নিউজ ডেক্স : ঢাকা কাস্টমস হাউজ হয়রানির সমুদ্র বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ মালিক ও আমদানিকারকরা।গত বৃহস্পতিবার একজন সিএন্ডএফ নেতার সামনেই তারা এ মন্তব্য করেন। বলেন, একটি আইজিএম সংশোধন করতে পক্ষকাল যাবত ঘুরছি, বিভিন্ন অজুহাতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তা সংশোধন করে দিচ্ছে না। ওই সিএন্ডএফ নেতা মন্তব্য করেন, ঢাকা কাস্টমস হাউজ শুধু হয়রানির সমুদ্র নয়, ঘুষ আদায়ের সমুদ্রও বটে। সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এসি-ডিসি-জেসিরা ফাইল আটকে সিপাই দ্বারা ঘুষ আদায় করে ফাইলে স্বাক্ষর করছেন। রাজস্ব ও সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তারা বহিরাগত কর্তৃক ঘুষ আদায় করছে। ঢাকা কাস্টমস হাউজে এ চিত্র নিত্যদিনের। তিনি জানান, হয়রানি বন্ধে কমিশনারকে এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দাপ্তরিক চিঠি দেয়া হবে।
রফিকুল ইসলাম মোল্লা নামের একজন রাজস্ব কর্মকর্তাকে গ্রুপ-৩,৫ এবং কুরিয়ার শুল্কায়নের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অর্জুন দাস নামের একজন বহিরাগত অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে ওই রাজস্ব কর্মকর্তা রীতিমত ঘুষ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে রাজস্ব কর্মকর্তা মোল্লা জানান, কর্তৃপক্ষ আমাকে ট্রিপল দায়িত্ব দিলে আমার করার কি আছে।তিনি জানান, বহিরাগত অর্জুন দাসকে বের করে দিয়েছি।
ঘুষ না দিলে সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ- আমদানিকারকদের পণ্য খালাসে হয়রানি করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ। ঘুষ নিয়ে ২৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাকি দিয়ে পণ্য খালাসের দায়ে গ্রুপ-৩-এর ২ জন সহকারি রাজস্ব ও ১ রাজস্ব কর্মকর্তার নামে বিভাগীয় মামলা হয়েছে, মামলা এনবিআর তদন্ত করছে। সহকারি কমিশনার মুনমুন আকতার দীনার সময়ে এ ঘটনা ঘটে। কিন্ত এসি মুনমুনকে জবাবদিতিার আওতায় আনা হয়নি, তাকে প্রাইজ পোস্টিং দেয়া হয়েছে।
ছাড়লো কুরিয়ার ধরলো এডিসি : ১৩ লাখ টাকার রাজস্ব ফাকি দিয়ে গেট কন্টাক্টে পণ্য ছেড়ে দেয় কাস্টমস কুরিয়ার শুল্কায়ন। আলামিন নামের সিএন্ডএফ নামদারি যিনি সিএন্ডএফ লাইসেন্স ভাড়া করে চলেন তার আশকোনার ঢেয়ার এডিসি মাহবুবুর রহমান অভিযান চালিয়ে সেই পণ্য উদ্ধার করে তা জব্দ করেন। এ ঘটনায় ফোজধারি আইনে মামলা হয়নি, গ্রেফতার করা হয়নি আলামিন নামের ওই সিএন্ডএফ ভাড়াটিয়াকে।
খাচা যখন সিএন্ডএফ : কাস্টমস আইনের তোয়াক্কা না করে কুরিয়ার শুল্কায়নে ডিএইচএল খাচাসহ বিভিন্ন খাচা নিজেরাই সিএন্ডএফগিরি করছে। পেপারস সো করছে এক সিএন্ডএফ পণ্য নিয়ে যাচ্ছে আরেক সিএন্ডএফ, এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে কুরিয়ার শুল্কায়নে। এ নিয়ে সালিস হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান।
ডিএইচএল খাচা থেকে এ সব পণ্য বের হয়ে যাচ্ছে, কি যাচ্ছে তা পণ্য খালাসের সময় পরিক্ষা করলেই থলের বিড়াল বের হবে। সেসালের নামে বস্তায় বস্তায় রাজস্ব ফাকি দিয়ে পণ্য খালাস দেয়া হয়ে থাকে বলে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা জানান। গেট কন্টাক্টে এসব হয়ে থাকে। এসি দীনা বসে বসে তা যেন অবলোকন করে থাকেন কিন্ত এ্যাকশনে যান না বলে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা জানান।
ইতিপূর্বে ডিএইচএল খাচা থেকে স্বর্ন পাচারের সময় ম্যানেজার পরিমল গ্রেফতার হয়।৬ কাস্টমস কর্মকর্তাকে মারধর করে ৩০ কোটি টাকার পণ্য ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজস্ব কর্মকর্তা শাজাহান বাদি হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলার নায়করা এখনও বহাল।ক্ষমতাসীন দলের একটি অংগ সংগঠনের নামের পরিচয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়-যা গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়।
এ দিকেহজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্তৃক ১৫ কেজি স্বর্ণসহ গ্রেপ্তারকৃত যাত্রি লুৎফর রহমানের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত। ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিক শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই তাজউদ্দিন আহম্মেদ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।আসামির পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত ১১টায় দুবাই থেকে এমিরেটসের ফ্লাইটে আসা লুৎফর রহমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকানো অবস্থায় ১৩০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ১৫ কেজি এবং আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। লুৎফর রহমানের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। তার বয়স আনুমানিক ৫৩।
