টাংগাইলের ভুয়াপুরে চাচা ও ভাতিজার যৌন লালসার শিকার স্কুলছাত্রীর কন্যা সন্তান প্রসব : ধর্ষক শরিফুলের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী, ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন : চাচা আনছের এখনও ধরাছোয়ার বাইরে

কালিহাতি সংবাদদাতা : চাচা ও ভাতিজার যৌন লালসার শিকার স্কুল ছাত্রী অবশেষে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছে।  টাংগাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনি ডা. নাজমা খলিলের তত্বাবধানের অপারেশন গত ২৬ আগস্ট সম্পন্ন হয়েছে। মা ও নবজাতক সুস্থ আছে বলে জানা গেছে।  এর আগে গতকাল ২৫ আগস্ট (শনিবার) ভোর ৫টার দিকে ওই মেয়েটি প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডের এক নম্বর বেডে ভর্তি হয়।

এ ঘটনায় ইতিপূর্বে কালিহাতি থানায় মামলা হরেয়ছে।  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিহাতী থানার এস.আই মো.মনির হোসেন বলেন, স্কুল ছাত্রীর বাচ্চা প্রসবের বিষয়টি আমি শুনেছি । মামলাটি একটু জটিল। ইতিমধ্যেে মামলার এক আসামি শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ওই স্কুল ছাত্রী ও শরিফুলের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান আসামী আনছের আলীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, দরিদ্র হওয়ার কারনে কালিহাতী উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের আনছের আলীর বাসায় কাজ করতো ওই স্কুল ছাত্রী। কাজের সুবাধে আনছের আলী ওই স্কুল ছাত্রীকে নিয়মিত ধর্ষণ করতো। ধর্ষণ করার সময় ঘটনাটি দেখে ফেলে তারই আপন বড় ভাই মুনসুর আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম।

পরে শরিফুল ঘটনাটি লোকজনের কাছে বলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সেও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। হত্যার ভয় দেখিয়ে ও কাউকে কিছু না বলতে ওই মেয়েকে নিষেধ করে দেয় আনছের আলী ও শরিফুল। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে চাচা-ভাতিজা প্রায়ই তাকে ধর্ষণ করতো। ধর্ষণের ফলে সে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে চাচা আনছের আলী ও ভাতিজা শরিফুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার করা হয় শরিফুলকে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় শরিফুল। ঢাকায় অবস্থান করায় ঘটনার মূলহোতা আনছের আলীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ।