নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে ‘জনগণ হতাশ’ হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে নয়- দেশ দুর্নীতির মহাসড়কে। তিনি বলেন , প্রধানমন্ত্রী জাতিকে আরেক দফা সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচন নিয়ে কোনো রকম নৈরাজ্য সহ্য হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী হুমকির সুরে কথা বলেছেন।
সরকারের চার বছর পূর্তিতে ১২ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এই ভাষণের পর রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন। ১৩ জানুয়ারি শনিবার বিকেল তিনটায় বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশে এখন রাজনৈতিক সংকট চলছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কীভাবে নির্বাচন অর্থবহ করা যায়, তা নিয়ে কিছু বলেননি। দুঃখজনকভাবে তাঁর বক্তব্যে সংকট নিরসনের কোনো লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সত্যতার মিল নেই।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৫ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে যে সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার, তার আয়োজনে সরকার আন্তরিক নয়। এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনগণ আশাহত হয়েছে।
দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে—প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রকৃতপক্ষে দেশ দুর্নীতির মহাসড়কে আছে। উন্নয়নের নামে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের অবস্থার পরিবর্তনের কথা বলেছেন। কিন্তু বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের কথা বলায় সে সংকট রয়ে গেল। দেশের মানুষ অর্থবহ নির্বাচন দেখতে চায়। তাঁর বক্তব্যে সমঝোতার ইঙ্গিত দেখা গেল না। এটা হতাশাজনক। মানুষ এ অন্যায় সহ্য করবে না।
নির্বাচন নিয়ে কোনো রকম নৈরাজ্য সহ্য হবে না—প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এক ধরনের হুমকি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি হুমকির সুরে এ কথা বলেছেন। আমরা বলতে চাই, নৈরাজ্য বিরোধী দল সৃষ্টি করে না। নৈরাজ্য সরকার করে। বিগত সময়ে তারাই নৈরাজ্য করেছিল, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।’
