শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
দক্ষিণখানে তোফাজ্জল চেয়ারম্যানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী খুন, গ্রেপ্তার ১, দায় স্বীকার

স্টাফ রিপোর্টার :  দক্ষিণখানের তোফাজ্জল চেয়ারম্যানের বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী হত্যার ঘটনায় ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃত  যুবকের নাম-এস এম ওয়াহিদ হোসেন ওরফে পুলক।

ডিবি বলছে, পুলকের বাবা ছোটবেলায় মারা যাওয়ার পর চাচাদের কাছ সে বিভিন্নভাবে নিগৃহীত হতো। পরে বড় সন্ত্রাসী হওয়ার নেশায় নয়টি খুনের পরিকল্পনা করে। প্রথম খুন করে নিরাপত্তা কর্মী আফিল মিয়াকে। কিন্তু প্রথম খুনেই তাকে ধরা পড়তে হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী খোরশেদা খাতুন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে নেমে হত্যায় জড়িত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগ।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণখানের তোফাজ্জল চেয়ারম্যানের বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী আফিল মিয়াকে (৫৭) গত ১৮ মার্চ রাতে অজ্ঞাত আসামিরা গভীর রাতে কুপিয়ে হত্যা করে।

ডিবি প্রধান হারুন বলেন, ছোটবেলায় বাবা হারিয়ে চাচাদের হাতে নির্যাতন ও নিরাপত্তা কর্মীর হাতে চড় থাপ্পড় খেতো। ফলে তার মধ্যে একটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়া তার ভেতরে একটি বিকৃত ইচ্ছার জন্ম হয়। দক্ষিণখানসহ উত্তরা এলাকার ত্রাস সৃষ্টি করতে সিরিয়াল কিলিংয়ের পরিকল্পনা করে। তার টার্গেট ছিল ৯টা হত্যা করা। যার প্রথমটি হলো নিরাপত্তা কর্মী আফিল মিয়া। সে যদি হত্যা করতে পারে তাহলে সন্ত্রাসী হিসেবে মানুষ চিনবে। বডি গার্ড থাকবে। তার কথায় মানুষ উঠবে বসবে। অর্থাৎ রসু খাঁ, এরশাদ শিকদারের মতো বড় সন্ত্রাসী হওয়ার ইচ্ছা ছিলো তার। এই কথা তার মা কেও বলেছে।

অতিরিক্ত কমিশনার হারুন বলেন, নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করে পুলক। এরপর তাকে হত্যা করে। আর ইয়াবা সেবনের বিষয় পুলক পুলিশকে বলেছে, ইয়াবা সেবন করলে যে পিনিক হয়, মানুষ হত্যা করে তার চেয়ে বেশি পিনিক পেয়েছি। আসলে তার ডন হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করায় তার এই স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেলো।

আসামি পুলক হত্যার বিষয়ে নিজের দায় স্বীকার করেছে। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার পুলক এসএসসি পাস। বাবা মারা যাওয়ায় সে দক্ষিণখানে তার মামার বাসায় থাকত।

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।