই, গনতন্ত্র রক্ষা করতে চাই। তিনি বলেন, জনগনের জয় হবে, ঠেকানোর কোন শক্তি নাই। ৭৩ বছর বয়সেও একজন ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় অন্যায়ভাবে, জবরদস্তি মূলকভাবে মিথ্যা মামলায় নির্জন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে আটকে রাখা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
