একুশে বার্তা প্রতিবেদন : তফসিল ঘোষণার পরই বদলে গেছেছে চিত্র। ভোটের হাওয়া ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এ হাওয়ায় ঐক্যফ্রন্ট পাল তোলার পর উৎসব চারদিকে। নানা শঙ্কা, প্রশ্ন মাথায় রেখেই এগুচ্ছে সম্ভাব্য জোট ও প্রার্থীরা। যাদের নিয়ে ভোট সেই ভোটাররাও বসে নেই। দৃষ্টি রাখছেন চারদিকে। কী হচ্ছে? কী হবে? এমন প্রশ্নের মধ্যেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। পাড়ায়- মহল্লায় নৌকা স্লোগানে মুখরিত হচ্ছে এখনই। ভিআইপি এ আসনে চারজন অব. সামরিক কর্মকর্তাসহ প্রায় একডজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী। মাঠে নেই বিএনপি, মাঠ দখলে আ’লীগের, বিএনএফ-বিএনএ গুরু-শিষ্য এ আসনের জন্য মহাজোটে দেনদরবার করছেন, শেষ পর্যন্ত কার কপালে আছে এ আসনটি তা এখই বলা যাচ্ছে না। তবে মহাজোটের শরিক এরশাদই এ আসনে লড়বেন- এমনটাই জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে।
ধানের শীষ স্লোগান কোথাও শোনা না গেলেও কর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাঠে। এমনই অবস্থা ঢাকা-১৭ আসনের। এ আসনটি রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত। দেশের কূটনীতিক পাড়া এই এলাকার ভেতরেই। তাই ভিআইপি আসন হিসেবেই পরিচিত এ আসনটি। এ আসনের আওতায় আরো রয়েছে ভাষানটেক, বালুঘাট ও মানিকদী, ধামালকোট, লালসরাই, বাইগারটেক ও আলবর্দীরটেক। রয়েছে রাজধানীর সব থেকে বড় বস্তি কড়াইলসহ তিনটি বস্তি। যাদের অধিকাংশ নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রথমে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম এমপি হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনের এমপি নির্বাচিত হন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আর সর্বশেষ ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হন। এবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই আসনটিকে ছাড় দিতে নারাজ।
সরজমিন দেখা গেছে, একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকা। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা। এ আসনে যারা ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে পূর্ব থেকেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে এসেছেন তাদের বেশির ভাগই রয়েছেন আলোচনায়। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এগিয়ে। পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টি (জাপা)’র প্রেসিডেন্ট এবং বিএনএফ প্রধান। এমনকি ছোট দলগুলোও। তবে বিএনপি ও তাদের জোটের কাউকেই এখনো প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি। কিন্তু লোকমুখে তাদের নাম বলাবলি হচ্ছে। ঢাকা-১৭ আসন যদি আওয়ামী লীগ জোটকে ছেড়ে দেয় তাহলে মহাজোটের প্রার্থী হবেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আর না ছাড়লেও জাপা থেকে তার প্রার্থী হওয়া প্রায় নিশ্চিত। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে এ এলাকায় যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন- কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের অর্থ সম্পাদক মো. ওয়াকিল উদ্দিন আহমেদ, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ কাদের খান, বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) দেলোয়ার এইচ খান, বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জসিমউদ্দিন ও সাবেক এমপি এবং অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। এ ছাড়া প্রচারণায় না দেখা গেলেও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানের নামও শোনা যাচ্ছে। আর বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে না নামলেও এলাকার ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী। এ ছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলামের নামও আলোচনায় রয়েছে। ওদিকে ফ্যাশন হাউজ ভাসাবির মালিক কামার জামান বিএনপির মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর বাইরে বিএনপি জোটের মধ্যে ২০০৮ সালে নিজ দলের হয়ে নির্বাচন করা কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, বীরপ্রতীকের নামও শোনা যাচ্ছে প্রার্থী হিসেবে। বিএনপি জোট থেকে তাকে মনোনয়ন দিতে পারেন বলে এলাকার অনেক ভোটার মনে করেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে বিএনএফ প্রধান আবুল কালাম আজাদ এমপি হলেও এবার আওয়ামী লীগ তাকে সমর্থন দেবে না বলেই মনে করেন এলাকাবাসী। সেক্ষেত্রে তিনি হয়তো একক নির্বাচন করবেন। এর বাইরে বিএনপি থেকে বের হয়ে যাওয়া সাবেক মন্ত্রী ও বিএনএ প্রধান নাজমুল হুদা এ আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন। চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন থেকে মো. আমিনুল হক তালুকদার, এরশাদের একসময়ের উপদেষ্টা ও জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর প্রতিষ্ঠাতা ববি হাজ্জাজও জাকের পার্টির রাশিদুল হক পোস্টারিং করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী বলেন, ঢাকা-১৭ আসনটি বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কূটনৈতিক এলাকা রয়েছে। এখানে শুধু আওয়ামী লীগ, জাপা, বিএনএফের প্রার্থীই রয়েছে প্রচারণায়। তারা মিছিল-মিটিং করতে পারলেও আমাদের সে সুযোগ দেয়া হয়নি। এ কারণে আমাদের মাঠের প্রচারণায় তেমন দেখা যায়নি। তবে আসনটির সব এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।
