ডেস্ক রিপোর্ট : পৌনে দুই কোটি মানুষের এই মেগাসিটিতে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৪৩তম প্রতিষ্ঠা দিবস আজ। ১৯৭৬ সালে ১২টি থানা আর মাত্র ৬ হাজার পুলিশ (জনবল) নিয়ে যাত্রা করা ডিএমপির বর্তমান থানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ এ। বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটের এখন জনবল প্রায় ৩৫ হাজার। পুলিশ বাহিনী আধুনিকায়নে ও সমস্যা সমাধানে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। থানা ও পুলিশের সংখ্যা বাড়লেও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে জনমনে। অপরদিকে এখনো বাসস্থান, চিকিৎসা সুবিধাসহ নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জননিরাপত্তা ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি কর্তব্যরত সাধারণ পুলিশ সদস্যদের।
ডিএমপির সদস্যদের এ ধরনের নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার উদযাপিত হচ্ছে ৪৩তম প্রতিষ্ঠা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার ৩ ফেব্রুয়ারি রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
জানা যায়, ১৯৭৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ১২টি থানা নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রা শুরু হয়। নাগরিক জীবনে পুলিশের আধুনিক সেবা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ডিএমপি প্রতিষ্ঠিত হয়। ধীরে ধীরে মহানগর পুলিশের এলাকা বাড়তে থাকে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে থানাগুলোও ভাগ করা হয়। ২০০৬ সালে ডিএমপির থানা সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩টি। এর লোকবল ছিল ২৩ হাজার ৪শ’। বর্তমানে ডিএমপিতে ৪৯টি থানা। এ ছাড়া প্রস্তাবিত হাতিরঝিল থানা রয়েছে।
ডিএমপির এসব থানায় সাড়ে ৩৪ হাজার পুলিশ কর্মরত রয়েছেন। একজন পুলিশ কমিশনার, ৬ জন অতিরিক্ত কমিশনার, ১১ জন যুগ্ম কমিশনার, ৪১ জন উপকমিশনার ও ৭৩ জন অতিরিক্ত উপকমিশনার কর্মরত রয়েছেন। মোট পুলিশের ৯০ ভাগই হলেন কনস্টেবল। প্রায় ৩০ হাজার পুলিশ কনস্টেবলের প্রায় সবাইকে চরম দুর্ভোগ আর অনিশ্চিয়তার মধ্য দিয়ে ডিএমপিতে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত গুটিকয়েক অসাধু পুলিশ সদস্য নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। অনেক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশের পরও নানাভাবে সাধারণ মানুষ কোনো সমস্যায় পড়ে থানায় গেলে সহযোগিতা তো করেন না। উল্টো নাজেহাল করেন। থানায় মামলা ও জিডি করতে গেলে সেখানে পুলিশি ঝামেলার কারণে অনেকেই থানায় যেতে চান না। ছোটখাট ঘটনাও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা এড়িয়ে যান। খুন, ডাকাতি ছাড়া ছোটখাট ঘটনায় অনেকে থানায় যেতেও চান না।
দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতি বছর ঢাকা মহানগর পুলিশের অনেকের বিরুদ্ধে নানা অপরাধে লিখিত অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কোনো ব্যক্তির অপরাধের জন্য ডিএমপি প্রশাসন দায়ী থাকবে না। ভবিষ্যতেও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতি বছর পুলিশের অপরাধের জন্য পুলিশের বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এর আগে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপরও মামলাও দায়ের করা হয়। আবার অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে মামলা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রগুলো জানায়, বর্তমান সরকারের আমলে জনগণের কাক্সিক্ষত প্রত্যাশা ও নির্ভরতার মূর্ত প্রতীক হিসেবে শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ, নারী ও অসহায়দের হয়রানি, নির্যাতন ও অপরাধের শিকার থেকে রক্ষার দায়িত্ব পালনে ডিএমপিতে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ঢাকা মহানগর পুলিশের সেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পুলিশের সেবার পাশাপাশি অপরাধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে চলেছেন।
ঢাকায় কর্মরত একাধিক পুলিশ সদস্য সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপিতে চলছে তীব্র আবাসিক সংকট। মাত্র ২ দশমিক ৬২ ভাগ পুলিশ সদস্য আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। ৬ হাজার কনস্টেবল রাজারবাগ পুলিশ লাইন ব্যারাক ও বিভিন্ন থানা ব্যারাকে থাকেন। বাকি ২৪ হাজার কনস্টেবল ভাড়া বাসায় থাকেন। আবাসিক সুবিধা না থাকায় তাদেরকে বেতনের একটি বড় অংশ দিয়ে ভাড়ায় থাকতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ডিএমপিতে কমিশনার থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত এই সাড়ে ৩৪ হাজার পুলিশের যাতায়াত ও ডিউটির জন্য মাত্র সাড়ে ৫শ’ গাড়ি রয়েছে। এদের মধ্যে অর্ধেকই ২০ বছরের বেশি পুরনো। পুলিশ কর্মকর্তাদের (কমিশনার থেকে সহকারী কমিশনার) জন্য যানবাহন থাকলেও থানায় ডিউটি করার জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি নেই। বেশি পুরনো ও ভাঙাচোরা গাড়ি দিয়ে টহল পুলিশকে ডিউটি করতে হয়। এই ভাঙাচোরা গাড়ি দেয়া হলেও তার সংখ্যাও অপর্যাপ্ত। এ কারণে টহল পুলিশের ডিউটির জন্য পুলিশকেই বেসরকারি পর্যায়ের গাড়ি রিক্যুইজিশন করতে হয়।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সুবিধা নেই বললেই চলে। পদস্থ কর্মকর্তারা তাদের পরিবারের চিকিৎসার জন্য বেসরকারিভাবে নিজ খরচে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করলেও কনস্টেবল থেকে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সেবায় এক ধরনের নিগৃহীত হতে হয়। এদের পরিবারের চিকিৎসা সেবার জন্য নির্ভর করতে হয় রাজারবাগ পুলিশ কেন্দ্রীয় হাসপাতালের ওপর।
প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানক্রম: আজ শনিবার বেলা পৌনে তিনটায় মিন্টো রোড ডিএমপি সদর দফতর থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র্যালি। বেলা পৌনে চারটায় রাজারবাগে প্রতিষ্ঠা দিবসের উদ্বোধন, চারটায় ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, বিকেল সাড়ে চারটায় ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য, পরেই সুধীজনের প্রতিক্রিয়া, সোয়া পাঁচটায় আপ্যাায়ন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাত ১০টায় জমকালো ফায়ার ওয়ার্কস ও লেজার শো। মানবকণ্ঠ
