ডেক্স রিপোর্ট : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের সাজা ও অর্থদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে। আদালত আজ বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার
মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। রাষ্টপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির শুনানির সময় চান। আদালত দুপক্ষের শুনানি শেষে কাল আবার শুনানির জন্য রাখেন। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী।
শুনানি সময় আদালতে উপস্থিত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, বিএনপি নেতা মঈন খান, হাবিব-উন -নবী খান সোহেল ও আফরোজা আব্বাস।
শুনানিতে জয়নুল আবেদীন বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে এই মামলায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এখানে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের কোনো অভিযোগ নেই। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের কোনো অভিযোগ করেননি। এরপর কিভাবে আত্মসাত হয়? তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, এখানে সরকারের ফান্ডের কোনো টাকা নেই। তারপর আর কি থাকে। এছাড়া দুদক আইনের ৫ এর ২ ধারা দুর্নীতির কোনো সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। তিনি একই আদালতে তিনটি আদেশের কপি দেখিয়ে বলেন, ১০, ৭ ও ৫ বছরের সাজা মামলায় আপনারাই জামিন দিয়েছেন। এছাড়া ৭ বছরের সাজা মামলায় হাইকোর্টের একক বেঞ্চও জামিন দিয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যেদিন জেলে গেছেন পায়ে হেটে গেছেন। আর এখন হুইল চেয়ারে ছাড়া চলতে পারেন না। তিনি দীর্ঘদিন জেলে, দীর্ঘদিন অসুস্থ। পিজিতে তার চিকিৎসা হচ্ছে। উনার ডায়াবেটিস ১৬-এর নীচে নামে না। উনার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য বলেছেন, তার আরো উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে বলেন, জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে আদালত দেখেন সাজার পরিমান। এই মামলায় তাকে সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হয়েছে। শুধু জরিমানাও হতে পারত। যে আইনে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সেখানে সাজা বৃদ্ধির সুযোগ নেই। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। একজন বয়স্ক মহিলা এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ। পালিয়ে যাওয়ার অবস্থা তার নেই। আমরা মামলার ম্যারিটে যাচ্ছি না। তাকে জামিন দেয়া হোক। এই আদালতের জামিন দেয়ার সম্পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী তিনি জামিন পাবেন বলে আশাকরি। তিনি বলেন, সরকারও বলছে খালেদা জিয়ার মুক্তি নির্ভর করছে আদালতে ওপর। আওয়ামী লীগৈর সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নির্ভর করছে আদালতের ওপর।
শুনানি শেষে খন্দকার মাহবুব হোসেনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের এক না। বেগম খালেদা জিয়া তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। অতএব তার অপরাধ ছোটভাবে দেখা যায় না। জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের উপমাহাদেশে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে এই ধরণের মামলার নজির রয়েছে। ভারতের জয় ললিতাও মুখ্য মন্ত্রী ছিলেন। লালু প্রসাদ যাদবও মুখ্য মন্ত্রী ছিলেন। তাদেরও দুর্নীতি মামলায় সাজা হয়েছিল, সেই ক্ষেত্রেও তাদের জামিন দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াও জামিন পেতে পারেন।
এরপর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জামিন আবেদনের বিরোধীতা করে বলেন, সাজা হয়েছে দুদক আইনের ৫ এর ২ ধারায়। পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে সাজা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া পাবলিক সার্ভেন্ট ছিলেন। দুদকের পক্ষে শুনানির আগে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির আদালতে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল চেম্বার আদালতে অন্য মামলায় ব্যস্ত আছেন। এজন্য তিনি সময় প্রার্থনা করেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানির সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, কায়সার কামাল, নওশাদ জমির, আমিনুল ইসলাম, মো: আসাদুজ্জামান, রাগীব রউফ চৌধুরী, কামরুজ্জামান মামুন, জিয়উদ্দিন জিয়া, মো: আখতারুজ্জামান, মোহাম্মদ আলী, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, একেএম এহসানুর রহমান, ফাইয়াজ জিবরান প্রমুখ।
এর আগে গত রোববার খালেদার জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। ওইদিন আদালত শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন। গত ২০শে জুন বিচারিক আদালত থেকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসে।
