ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : প্রেসিডেন্টকে খোলা চিঠি দিল ১০ মানবাধিকার সংস্থা

একুশে বার্তা ডেক্স : ডিজিটাল মিডিয়া নিরাপত্তা বিল নিয়ে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি কাজি রিয়াজুল হকের কাছে খোলাচিঠি লিখেছে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ শীর্ষস্থানীয় ১০টি মানবাধিকার সংস্থা। এতে তারা নতুন প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি কিছু সুপারিশ করেছে। সুপারিশকৃত চিঠিটির অনুবাদ এখানে তুলে ধরা হলো:
‘মানবাধিকার ও স্থিতিশীল উন্নয়ন ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশে সক্রিয় বিশ্ব সুশীল সমাজের সংগঠন হিসেবে আমরা আপনাদের কাছে লিখছি। আমরা উদ্বিগ্ন যে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে যেখানে কিনা বিতর্ক ও বৈধ গণতান্ত্রিক ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ ক্রমেই সীমিত হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও জনসাধারণের মত প্রকাশের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন নীতি ও নীতিনির্ধারকদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের খোলামেলা মত প্রকাশের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এই বিল যা হয়তো সংসদের চলমান অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে।
আমাদের সংগঠনগুলোর অনেকে এই বিল নিয়ে কয়েক বছর ধরে চলমান বিতর্ক অনুসরণ করে আসছে নিবিড়ভাবে।

অতীতে আমরা বিলটিতে অতিরিক্ত বিস্তৃত সংজ্ঞা এবং কঠোর শাস্তির বিধান নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেছি। বিলটি পাস হলে তা মারাত্মকভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে। ধারণা মিলছে যে, বিলটির নানা ধারা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ এখনো বিদ্যমান। বিলটি একদিকে সাংবিধানিক অধিকার, অপরদিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বাংলাদেশের সংকল্পের ওপর আঘাত হানবে। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ এবং ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-এর ১৯ অনুচ্ছেদ- মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের অনুমতি দেয় স্পষ্টভাবে চিহ্নিত সীমিতসংখ্যক কিছু পরিস্থিতিতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সুপারিশ, বিলটির ধারাগুলোকে সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সতর্কভাবে বিবেচনা করা হোক।  মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা ও প্রচার বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ের মি. ডেভিড কায়ের ডিজিটাল যুগে মত প্রকাশের চর্চা নিয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন। আমাদের বিশ্বাস বাংলাদেশ সরকার মি. কায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে সম্পৃক্ত হলে ব্যাপক উপকৃত হবে। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়গুলো নিয়ে তিনি পরামর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারেন। এছাড়াও, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) কার্যালয় থেকে সহায়তা নিতে সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি জোরদার করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির সহায়তা নেয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ বিন রাদ আল হুসেইনের আনুষ্ঠানিক  একটি সফর পেছানো হয়েছে জানতে পেরে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা এমন একটি সফরের সুযোগ দ্রুততম সময়ে করে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ও স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রতি দেশটির সংকল্প আরো শক্তিশালী  হবে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে গঠনমূলক সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে উপরোক্ত সুপারিশগুলো বিবেচনার জন্য আমরা আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
চিঠিতে স্বাক্ষরকৃত সংগঠনগুলো হলো:- এশিয়ান ফেডারেশন এগেইন্স ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস (এএফএডি), এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া), এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, সিআইভিআইসিইউএস, এফআইডিএইচ-ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অধিকার, পিপলস ওয়াচ, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস ও ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইন্সট টর্চার (ওএমসিটি)।