বিশেষ সংবাদদাতা : ঢাকা কাস্টমস হাউজের কুরিয়ার শুল্কায়নে আবার রামরাজত্ব শুরু হয়েছে। এক সময় ৩০ কোটি টাকার টাকার পণ্য পাচার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার হবার পর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসলেও আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে এসেছে কুরিয়ারের পরিস্থিতি। প্রাইজপোস্টিং পাওয়া একজন মহিলা এসি এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন। নতুন-পুরনো খাচা থেকে সেসাল-এর নামে বস্তায় বস্তায় পণ্য দেদারচ্ছে চলে যাচ্ছে বলে নীরিহ ব্যবসায়ীরা জানান। একদিনে ৮৭৫ পেপারসে পণ্য খালাসই এর বড় প্রমাণ। এর সাথে যিনি সম্পৃক্ত তিনি এসির সাথে লিয়াজো করে চলেন। মাঝেমধ্যে গোয়েন্দা অভিযান চললেও তা আবার থেমে যাচ্ছে। মামা-ভাগিনা খ্যাতরা আবার লাইমলাইটে। ডিপিএক্স খাচায় হাতেখড়ি নিজেই নতুন খাচা করে ধরাকে সরা ঞ্ঘান করছেন। রীতিমত তিনি আংগুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেড করে কুরিয়ারে ব্যবসা করছেন, সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। কুরিয়ারে একদিনে এক দেড় কোটি টাকার রাজস্ব আয় হলেও এখন তা ভাটা পড়েছে।
এসির সততা নাকি ব্যর্থতা নাকি সমঝোতা : কুরিয়ার শুল্কায়নের দায়িত্বে থাকা ৩১তম বিসিএস ক্যাডার এসি মুন মুন আকতার দীনা হাউজে ৩ নম্বর শুল্কাায়ন গ্রুপে দায়িত্ব পালন করতেন। ওই গ্রুপে ২৫ লাখ টাকার ট্রাক্স ফাকি দিয়ে পণ্য খালাসকরনের সাথে সংশ্লিস্ট রাজস্ব কর্মকর্তা মামুন সরকার এবং সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তারা হাউজ থেকে বদলি হলেও মামলা তদন্ত করছে রাজস্ব বোর্ড। সেই এসিকেই প্রাইজ পোস্টিং হিসেবে কুরিয়ারে বদলি করা হয়। কিন্ত তিনি কুরিয়ারে আসার পর পরই কুরিয়ারে আবার রামরাজত্ব শুরু হয়ে গেছে। পুরনো সিন্ডিকেড আবার নতুন সিন্ডিকেড করে পণ্য নিয়ে চলে যাচ্ছে। ট্যাক্স ফাকি দিয়ে , পাসওয়ার্ড নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করে ইটিপি ম্যানেজারের সাথে লিয়াজো করে কোটি কোটি পণ্য খালাস করে নিয়ে যাচ্ছে। এসি নিজকে সত মনে করলেও বা বাইরে তা প্রচারিত হলেও ভিতরে ভিন্ন চিত্র। কোন কোন সৎ কাস্টমস কর্মকর্তারাই বিরুপ মন্তব্য করছেন। এটা কি এসির ব্যর্থতা না সমঝোতা না সততা না অদক্ষতা। উদাহরণ হতে পারে এসি (বর্তমানে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) রুব্বা ইফ্ফাত-এর আমলে কুরিয়ারে একদিনে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হতো কুরিয়ারে।
এই কুরিয়ারে কামরুল হাসান নামে একজন এসিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছিল। পাচারকারীদের হাতে রাজস্ব কর্মকর্তা শাহজাহান মারধরের শিকার হন , এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রেফতান হয়, মামলা বিচারাধীন।
পাচওয়ার্ড কার হাতে : কুরিয়ারে পণ্য খালাসকরণে আাগে পাচওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন কাস্টমস কর্মকর্তারা, তারপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। আর এখন পাচওয়ার্ড সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের হাতে। এর সুবাধে সিএন্ডএফ এজেন্ট নিজেরাই কাস্টমস কর্মকর্তাদের নামের সীল মেরে অনেক সময় সই নকল করে কাস্টমস সিপাইদের হাতে ১০০/২০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে পেপারস নিয়ে পণ্য খালাস করছে। এটা নিত্যদিনের ঘটনা বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
