বুধবার, ১৯ Jun ২০২৪, ১০:১৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
বাজেট : স্মার্ট বাংলাদেশ অর্জনের ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক : মোবাইল ব্যবহারে বাড়ছে খরচ

ডেক্স রিপোর্ট : জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যে এ বাজেট ঘোষণা করেন তিনি। বাজেটে মোবাইল, টেলিফোন সেট বা সেলুলার ফোন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও সংযোজনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘অপটিক্যাল ফাইবার কেবল’-এর উৎপাদন পর্যায়ে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অব্যাহতির মেয়াদ তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। তবে ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) সেবাকে কর অব্যাহতি সুবিধার বাইরে রাখা এবং মোবাইলের সিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবায় সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বৃদ্ধিরও প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। একই সঙ্গে সিম সরবরাহে মূসকের পরিমাণ ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাজেটকে সাধুবাদ জানালেও টেলিযোগাযোগ খাতে কর বৃদ্ধির বিষয়টিকে স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্পের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত শুল্ক টেলিকম শিল্প ও গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা বলেও দাবি তাদের।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোবাইল হ্যান্ডসেট স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ও সংযোজনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা এক বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের উৎপাদনের পর্যায়ে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত মূসক অব্যাহতি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। তবে এনটিটিএন সেবাকে কর অব্যাহতির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে দেশের প্রত্যন্ত ও তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার খরচ বাড়বে বলে মনে করছে এনটিটিএন অপারেটররা। স্মার্ট বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতি ধীর হবে দাবি করে এনটিটিএন অপারেটর ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ গভর্নমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার আব্বাস ফারুক কালবেলাকে বলেন, ১৫ বছর কর অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেই এনটিটিএন অপারেটরগুলো ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এখন সেই সুবিধা উঠিয়ে নেওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে স্মার্ট বাংলাদেশে। অপারেটরদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেলে বিনিয়োগ ধীরগতি হবে এবং প্রান্তিক গ্রাহককে এই মূল্য দিতে হবে।

অন্যদিকে সিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে দেওয়া সেবায় সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এতে করে মোবাইল টকটাইম, মোবাইল ইন্টারনেট, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভ্যাস), মোবাইলের ব্যালেন্স ব্যবহার করে চাকরির আবেদনের ফি দেওয়ার মতো সেবার ব্যয় বাড়বে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ অর্জিত হবে না। পাশাপাশি বিষয়টি স্মার্ট বাংলাদেশ অর্জনের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।

প্রস্তাবিত করারোপের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করে ৭১ টাকা ৯৪ পয়সার সেবা পাবে। যার ফলে গ্রাহকরা কম পরিমাণ সেবা ভোগ করবে যেখানে অপারেটররা মূল্যবৃদ্ধি না করলেও দিন শেষে খরচ বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে একটি সিম কার্ড সরবরাহে বর্তমানে ২০০ টাকা মূসক দিতে হয়। কিন্তু পরিমাণ ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালবেলাকে বলেন, এ ধরনের বাজেট কেন করা হলো, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। যেখানে সরকারের ২০৪১ সালের মধ্যে শতভাগ মানুষকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে সিম ট্যাক্স ও সেবার ক্ষেত্রে কর বৃদ্ধির কারণে সেবার বাইরে থাকা নাগরিকদের সংযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে।

মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরগুলোর সংগঠন এমটবের পক্ষ থেকে কালবেলাকে বলা হয়, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ গ্রাহকরা মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে আর্থিক চাপে পড়বে। ফলশ্রুতিতে মোবাইলের ব্যবহার সংকুচিত হয়ে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ও সরকারের রাজস্ব আহরণ হ্রাস পাবে। তাই আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার এবং আমাদের পক্ষ থেকে প্রেরিত বাজেট সুপারিশমালা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছি।

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।