ঢাকা কাস্টমস হাউজ : ফ্রি পণ্যের ট্যাক্স নির্ধারণ পৌণে দুই লাখ টাকা! রাজস্ব কর্মকর্তাদের টনক নড়েছে: লক্ষাধিক টাকার ঘুষ নেয়ার অপরাধে রাজস্ব কর্মকর্তা রমিজ সাসপেন্ড

বিশেষ সংবাদদাতা : ঢাকা কাস্টমস হাউজে তেলেসমাতি কারবার শুরু হয়েছে। যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুর রহমানকে শাহজালাল বিমানবন্দরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার পর অতিরিক্ত কমিশনার তাসনিমুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর পর থেকেই ডিএমকৃত পন্যের বিচারাদেশের পরও তেলেসমাতি করবার শুরু হয়েছে। ৬ লাখ টাকার ট্যাক্স ঢাকা কাস্টমস হাউজ সোনালী ব্যাংকে জমা করার পরও গত প্রায় ৬ মাস যাবত ২৩৪ গ্রাম স্বর্ন ছাড়করণ করা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে পণ্যের মালিক ভারতীয় নাগরিক আনান সিং এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। পণ্যের মালিক সন্দেহ করছেন ২৩৪ গ্রাম স্বর্ন গায়েব করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে গুদাম কর্মকর্তা সাকিল জাহিদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বর্ন দেয়ার পর পার্টিকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। কিন্ত গত প্রায় ৬ মাসেও বিচারাদেশকৃত স্বর্ন খালাস দেয়া হচ্ছে না।
এ দিকে ১০০ গ্রাম স্বর্ন যেখানে একজন যাত্রী ফ্রি পাবেন সেখানে ৯৯ গ্রাম স্বর্নের জন্য পৌণে দুই লাখ টাকার ট্যাক্স নির্ধারণ করেছেন ঢাকা কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার তাসনিমুর রহমান। যার ডিএম নম্বর-০১৩১৪০৫ তারিখ: ২৯-০১-২০১৯। যাত্রীকে ব্যক্তিগত জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ টাকা। যাত্রী মাসুদ মিঞা ব্যাগেজরুলের আওতায় সংক্ষিপ্ত বিচারাদেশের মাধ্যমে পণ্য ছাড়করণের জন্য আবেদন করেছেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার তাসনিমুর রহমানের সেল ফোনে একাধিকবার কল করেও রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ দিকে ঢাকা কাস্টমস হাউজে ৩ রাজস্ব কর্মকর্তার ঘুষের মহোৎসব শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে। রাজস্ব কর্মকর্তা জুনায়েদ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের কাছে সংবাদের উৎস খুজে বেড়াচ্ছেন । শাহজালাল বিমানবন্দরে হাতেনাতে লক্ষাধিক টাকাসহ রাজস্ব কর্মকর্তা রমিজকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ধারায় মামলা না হয়ে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তাকে সাসপেন্ড করে লঘু শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।